‘পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নয়’, বাংলাদেশে এসেই ব্যাগ হারিয়ে বিপাকে জার্মান পর্যটক
বাংলাদেশে প্রথমবার বেড়াতে এসে বিপাকে পড়েছেন জার্মান পর্যটক কিরিল লেন্ডার উইবার। নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের টিকিট কেনার জন্য এটিএম বুথে টাকা তুলতে যাওয়ার সময় তার…
‘বাবা, তারা আমাকে আটকে রেখেছে। তুমি এসে আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাও। না হলে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।’ বাবার সঙ্গে মোবাইল ফোনে এটাই ছিল ১৫ বছর বয়সী জান্নাতুত তাজমীনের শেষ কথা। মেয়ের কান্নাজড়িত সেই ফোন পাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় একটি ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কসংলগ্ন পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর, মানুমুড়া এলাকার একটি ফসলি জমি থেকে তাজমীনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা ধানক্ষেতে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে লালমাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত জান্নাতুত তাজমীন রেনাটা পিএলসির কুমিল্লায় কর্মরত আবদুল আলীম ও কেয়া আক্তার দম্পতির মেয়ে। তাদের গ্রামের বাড়ি যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা গ্রামে। বাবার চাকরির কারণে তাজমীন পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় বসবাস করত। সে কুমিল্লার ফরিদা বিদ্যায়তনে সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চার দিন আগে বান্ধবীর বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিল তাজমীন। পরে ওই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজারে যায় সে। সেখান থেকে বুধবার রাতে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা দেয় তারা।
পথে রাতে বাবাকে ফোন করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাজমীন জানায়, দুর্বৃত্তরা তাকে আটকে রেখেছে। দ্রুত উদ্ধার করা না হলে তাকে মেরে ফেলা হবে বলেও বাবাকে জানায় সে। তবে ঠিক কোথায় তাকে আটকে রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেনি তাজমীন। এরপর মেয়ের ফোনে একাধিকবার কল করেন আবদুল আলীম। কিন্তু আর কোনো কল রিসিভ হয়নি।
মেয়ের ফোন বন্ধ পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা দেখা দেয়। মেয়ের সন্ধানে রাতেই খোঁজাখুঁজি শুরু করেন বাবা। বৃহস্পতিবার ভোরে লালমাই থানায় গিয়ে তিনি মেয়ের মরদেহ শনাক্ত করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে ধানক্ষেতে এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে তারা পুলিশকে খবর দেন। ঘটনাস্থলের কিছুটা দূরে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং অটোরিকশাটিও নজরে নেয়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাজমীনের বাবা আবদুল আলীম বলেন, রাতে তার মেয়ে ফোন করে কাঁদতে কাঁদতে তাকে উদ্ধারের জন্য আকুতি জানিয়েছিল। কিন্তু কোথায় আছে, তা বলতে পারেনি। এরপর সকালে থানায় গিয়ে নিজের মেয়ের মরদেহ দেখতে হয়েছে তাকে।
ফরিদা বিদ্যায়তনের প্রধান শিক্ষক আবু হানিফ জানান, তাজমীন ওই বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল এবং হাজিরা খাতায় তার রোল নম্বর ছিল ৩০। তবে গত মার্চ থেকে সে অন্য একটি বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল।
লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাজমীনকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করতে পুলিশের একাধিক তদন্ত সংস্থা কাজ শুরু করেছে। হত্যার রহস্য উদঘাটনে ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া বিভিন্ন আলামতও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au