সরকার চায় ঐক্য, একটি মহল ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি: প্রধানমন্ত্রী
দেশের সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্য গড়ে তুলতে চায় সরকার। তবে সরকার যখন সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, তখন একটি মহল দেশে বিভ্রান্তি ছড়ানোর…
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি। এ বিষয়ে মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ইশরাকের দায়িত্বের আনুষ্ঠানিক অবসান হলো।
এর আগে সোমবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তাঁর পদত্যাগের ঘোষণা এবং এর পেছনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে সোমবার দিনভর আলোচনা চলে।
নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের জন্য ইশরাক পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর রাষ্ট্রপতি তা গ্রহণ করেন। এরপর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করে। সোমবার সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানিয়েছিল, ইশরাকের পদত্যাগপত্র তাদের হাতে পৌঁছেছে।
ইশরাকের পদত্যাগের ঘটনা সামনে আসে গত শনিবার গেন্ডারিয়ায় তাঁর একটি মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে। ওই দিন বিকেলে নিজের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-৬ আসনের গেন্ডারিয়ায় অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নামেন তিনি। অভিযানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ইশরাকের এভাবে অভিযানে অংশ নেওয়ার বিষয়টি বিএনপি ও সরকারের ভেতরে অসন্তোষ তৈরি করে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা যায়। এর পরদিন রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন বলে সরকারসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছিল।
তবে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর তা অস্বীকার করেন ইশরাক। এ বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হয় এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল। পরে সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। এরপর তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ এবং প্রজ্ঞাপন জারির মধ্য দিয়ে বিষয়টির আনুষ্ঠানিক নিষ্পত্তি হলো।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে বর্তমানে মন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন আহমেদ আযম খান। তাঁর সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন ইশরাক হোসেন। ইশরাকের পদত্যাগের পর মন্ত্রণালয়টিতে প্রতিমন্ত্রীর পদটি শূন্য হলো। তবে এ পদে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যার হিসাব অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ছাড়া বর্তমানে পূর্ণ মন্ত্রীর সংখ্যা ২৬ জন। প্রতিমন্ত্রী ছিলেন ২৪ জন। ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের পর প্রতিমন্ত্রীর সংখ্যা কমে দাঁড়াল ২৩ জনে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au