বাংলাদেশ

নভেম্বরে ঢাকায় ইজতেমা, পাকিস্তান থেকে আসছেন শীর্ষ ধর্মীয় নেতারা

  • 10:26 pm - October 26, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৪৬ বার
ঢাকায় ইজতেমায় পাকিস্তান থেকে আসছেন শীর্ষ ধর্মীয় নেতারা। ছবিঃ সংগৃহীত

পাকিস্তানভিত্তিক আন্তর্জাতিক ইসলামি সংগঠন দাওয়াতে ইসলামী আগামী ১৮ থেকে ২০ নভেম্বর ঢাকায় তিন দিনব্যাপী ‘সুন্নাহ-অনুপ্রাণিত ইজতেমা’ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে উত্তরা সেন্টার মেট্রোরেল স্টেশনের কাছের একটি মাঠে এ সমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে। আয়োজকদের প্রচারমূলক ঘোষণা অনুযায়ী, এতে পাকিস্তান থেকে সংগঠনটির কয়েকজন শীর্ষ ধর্মীয় নেতা ও প্রতিনিধি অংশ নেবেন।

ঘোষণায় অতিথি বক্তা হিসেবে যাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আলহাজ উবাইদ রেজা আত্তারি, হাজি ইমরান আত্তারি, হাজি আবদুল হাবিব আত্তারি ও হাজি আলী আত্তারি। উবাইদ রেজা আত্তারিকে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা ইলিয়াস কাদরির আধ্যাত্মিক উত্তরসূরি বা ‘খলিফা’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। হাজি ইমরান আত্তারি সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। হাজি আবদুল হাবিব আত্তারি ও হাজি আলী আত্তারি ওই পরিষদের সদস্য।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, তিন দিনের এই সমাবেশে কয়েক দশ হাজার ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশ নেবেন। এতে ইসলামি নৈতিকতা, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ, আত্মশুদ্ধি, আধ্যাত্মিক উন্নয়ন ও সামাজিক কল্যাণের মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা ও ধর্মীয় বয়ান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে অংশগ্রহণকারীর সম্ভাব্য সংখ্যা এবং ঘোষিত অতিথিদের উপস্থিতির বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক এবং ধর্মীয় যোগাযোগের ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের অভ্যন্তরীণ প্রশাসন, পররাষ্ট্রসম্পর্ক ও ধর্মীয় পরিমণ্ডলে বিভিন্ন পরিবর্তন ঘটে। প্রতিবেদনের দাবি, এর আগে ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে পাকিস্তানের বিশিষ্ট ধর্মীয় নেতা ও প্রতিনিধিদের বাংলাদেশ সফরে ভিসা যাচাইসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হতো। ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতির ফলে পাকিস্তানভিত্তিক ধর্মীয় সংগঠনগুলোর বাংলাদেশে যোগাযোগ ও কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ বেড়েছে।

বাংলাদেশে বৃহৎ ইসলামি সমাবেশের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। টঙ্গীতে তাবলিগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমা দীর্ঘদিন ধরে দেশের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় আয়োজন হিসেবে পরিচিত। হজের পর মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সমাবেশ হিসেবেও বিশ্ব ইজতেমার পরিচিতি রয়েছে। তবে তাবলিগ জামাতের অভ্যন্তরীণ বিভাজন এবং বাংলাদেশ-ভারত ও পাকিস্তানকেন্দ্রিক বিভিন্ন ধারার বিরোধের কারণে সংগঠনটির কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে দাওয়াতে ইসলামীর মতো অন্য ধর্মীয় সংগঠনগুলো নিজস্ব অনুসারীদের নিয়ে সমাবেশ আয়োজন এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম বিস্তারের চেষ্টা করছে। দাওয়াতে ইসলামী সুন্নি ইসলামের বেরেলভি ধারার অনুসারী। এ ধারায় সুফিবাদী ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিক অনুশীলন এবং ধর্মীয় শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংগঠনটি ধর্মীয় প্রচার, নৈতিক শিক্ষা ও মাদ্রাসাভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। এর কার্যক্রমের মধ্যে মাদানি চ্যানেল এবং মাদরাসাতুল মদিনার নাম উল্লেখযোগ্য।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদেশি ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে বাংলাদেশের অনুসারীদের সরাসরি যোগাযোগ বাড়লে স্থানীয় ধর্মীয় ও সামাজিক পরিমণ্ডলে তার প্রভাব পড়তে পারে। তবে এ ধরনের সমাবেশ থেকে বৃহত্তর রাজনৈতিক বা আদর্শিক পরিবর্তন ঘটবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যায় না। এ বিষয়ে মূল্যায়নের জন্য সংগঠনটির কার্যক্রম, স্থানীয় পর্যায়ে এর বিস্তার এবং সমাবেশ-পরবর্তী উদ্যোগ পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।

