আসন্ন বড় খাদ্য সংকটের জন্য কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ?
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সতর্ক করে বলেছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বিশ্ব বড় ধরনের খাদ্য সংকটের মুখে পড়তে পারে। যুদ্ধ, জ্বালানি ও সার সরবরাহে চাপ,…
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি এখনো ঘোষণা হয়নি। বর্তমান নেতৃত্বের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পেরিয়ে গেছে প্রায় সাত মাস। বিদায়ী কমিটির শীর্ষ নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেওয়ার পরও নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা না হওয়ায় অপেক্ষা বেড়েছে। বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে, নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
কমিটি ঘোষণায় দেরির পেছনে কয়েকটি বিষয় কাজ করছে বলে জানা গেছে। পদপ্রত্যাশীদের রাজনৈতিক অতীত খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয়ও যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। এসব যাচাই শেষ করেই নতুন নেতৃত্ব চূড়ান্ত করতে চায় বিএনপি।
এদিকে কমিটি না হওয়ায় পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। অনেকেই গণমাধ্যমে কথা বলতে চাইছেন না। সম্ভাব্য কমিটিতে কারা থাকছেন, তা নিয়ে দলের ভেতরে চলছে নানা আলোচনা। কেউ কেউ নিজেদের সাংগঠনিক অবস্থান তুলে ধরছেন। আবার অনেকে কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল নেতাদের সমর্থন আদায়ে তৎপর রয়েছেন।
সূত্রের দাবি, পদপ্রত্যাশীদের একটি বড় অংশ নানা অভিযোগের কারণে প্রাথমিক তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। যাদের নাম এখন বিবেচনায় রয়েছে, তাদের নিয়েও চলছে শেষ দফার যাচাই। বিশেষ করে ছাত্রলীগ বা ছাত্রশিবিরের সঙ্গে অতীতে সম্পৃক্ত ছিলেন এমন কেউ যাতে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসতে না পারেন, সে বিষয়ে সতর্ক বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের কিছু নেতাকে নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। বিএনপি সরকারে থাকায় নতুন করে অনুপ্রবেশের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের পরিচয় ব্যবহার করে অন্য রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কেউ ছাত্রদলে ঢোকার চেষ্টা করতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনে এ বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ে কয়েক ধাপে তথ্য যাচাই করা হচ্ছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। দলীয় অনুসন্ধানের পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। প্রার্থীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সাংগঠনিক ভূমিকা ও অতীতের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা দেখা হচ্ছে। ব্যক্তিগত ভাবমূর্তির বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। জেলা বিএনপির নেতাদের কাছ থেকেও সম্ভাব্য নেতাদের বিষয়ে তথ্য নেওয়া হচ্ছে।
তবে যাচাই-বাছাইয়ের বড় অংশ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। দুই সম্ভাব্য শীর্ষ নেতার পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও আলোচনা রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের ভিন্ন রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। এ কারণে তাদের কেউ কেউ শেষ পর্যন্ত কমিটি থেকে বাদ পড়তে পারেন বলে দলের ভেতরে আলোচনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিএনপির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গত ১৩ আগস্ট রাতে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ছাত্রদলের বিদায়ী শীর্ষ পাঁচ নেতার বৈঠক হয়। গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির, সিনিয়র সহসভাপতি আবু আফসান মো. ইয়াহিয়া, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম ও সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান ছিলেন।
বৈঠকে নতুন নেতৃত্ব গঠনের বিষয়েও আলোচনা হয়। বিদায়ী নেতাদের ভবিষ্যতে বিএনপিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসার আশ্বাস দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নিয়মতান্ত্রিকভাবে নতুন নেতৃত্ব তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তারেক রহমান। এর পর থেকেই ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নিয়ে নয়াপল্টন ও গুলশানকেন্দ্রিক তৎপরতা বেড়েছে। সম্ভাব্য নেতারা নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে শেষ মুহূর্তের সাংগঠনিক যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, কমিটি গঠনের সময় সংগঠনে অবদান রাখা নেতাদের মূল্যায়ন করা হয়। ছাত্রদলের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হবে না। আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত, মেধাবী, শিক্ষার্থীবান্ধব, পরিশ্রমী ও সৎ নেতাদের বেছে নেওয়া হবে। দল প্রয়োজন মনে করলেই কমিটি ঘোষণা করবে। তবে কমিটি ঘোষণায় খুব বেশি দেরি হওয়ার কারণ নেই বলেও জানান তিনি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au