নিজ ফ্ল্যাট থেকে আওয়ামী লীগ নেত্রীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে নিজ ফ্ল্যাট থেকে ডালিয়া আক্তার সুমা (৫০) নামে এক আওয়ামী লীগ নেত্রীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে বাস্তা…
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া মৃত্যুর হুমকি ও ধর্ষণের হুমকিমূলক পোস্ট সরিয়ে ফেলার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলোর নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। দেশটির স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হেলেন হেইনসের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনীতিবিদদের নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক বিতর্কের পরিবেশ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সোমবারের ওই হামলার পর অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্যরা তাঁদের পাওয়া হুমকির অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তাঁদের কয়েকজন নিউজওয়্যারকে জানিয়েছেন, নির্বাচনী এলাকার কার্যালয়গুলোর নিরাপত্তা জোরদারে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে তাঁরা তা সমর্থন করবেন।
রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে হুমকির বড় একটি অংশ আসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে। এসব হুমকির মধ্যে প্রায়ই থাকে হত্যার হুমকি কিংবা যৌন সহিংসতার ভয় দেখানো।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রধানমন্ত্রী আলবানিজকে প্রশ্ন করা হয়, সংবাদমাধ্যম এ ধরনের হুমকিমূলক বিষয়বস্তু প্রকাশ করলে শাস্তির মুখে পড়তে পারে, তাহলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষেত্রেও একই মানদণ্ড প্রযোজ্য হওয়া উচিত কি না।
এ প্রশ্নের জবাবে এবিসি রেডিওকে আলবানিজ বলেন, সরকার এ সমস্যা মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করেছে। এ ক্ষেত্রে তাঁর সরকার প্রস্তাবিত ‘ডিজিটাল ডিউটি অব কেয়ার’ বা অনলাইনে ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের দায়িত্ব নির্ধারণের উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করা যায়নি বলে স্বীকার করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বন্ডাইয়ের ঘটনার পর সরকার বিদ্বেষমূলক বক্তব্যসংক্রান্ত আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু পার্লামেন্টে সেই আইন পাস করানো সম্ভব হয়নি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিরোধী জোট ও গ্রিনস পার্টি, কোনো পক্ষই প্রস্তাবটিকে সমর্থন করেনি।
আলবানিজ বলেন, নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর পরামর্শ নিয়ে এবং পার্লামেন্টে আলোচনা করে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার যতটা সম্ভব পদক্ষেপ নেবে। রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে হুমকির বর্তমান মাত্রাকে তিনি ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ১০ বছর আগেও সংসদ সদস্যদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে কাউকে অভিযুক্ত করার ঘটনা ছিল বেশ অস্বাভাবিক। কিন্তু বর্তমানে শুধু তাঁকে লক্ষ্য করে দেওয়া হুমকির ঘটনায়ই একাধিক, এমনকি দুই অঙ্কের সংখ্যক ব্যক্তি আদালতের মুখোমুখি হচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ায় সংসদ সদস্য ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হুমকির ঘটনা গত দুই বছরে বেড়েছে। অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে হয়রানি, বিরক্তিকর আচরণ, আপত্তিকর বক্তব্য ও হুমকির বিষয়ে মোট ১ হাজার ৬৭টি অভিযোগ পেয়েছে পুলিশ। আগের অর্থবছরে এ সংখ্যা ছিল ৯৫১।
অর্থাৎ, এক বছরে এ ধরনের অভিযোগ বেড়েছে ১১৬টি।
ভুক্তভোগীদের বড় অংশ নারী। রাজনৈতিক অঙ্গনে লিঙ্গভিত্তিক আচরণ নিয়ে গবেষণা করা বিশেষজ্ঞ ব্লেয়ার উইলিয়ামস নিউজওয়্যারকে বলেন, রাজনীতিতে নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বাড়ার প্রবণতা শুধু অস্ট্রেলিয়ায় সীমাবদ্ধ নয়।
তাঁর মতে, করোনাভাইরাস মহামারির সময় সামাজিক বিচ্ছিন্নতার কারণে অনেক মানুষ আরও বেশি সময় অনলাইনে কাটাতে শুরু করেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখার জন্য এমন কনটেন্ট সামনে আনে, যা অনেক ক্ষেত্রে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়িয়ে দিতে পারে।
উইলিয়ামস বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম মানুষকে নির্দিষ্ট ধরনের বক্তব্য ও কনটেন্টের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এতে ক্ষোভ ও হতাশা আরও তীব্র হয়।
নারী রাজনীতিবিদদের উদ্দেশে অনলাইনে ছুড়ে দেওয়া আক্রমণাত্মক বক্তব্যের একটি বড় উদ্দেশ্য হলো তাঁদের চুপ করিয়ে দেওয়া বলে মনে করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, এসব আচরণের লক্ষ্য নারীদের রাজনৈতিক পরিসর ও জনপরিসর থেকে দূরে রাখা, যাতে তাঁরা নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে না পারেন।
এ ছাড়া নারীদের তুলনামূলকভাবে দুর্বল মনে করে সহজ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নেওয়ার প্রবণতাও রয়েছে বলে মন্তব্য করেন এই বিশেষজ্ঞ।
অস্ট্রেলিয়ার মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাটি গ্যালাঘার বলেন, হেলেন হেইনসের ওপর হামলার ঘটনায় পার্লামেন্টের নারী সদস্যরা উদ্বিগ্ন ও বিচলিত হয়েছেন। তবে তিনি যাঁদের সঙ্গে কথা বলেছেন, তাঁরা এ পরিস্থিতির কাছে নতি স্বীকার করতে রাজি নন।
নাইন নেটওয়ার্কের ‘টুডে’ অনুষ্ঠানে গ্যালাঘার বলেন, পার্লামেন্টের নারীরা যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে তাঁদের অনেকেই এ ধরনের হামলা ও হুমকির মুখেও নিজেদের দায়িত্ব পালনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
তিনি বলেন, রাজনীতিতে নারীরা নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করেছেন। এখন তাঁদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া জরুরি।
অস্ট্রেলিয়ায় রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে অনলাইন হুমকি ও হয়রানির ঘটনা ঘিরে নতুন করে বিতর্কের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জবাবদিহি, রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিরাপত্তা এবং নারীদের বিরুদ্ধে অনলাইন সহিংসতা প্রতিরোধের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।
সূত্র: নিউজ.কম.এইউ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au