বাবা থমাস মার্কেলকে ঘিরে শিশু নির্যাতনসামগ্রী রাখার অভিযোগ, মুখ খুললেন মেগান
বাবা থমাস মার্কেল সিনিয়রকে ঘিরে শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও রাখার অভিযোগের তদন্ত শুরুর খবর প্রকাশ্যে আসার পর মুখ খুলেছেন ব্রিটিশ রাজপরিবারের সাবেক সদস্য…
যুক্তরাষ্ট্রের ‘মাদার অব অল বম্ব’ বা ‘সব বোমার মা’ নামে পরিচিত শক্তিশালী প্রচলিত বোমার পাল্টা হিসেবে ‘ফাদার অব অল বম্ব’ বা ‘সব বোমার বাবা’ নামে নতুন একটি অস্ত্র উন্মোচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি বুধবার এ ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত, পাল্লা, নির্ভুলতা ও বিধ্বংসী ক্ষমতা বেড়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। এমনকি মার্কিন বিমানবাহী রণতরিসহ যুদ্ধজাহাজে আঘাত হানার সক্ষমতাও ইরানের রয়েছে বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।
ইরানের সংবাদমাধ্যম ইয়ং জার্নালিস্টস ক্লাবের বরাতে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তবে নতুন অস্ত্রটির প্রকৃতি, প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য, ধ্বংসক্ষমতা কিংবা কবে এটি প্রকাশ্যে উন্মোচন করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি মোহেবি। ফলে ‘ফাদার অব অল বম্ব’ নামে ঘোষিত অস্ত্রটি প্রচলিত বোমা, ক্ষেপণাস্ত্র নাকি সম্পূর্ণ ভিন্ন কোনো অস্ত্রব্যবস্থা, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
নতুন অস্ত্র নিয়ে ইরানের ঘোষণা
আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি জানিয়েছেন, নতুন অস্ত্রটি উন্মোচনের প্রস্তুতি চলছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অস্ত্রটি প্রতিপক্ষের জন্য নতুন ধরনের সক্ষমতার পরিচয় দেবে।
তবে ঘোষণার সঙ্গে অস্ত্রটির কোনো নির্দিষ্ট মডেল, ছবি, পরীক্ষার ফলাফল কিংবা কার্যকারিতা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ইরানের এই ঘোষণাকে ঘিরে সামরিক ও প্রযুক্তিগত মহলে আগ্রহ তৈরি হলেও অস্ত্রটির প্রকৃত সক্ষমতা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য এখনো নেই।
‘ফাদার অব অল বম্ব’ নামটি যুক্তরাষ্ট্রের জিবিইউ-৪৩/বি এমওএবি বোমার নামের সঙ্গে তুলনা করেই ব্যবহার করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে নামের এই সাদৃশ্য থেকে ইরানের নতুন অস্ত্রটি একই ধরনের প্রযুক্তিতে তৈরি বা সমপরিমাণ বিধ্বংসী ক্ষমতাসম্পন্ন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দেড় গুণ বেড়েছে, দাবি আইআরজিসির
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়েও নতুন দাবি করেছেন মোহেবি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর দেশটির ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দেড় গুণ বেড়েছে।
তিনি দাবি করেন, শুধু ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা নয়, এগুলোর পাল্লা, লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার নির্ভুলতা এবং ধ্বংসক্ষমতাও উন্নত হয়েছে। এসব পরিবর্তনের ফলে ইরানের সামরিক সক্ষমতা আগের তুলনায় বেড়েছে বলে দাবি করেন আইআরজিসির এই মুখপাত্র।
তবে ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত বৃদ্ধির হিসাব কীভাবে করা হয়েছে, কোন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি ঘটেছে কিংবা সক্ষমতা বৃদ্ধির পক্ষে কী তথ্য রয়েছে, তা বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হয়নি। ফলে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।
মার্কিন বিমানবাহী রণতরিতে আঘাতের সক্ষমতার দাবি
মোহেবি আরও দাবি করেছেন, মার্কিন বিমানবাহী রণতরিসহ যুদ্ধজাহাজে আঘাত হানার সক্ষমতা ইরানের রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই সক্ষমতা পরীক্ষাও করা হয়েছে।
বিমানবাহী রণতরি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব রণতরি সাধারণত যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে পরিচালিত হয়। ফলে এ ধরনের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার দাবি আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রযুক্তিগত তথ্য, পরীক্ষার ফলাফল কিংবা স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ দেওয়া হয়নি। ফলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে আঘাত হানার সক্ষমতা সম্পর্কে মোহেবির বক্তব্যকে আপাতত ইরানি কর্মকর্তার দাবি হিসেবেই বিবেচনা করতে হচ্ছে।
ট্রাম্পের সামরিক হুমকির প্রেক্ষাপট
ইরানের নতুন অস্ত্র উন্মোচনের ঘোষণার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের জিবিইউ-৪৩/বি এমওএবি বোমা ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন।
জিবিইউ-৪৩/বি এমওএবি একটি বিশাল আকারের প্রচলিত বোমা। এর পুরো নাম Massive Ordnance Air Blast। এটি ‘মাদার অব অল বম্বস’ নামেও পরিচিত। বোমাটির ওজন প্রায় ৯ হাজার ৮০০ কেজি। শক্তিশালী বিস্ফোরণের মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটানোর উদ্দেশ্যে এটি তৈরি করা হয়েছে।
তবে এমওএবি একটি প্রচলিত বিস্ফোরক অস্ত্র, পারমাণবিক বোমা নয়। এর ব্যবহার এবং ইরানের ঘোষিত নতুন অস্ত্রের সম্ভাব্য বৈশিষ্ট্য এক করে দেখার সুযোগ নেই। একইভাবে ইরানের ‘ফাদার অব অল বম্ব’ নামের অস্ত্রটি যুক্তরাষ্ট্রের এমওএবির সমতুল্য কি না, তা নির্ধারণের মতো তথ্যও এখনো প্রকাশিত হয়নি।
অস্ত্রটির সক্ষমতা নিয়ে অনিশ্চয়তা
ইরানের ঘোষণায় নতুন অস্ত্রের নাম সামনে এলেও এর প্রকৃতি ও সক্ষমতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়ে গেছে। এটি আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য বোমা, স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র, নাকি অন্য কোনো অস্ত্রব্যবস্থা, তা স্পষ্ট নয়। অস্ত্রটির পাল্লা, বিস্ফোরক বহনক্ষমতা, লক্ষ্যবস্তুতে আঘাতের নির্ভুলতা এবং পরীক্ষার ফলাফল সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এ কারণে নতুন অস্ত্রটি যুক্তরাষ্ট্রের এমওএবির চেয়ে বেশি শক্তিশালী কি না, কিংবা এটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
ইরানের এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এল, যখন দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরোধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে। তবে নতুন অস্ত্রটির বাস্তব সক্ষমতা সম্পর্কে নিশ্চিত ধারণা পেতে আরও তথ্য, পরীক্ষার ফলাফল এবং স্বাধীন মূল্যায়ন প্রয়োজন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au