ঐতিহাসিক অস্ট্রেলিয়া সফরে তিন ইনিংস খেলে তিনটি ডাক মেরেছিলেন লিটন দাস। ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়া সফরে দুঃসময় কাটিয়ে ব্যাট হাতে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন লিটন দাস। আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের প্রথম ইনিংসে ফিফটির পর দ্বিতীয় ইনিংসেও সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন বাংলাদেশের এই ডানহাতি ব্যাটার। লিটন ও মেহেদী হাসান মিরাজের বড় জুটিতে ভর করে দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। এতে জয়ের জন্য আফগানিস্তানের লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে ৪৭৯ রান।
তৃতীয় দিন বিকেলে মাত্র ১১ রানের ব্যবধানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল বাংলাদেশ। ৬ উইকেটে ২২৩ রান নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করে সফরকারীরা। আগের দিন ৫ রানে অপরাজিত থাকা লিটনের সঙ্গে ক্রিজে যোগ দেন মিরাজ। তখনো রানের খাতা খোলেননি তিনি।
এরপর দুজন মিলে দলের রান তিনশ ছাড়িয়ে নেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের লিডও চারশ পেরিয়ে যায়। একপ্রান্ত আগলে রেখে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে যান লিটন। ৬১ বলে টেস্ট ক্যারিয়ারের টানা দ্বিতীয় এবং মোট ২২তম অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি।
দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮ রান করার সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯ হাজার রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেন লিটন। তবে সেঞ্চুরির পথে দুবার জীবন পান তিনি। কায়েস আহমেদের বলে প্রথমবার স্লিপে কামাল ক্যাচ ফেলেন। পরে কায়েস নিজেও ক্যাচ নিতে ব্যর্থ হন। ওই ঘটনায় ব্যথায় কাতরাতে দেখা যায় আফগান বোলারকে।
লিটন ও মিরাজের ব্যাটে বড় লিডের পথে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। সপ্তম উইকেটে দুজনের ১৪৯ রানের জুটি আফগানিস্তানকে ম্যাচে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয়।
১১৫ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন লিটন। তবে শতক পাওয়ার পর বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি তিনি। ১১৭ বলে ১৪টি চারের সাহায্যে ১০২ রান করে সাজঘরে ফেরেন বাংলাদেশের এই ব্যাটার।
অন্য প্রান্তে ধৈর্য ধরে ব্যাটিং করে অর্ধশতক তুলে নেন মিরাজও। ইনিংস ঘোষণা করার সময় ৯৭ বলে ৫২ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। ফলে জয়ের জন্য আফগানিস্তানের সামনে দাঁড়ায় ৪৭৯ রানের লক্ষ্য।
এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৩৪৬ রান সংগ্রহ করে। জবাবে হাসান মাহমুদ ও এবাদত হোসেনের দুর্দান্ত বোলিংয়ে আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংস থামে ২৪০ রানে।