এক রকেটে ১৫ স্যাটেলাইট কক্ষপথে পাঠাল দক্ষিণ কোরিয়া
নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি মহাকাশ রকেট ‘নুরি’ সফলভাবে উৎক্ষেপণের মাধ্যমে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। বুধবারের এই উৎক্ষেপণে রকেটটিতে বহন করা ১৫টি স্যাটেলাইটই সফলভাবে নির্ধারিত…
পাকিস্তান-সংশ্লিষ্ট একটি সন্দেহভাজন গুপ্তচর চক্রের সন্ধান পাওয়ার পর ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বড় ধরনের কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স অভিযান শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় ভারতীয় নৌবাহিনীর ১৩ সদস্যসহ মোট ১৮ জনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে পাকিস্তান-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে স্পর্শকাতর সামরিক ও সামুদ্রিক তথ্য সরবরাহের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ভারতের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্ধ্রপ্রদেশের কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স শাখা ‘অপারেশন ফায়ারওয়াল-২০২৬’ নামে এই অভিযান পরিচালনা করছে। ১০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে একযোগে তল্লাশি চালাতে ১২টি দল গঠন করা হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশের পাশাপাশি কেরালা, মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটকেও অভিযান চলছে।
তদন্তকারীরা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের সঙ্গে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার অপারেটিভদের কোনো যোগাযোগ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। বিশেষ করে এনক্রিপ্টেড যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে তথ্য আদান-প্রদান করা হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
তদন্তের অন্যতম কেন্দ্র ভারতের পূর্ব উপকূলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি বিশাখাপত্তনম। সেখানে ভারতীয় নৌবাহিনী ও প্রতিরক্ষা স্থাপনাসংক্রান্ত স্পর্শকাতর তথ্য সংগ্রহ করে পাকিস্তান-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে পাঠানো হয়েছে কি না, তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে। কর্মকর্তাদের সন্দেহ, গোপন সামরিক ও নৌ-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে বিদেশি গোয়েন্দা চক্রের কাছে সরবরাহ করা হয়ে থাকতে পারে।
অভিযানের সময় কয়েকজন সন্দেহভাজনের কাছ থেকে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১৮ সন্দেহভাজনের মধ্যে অন্তত দুজনের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের পক্ষে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে পুরো বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন।
এই মামলায় বিশাখাপত্তনমে ভারতীয় নৌবাহিনীর সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক চালক হিসেবে কাজ করা বেসামরিক কর্মী আন্নাম সাই বরপ্রসাদকে গ্রেফতার করেছে কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স ইউনিট। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি প্রতিরক্ষা স্থাপনাসংক্রান্ত স্পর্শকাতর তথ্য পাকিস্তান-সংশ্লিষ্ট এক অপারেটিভের কাছে পাঠিয়েছেন। এসব তথ্যের বিনিময়ে তিনি কোনো অর্থ পেয়েছিলেন কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
আন্নাম সাই বরপ্রসাদকে আদালতে হাজির করা হলে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত বিচারিক হেফাজতে পাঠানো হয়। পরে তাঁকে বিশাখাপত্তনম জেলা কারাগারে রাখা হয়েছে।
একই তদন্তে শনিবার কোয়েম্বাটোর থেকে ৩১ বছর বয়সী ভারতীয় নৌসেনা সদস্য প্রদীপ মুখার্জিকে গ্রেফতার করা হয়। ২০১৪ সালে ভারতীয় নৌবাহিনীতে যোগ দেওয়া প্রদীপ গ্রেফতারের সময় কোয়েম্বাটোরে একটি প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নিচ্ছিলেন।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, একটি হানিট্র্যাপের মাধ্যমে পাকিস্তান-সংশ্লিষ্ট অপারেটিভদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ তৈরি হয়। এরপর তিনি তাঁদের কাছে গোপন সামুদ্রিক গোয়েন্দা তথ্য ফাঁস করেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ু পুলিশের কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের কয়েক মাসের যৌথ তদন্তের পর প্রদীপ মুখার্জিকে গ্রেফতার করা হয়। ট্রানজিট ওয়ারেন্টে তাঁকে কোয়েম্বাটোর থেকে নিয়ে আসার পর আদালত ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত বিচারিক হেফাজতের নির্দেশ দেন। বর্তমানে তিনি বিজয়ওয়াড়া জেলা কারাগারে রয়েছেন।
এদিকে বাকি ১৬ সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে। তাঁদের ডিজিটাল যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন, ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, পুরো চক্রের সঙ্গে কারা জড়িত এবং কী ধরনের তথ্য বাইরে পাঠানো হয়েছে, তা জানতে ডিজিটাল যোগাযোগ ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হবে না।
সুত্রঃ টাইমস অব ইন্ডিয়া
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au