আসন্ন বড় খাদ্য সংকটের জন্য কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ?
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সতর্ক করে বলেছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বিশ্ব বড় ধরনের খাদ্য সংকটের মুখে পড়তে পারে। যুদ্ধ, জ্বালানি ও সার সরবরাহে চাপ,…
ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে বিধ্বস্ত করার চেষ্টার অভিযোগ ওঠা সহকারী পাইলট হামাম আল-হামামির অস্ট্রেলিয়া-যোগ খতিয়ে দেখছে দেশটির ফেডারেল পুলিশ। অস্ট্রেলিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, হামামি অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানকালে কী করেছিলেন এবং তার সঙ্গে কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর যোগাযোগ ছিল কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভিক্টোরিয়া যৌথ সন্ত্রাসবিরোধী তদন্ত দল বিষয়টি তদন্ত করছে। এই দলে অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পুলিশ, ভিক্টোরিয়া পুলিশ এবং অস্ট্রেলিয়ান সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স অর্গানাইজেশন রয়েছে। তদন্তের উপযুক্ত সময়ে এ বিষয়ে আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
হামামির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ওই বিমানে তিনি ককপিটে থাকা একটি ‘ক্র্যাশ অ্যাক্স’ দিয়ে প্রধান পাইলট স্মিত মাচ্ছারের ওপর হামলা করেন এবং পরে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। হামলার পর বিমানটি মাত্র ২৯ সেকেন্ডে প্রায় ১৪ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। একপর্যায়ে যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা ককপিটে ঢুকে হামামিকে নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে সহায়তা করেন।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের হাতে আসা হামামির মুছে ফেলা লিংকডইন প্রোফাইলের তথ্য অনুযায়ী, পাইলট হওয়ার আগে তিনি অস্ট্রেলিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকৌশল বিষয়ে পড়াশোনা করেছিলেন। মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ২০১৪ সালে হামামি অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার জন্য শিক্ষার্থী ভিসা পেয়েছিলেন। পরে তিনি অস্ট্রেলিয়া ছেড়ে গেলে ২০১৯ সালে ওই ভিসার মেয়াদ শেষ হয়।
হামামির ওই অনলাইন প্রোফাইলে ইংল্যান্ডের বাকিংহামশায়ার নিউ ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনার তথ্যও ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়টির একটি সূত্র জানিয়েছে, একই নামের একজন ব্যক্তি সেখানে তিন বছরের দূরশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করেন এবং ২০২৩ সালে বিমান পরিচালনা ব্যবস্থাপনায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
তার কর্মজীবন নিয়েও নতুন তথ্য সামনে এসেছে। মুছে ফেলা অনলাইন প্রোফাইল অনুযায়ী, হামামি প্রায় সাত বছর ওমান এয়ারে কাজ করেছিলেন এবং ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেখানে কর্মরত ছিলেন। এরপর ২০২৫ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত মরক্কোর বিমান সংস্থা রয়্যাল এয়ার মারকে কাজ করার কথা উল্লেখ ছিল। তবে ওই প্রোফাইলে ফ্লাইদুবাইয়ে তার চাকরির কোনো তথ্য ছিল না।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামামি ওমান এয়ারে পাইলট হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। পরে তার মধ্যে উগ্র ইসলামপন্থী মতাদর্শের প্রবণতা তৈরি হয়েছে বলে উদ্বেগ দেখা দিলে তাকে পাইলটের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দাপ্তরিক কাজে স্থানান্তর করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, ফ্লাইদুবাই তাকে নিয়োগ দেওয়ার আগে ওমান সরকারের সঙ্গে তার বিষয়ে যথাযথ নিরাপত্তা যাচাই করেনি।
এদিকে হামামির পুরোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মকাণ্ডও তদন্তের আওতায় এসেছে। সিএনএনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার মুছে ফেলা এক্স অ্যাকাউন্টে ধর্মীয়ভাবে কট্টর এবং নারীবিদ্বেষী মতামতের প্রকাশ পাওয়া যায়।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেওয়া একটি পোস্টে হামামি দাবি করেছিলেন, তার জন্য পাত্রী খুঁজতে গিয়ে তার মা সমস্যায় পড়েছিলেন। তিনি এমন একজন স্ত্রী চেয়েছিলেন, যিনি নিকাব পরবেন এবং বিয়ের পর চাকরি করবেন না। একই বছরের জানুয়ারিতে দেওয়া আরেকটি পোস্টে তিনি নারী ও পুরুষের মিশ্র কর্মপরিবেশের সমালোচনা করেন এবং দাবি করেন, এ ধরনের পরিবেশ নারীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
