বুধবার বড় ব্যাংকগুলোর শেয়ারের দরপতনে অস্ট্রেলিয়ার শেয়ারবাজারে সূচকের পতন হয়েছে। ছবি: ড্যামিয়ান শ, নিউজওয়্যার; ক্রিস পাভলিচ; গেটি ইমেজেস; ব্রিটা ক্যাম্পিয়ন।
অস্ট্রেলিয়ার বড় ব্যাংকগুলোর শেয়ারে ব্যাপক বিক্রির চাপ এবং স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ায় বুধবার দেশটির শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে। প্রধান সূচক এএসএক্স ২০০ কমেছে ৫৬ পয়েন্ট বা ০.৬৪ শতাংশ। দিন শেষে সূচকটি দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৭২৭ দশমিক ৯০ পয়েন্টে। একই সময়ে সর্ববৃহৎ কোম্পানিগুলোর বাইরের শেয়ারসহ বিস্তৃত সূচক অল অর্ডিনারিজ কমেছে ৫২ পয়েন্ট বা ০.৫৯ শতাংশ। সূচকটি নেমে এসেছে ৮ হাজার ৮৬৯ পয়েন্টে।
অন্যদিকে, মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলীয় ডলারের মান বেড়েছে। দিন শেষে এক অস্ট্রেলীয় ডলারের বিপরীতে পাওয়া গেছে ৭০ মার্কিন সেন্ট।
বুধবার লেনদেনে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। মোট ১১টি খাতের মধ্যে ছয়টি খাতে শেয়ারের দাম বেড়েছে। তবে সূচকে বড় প্রভাব রাখা আর্থিক ও কাঁচামাল খাতের দরপতনে সামগ্রিক বাজার নিম্নমুখী হয়েছে।
বড় চার ব্যাংকের শেয়ারে দরপতন
দিনের দরপতনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল অস্ট্রেলিয়ার চার প্রধান ব্যাংকের। কমনওয়েলথ ব্যাংকের শেয়ারদর ২.১৬ শতাংশ কমে ১৫১.১৭ অস্ট্রেলীয় ডলারে নেমেছে। ন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়া ব্যাংকের দর কমেছে ১.৭৮ শতাংশ, দাঁড়িয়েছে ৩৮.৫৫ ডলারে। ওয়েস্টপ্যাক ব্যাংকের শেয়ারদর ১.৩৪ শতাংশ কমে হয়েছে ৩৪.৬৯ ডলার। আর এএনজেড ব্যাংকের দর ০.২৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৩৮.৩০ ডলারে।
গ্লোবাল এক্স ইটিএফসের বিনিয়োগ কৌশলবিদ জাস্টিন লিন বলেন, ওয়াল স্ট্রিটে দুর্বল লেনদেনের প্রভাব অস্ট্রেলিয়ার বড় ব্যাংকগুলোর শেয়ারেও পড়েছে।
তিনি বলেন, বুধবার এএসএক্সে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে ছিল আর্থিক খাত। আগের রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকগুলোর মিশ্র আর্থিক ফলাফল, নতুন করে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা এবং সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা এ খাতে চাপ তৈরি করেছে। উচ্চ তেলের দামও মুদ্রানীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকগুলোর সর্বশেষ আর্থিক ফলাফল থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে মন্তব্য করেন লিন। তাঁর মতে, ব্যাংকগুলোর মৌলিক আর্থিক অবস্থা এখনো তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও উচ্চ সুদের হার ও স্থায়ী মূল্যস্ফীতি মুনাফা বৃদ্ধির পথে ক্রমেই বড় বাধা হয়ে উঠছে।
তিনি আরও বলেন, এ অনিশ্চয়তার প্রভাব অস্ট্রেলিয়ার আর্থিক খাতেও পড়ছে। দীর্ঘ সময় ধরে সুদের হার বেশি থাকার সম্ভাবনাও বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
খনি ও স্বর্ণ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের শেয়ারেও পতন
বড় খনি কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর কমায় এএসএক্স ২০০ সূচকের ওপর আরও চাপ তৈরি হয়েছে। বিএইচপির শেয়ারদর ০.৬৯ শতাংশ কমে ৬০.৮৬ ডলারে নেমেছে। রিও টিন্টোর দর কমেছে ০.৩২ শতাংশ, দাঁড়িয়েছে ১৬০.৪৮ ডলারে। অন্যদিকে, ফোর্টেস্কুর শেয়ারদরে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৫.৩২ ডলারে।
যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বাড়ার আশঙ্কায় স্বর্ণ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারেও দরপতন অব্যাহত ছিল। ইভোলিউশন মাইনিংয়ের শেয়ারদর ৩.১৬ শতাংশ কমে ১২.৫৫ ডলারে নেমেছে। নিউমন্টের দর কমেছে ১.৯৫ শতাংশ, দাঁড়িয়েছে ১৬৪.৫৬ ডলারে। নর্দার্ন স্টার রিসোর্সেসের শেয়ারদর ০.২৮ শতাংশ কমে হয়েছে ২৪.৯১ ডলার।
এর মধ্যে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ১৫৫ মার্কিন ডলারের কাছাকাছি লেনদেন হয়েছে। অস্ট্রেলীয় মুদ্রায় এর মূল্য প্রায় ৫ হাজার ৯৩৪ ডলার। এর আগে টানা দুই দিনের স্বল্পমেয়াদি দরপতন দেখা গিয়েছিল স্বর্ণের বাজারে।
টেলিযোগাযোগ খাতে উত্থান
বাজারের সামগ্রিক পতনের বিপরীতে টেলিযোগাযোগ খাতের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে দরবৃদ্ধি দেখা গেছে। টেলস্ট্রার শেয়ারদর ১.২৯ শতাংশ বেড়ে ৪.৭০ ডলারে উঠেছে। এর মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারে টানা দুই দিনের দরপতনের অবসান হয়েছে।
সুপারলুপের শেয়ারদর বেড়েছে ৫.৪৪ শতাংশ, দাঁড়িয়েছে ২.৫২ ডলারে। আর তুয়াসের শেয়ারদর ৩.১৮ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১.৬২ ডলার।
এদিকে, মঙ্গলবার চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারে দরপতনের পর এশিয়ার বিভিন্ন শেয়ারবাজারে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রবণতা দেখা গেছে। নিউইয়র্ক ফেডের প্রেসিডেন্ট জন উইলিয়ামসের মন্তব্যের পর এ পরিস্থিতি তৈরি হয়। তাঁর বক্তব্যের পর ব্যবসায়ীরা ধারণা করছেন, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে আর মাত্র একবার সুদের হার বাড়ানো হতে পারে। এর ফলে বন্ডের মুনাফার হার কমেছে।
গ্লেনকোরের লেনদেন শুরু, অস্টালের শেয়ারে বড় উত্থান
কোম্পানিসংক্রান্ত খবরে, অস্ট্রেলিয়ার শেয়ারবাজারে প্রথম দিনের লেনদেনে গ্লেনকোরের শেয়ারের দামে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি আগে থেকেই লন্ডন ও জোহানেসবার্গের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ছিল। বুধবার অস্ট্রেলিয়ার বাজারেও এর লেনদেন শুরু হয়।
এদিকে, প্রতিরক্ষা জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অস্টালের শেয়ারদর ১০.১৩ শতাংশ বেড়ে ৪.১৩ ডলারে উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারহোল্ডারদের জানিয়েছে, এটি অধিগ্রহণে দুটি পক্ষ আগ্রহ দেখিয়েছে।
অস্টাল জানায়, হানওয়ার জন্য যথাযথ যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি ওয়াইল্ডক্যাট ইনফ্রাস্ট্রাকচারের পক্ষ থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রস্তাব রয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
অন্যদিকে, ডমিনোজ অস্ট্রেলিয়ার শেয়ারদর ২.০১ শতাংশ কমে ২১.৪৬ ডলারে নেমেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মূল প্রতিষ্ঠানের প্রধান ইঙ্গিত দিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়ার শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যবসাটির কাছ থেকে কিছু বিদেশি বাজারের কার্যক্রম সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে তিনি আগ্রহী। এ বক্তব্যের পর প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারে দরপতন হয়।
সূত্র: নিউজ২৪.কম.এইউ