কুমিল্লাজুড়ে মাদকের ভয়াবহ থাবা, ২০০ হটস্পটে চলে বেচাকেনা
কুমিল্লার সীমান্ত দিয়ে দেদারছে ঢুকছে মাদক। পরে ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। জেলার ১৮টি থানায় অন্তত ২০০টি হটস্পটে চলছে মাদক কেনাবেচা। সীমান্তের অর্ধশতাধিক পথ ব্যবহৃত…
রাশিয়ার হামলার নতুন কৌশলের জবাব দিতে দেশটির তেল শোধনাগার ও জ্বালানি খাতের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তবে বেসামরিক মানুষ ও বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে নির্বিচারে হামলা চালানো হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, শীত মৌসুমের আগে ইউক্রেনের বেসামরিক স্থাপনায় হামলার পরিধি বাড়ানোর জন্য রাশিয়া নতুন সামরিক নীতি গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জারি করা কিছু নথি ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থার হাতে এসেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, এসব নথিতে অবকাঠামো, সরবরাহব্যবস্থা, সড়ক, স্কুল ও হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার অনুমোদনের কথা রয়েছে। তার দাবি, এর অন্যতম উদ্দেশ্য হলো ইউক্রেনের মানুষকে রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহর ছেড়ে যেতে বাধ্য করা।
তবে ইউক্রেনের বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে রাশিয়া। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে তারা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাবে। দুই দেশই বেসামরিক মানুষকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্য করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া যদি ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বাড়ায়, তাহলে ইউক্রেনও রাশিয়ার জ্বালানি খাতকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাবে। বিশেষ করে রাশিয়ার যুদ্ধের অর্থায়নে ভূমিকা রাখা তেল শোধনাগার ও অন্যান্য জ্বালানি স্থাপনা ইউক্রেনের হামলার লক্ষ্য হবে বলে জানান তিনি।
গত এক সপ্তাহে কিয়েভে রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বেড়েছে। এসব হামলায় জ্বালানি ও টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো, সড়ক এবং রেল যোগাযোগব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেন। এমনকি প্রথমবারের মতো কিয়েভের পূর্ব ও পশ্চিম অংশকে যুক্ত করা দিনিপ্রো নদীর ওপরের সেতুগুলোতেও হামলা হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে রাশিয়ার হামলার কৌশল পরিবর্তনের জবাব দিতে ইউক্রেনও নিজেদের কৌশল বদলাবে বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, ইউক্রেন বেসামরিক স্থাপনায় নির্বিচারে হামলা চালাবে না, বরং রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনা ও অর্থায়নের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করা হবে।
এদিকে পূর্ব ইউক্রেনের দনবাস অঞ্চলে ইউক্রেনের পাল্টা অভিযানও চলছে বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি। ‘ভিভালদি’ নামে ওই অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৪০ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুনর্দখল করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
দনবাসের পুরো অঞ্চল নিয়ন্ত্রণে নেওয়াকে রাশিয়া সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির অন্যতম শর্ত হিসেবে বিবেচনা করছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কয়েক মাস ধরে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা পুনরায় শুরু করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এর আগে গত মাসে রাশিয়ার তেল স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে ইউক্রেনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি ছিল, রাশিয়ার তেল স্থাপনায় ইউক্রেনের হামলার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের দাম বেড়ে যাচ্ছে।
তবে জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়া শান্তি আলোচনা বা জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করার বিষয়ে আগ্রহী, এমন কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত তিনি পাননি। তার মতে, রাশিয়া যদি হামলার কৌশল পরিবর্তন করে, তাহলে ইউক্রেনও তার জবাব দিতে নিজেদের পাল্টা হামলা আরও জোরদার করবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au