বিমানটিতে হামলার কয়েক ঘণ্টা পর হামামির লিংকডইন অ্যাকাউন্ট থেকেও দুটি পোস্ট প্রকাশিত হয় বলে জানিয়েছে সিএনএন। তবে পোস্ট দুটি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল কি না কিংবা হামামি নিজে সেগুলো প্রকাশ করেছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এর মধ্যে একটি পোস্টে দুবাইয়ে ইসরায়েলি বিমান সংস্থা এল আলের কয়েকটি বিমানের ভিডিও ছিল। ভিডিওটির শেষে আল-কায়েদার সাবেক শীর্ষ নেতা আয়মান আল-জাওয়াহিরির একটি ছবি দেখা যায়। জাওয়াহিরি ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় নিহত হন। অন্য পোস্টে ইসলামের তিন পবিত্র স্থানকে দেখানো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি একটি ছবি ছিল।
ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই বিমানে হামলার বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন, বিমানের সহকারী পাইলট তার সহকর্মী প্রধান পাইলটের ওপর একটি ‘ক্র্যাশ অ্যাক্স’ দিয়ে হামলা করেন। এরপর তিনি বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের চেষ্টা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
বিমানের ককপিটে থাকা ক্র্যাশ অ্যাক্স সাধারণত আগুন বা দুর্ঘটনার সময় ধাতব অংশ ভেঙে বের হওয়ার কাজে ব্যবহার করা হয়। অধিকাংশ যাত্রীবাহী বিমানের ককপিটে এ ধরনের সরঞ্জাম রাখা বাধ্যতামূলক।
প্রধান পাইলট স্মিত মাচ্ছারের ভাষ্য অনুযায়ী, বিমানটি স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। একপর্যায়ে হামামি তাকে নামাজ পড়ার কথা বলেন। কয়েক মিনিট পর হঠাৎ তার মাথার পেছনে জোরালো আঘাত করা হয়।
আহত ও রক্তাক্ত অবস্থাতেও মাচ্ছার ককপিটের দরজা খোলার ব্যবস্থা করতে সক্ষম হন। এরপর যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা ককপিটে ঢুকে হামামিকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
যাত্রীদের মধ্যে ইয়ানিভ হায়ুন নামে একজন প্লাম্বার বিমানের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে এগিয়ে আসেন। তিনি বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেটিকে স্থিতিশীল করার চেষ্টা করেন। পরে অন্য ক্রু সদস্যরা বিমানের নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব নেন।
দাঁতের চিকিৎসক শোতা মুসায়েভও আহত প্রধান পাইলটকে সহায়তা করতে এগিয়ে আসেন এবং হামামিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করেন। তিনি হেডফোনের তার ও প্লাস্টিকের বন্ধনী ব্যবহার করে হামামিকে বেঁধে ফেলেন বলে জানিয়েছেন।
মুসায়েভ সিএনএনকে জানান, প্রধান পাইলটের মাথা ও হাতে গুরুতর জখম হয়েছিল এবং তিনি প্রচুর রক্ত হারিয়েছিলেন। দ্রুত চিকিৎসা না পেলে তার মৃত্যু হতে পারত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইসরায়েলি এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, হামামি ফ্লাইদুবাইয়ে প্রায় আট মাস কাজ করেছিলেন। বৃহস্পতিবার তাকে সৌদি আরব থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি তদন্তকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন বলে জানা গেছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে আরও বলা হয়েছে, হামামি জিজ্ঞাসাবাদে ইসরায়েলে বিমানটি বিধ্বস্ত করাই তার উদ্দেশ্য ছিল বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং এর পেছনের কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।
ঘটনার পর প্রধান পাইলট স্মিত মাচ্ছারকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের পর তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে জানানো হয়েছে।
এখন তদন্তকারীরা হামামির অতীত কর্মকাণ্ড, অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানকালে তার যোগাযোগ, উগ্রপন্থী কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্ভাব্য সম্পর্ক এবং ফ্লাইদুবাইয়ে নিয়োগের আগে তার নিরাপত্তা যাচাই যথাযথভাবে হয়েছিল কি না, এসব বিষয় খতিয়ে দেখছেন।
অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পুলিশ জানিয়েছে, হামামির অস্ট্রেলিয়া-সংক্রান্ত তথ্য ও সংশ্লিষ্ট যোগাযোগের বিষয়গুলো তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে না যাওয়ার কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au