বাংলাদেশে পাকিস্তানি ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের সফরের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেও আসন্ন ইজতেমাকে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সাবেক ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী সৈয়দ হামিদ সৈয়দ কাজমি ২০২৬ সালের মার্চের শেষ দিকে বাংলাদেশ সফর করেন। পাকিস্তানের মুলতানভিত্তিক প্রভাবশালী সুন্নি বেরেলভি ধর্মীয় নেতা হিসেবে পরিচিত কাজমি ওই সফরে চট্টগ্রামের কয়েকটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বৈঠক ও ধর্মীয় বক্তব্য দেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে হাটহাজারীর চিপাতলী কামিল মাদ্রাসার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

নর্থইস্ট নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাজমির ১০ দিনের সফরসূচির ওপর নিরাপত্তা সংস্থাগুলো নজর রেখেছিল। পাকিস্তানি ধর্মীয় ও সামাজিক ব্যক্তিত্বদের বাংলাদেশ সফরে আগের বিধিনিষেধের পর এটিকে গুরুত্বপূর্ণ সফরগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে সফরসংক্রান্ত এসব তথ্যও স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

দিয়াবাড়িতে ইজতেমার প্রস্তুতি এগিয়ে চলার মধ্যে আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকেরা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে ধর্মীয় যোগাযোগ বৃদ্ধির সম্ভাব্য প্রভাবের দিকে নজর রাখছেন । আসন্ন সমাবেশটি দাওয়াতে ইসলামীর বাংলাদেশে সাংগঠনিক উপস্থিতি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এর মাধ্যমে বৃহত্তর রাজনৈতিক বা আদর্শিক পুনর্বিন্যাস ঘটছে কি না, সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

সূত্রঃ নর্থইস্ট নিউজ

এই শাখার আরও খবর

দিল্লিতে হঠাৎ এনএসআই মহাপরিচালক, আলোচনায় শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন

বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবু মোহাম্মদ সারওয়ার ফরিদের দিল্লি সফরকে ঘিরে বাংলাদেশ-ভারত নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্ভাব্য…

সরকার অনুমতি দিলে ক্রসফায়ার করতেও পিছপা হবে না পুলিশ: আইজিপি

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে সরকার অনুমতি দিলে এবং প্রয়োজন হলে পুলিশ ক্রসফায়ার করতেও পিছপা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও কমিউনিটি…

ভোটারদের প্রভাবিত করতে যেভাবে এআই ব্যবহার করছেন মার্কিন রাজনীতিকেরা

নির্বাচনে ভোটারদের সমর্থন পেতে এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চ্যাটবটকে নিজেদের পক্ষে প্রভাবিত করার কৌশল নিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রার্থীরা। চ্যাটজিপিটি, ক্লড ও জেমিনির মতো এআই…

অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় বাপার দুর্গাপূজার ২০ বছর

ওটিএন বাংলা, ক্যানবেরা: দেবীর আরাধনা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা আর প্রজন্মের মেলবন্ধনে দুর্গাপূজা আয়োজনের দুই দশক উদ্‌যাপন করল বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া পূজা অ্যাসোসিয়েশন—বাপা। ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর ক্যানবেরায়…

লুলার জয়ের স্বীকৃতি দিতে নারাজ বলসোনারোর ছেলে, ব্রাজিলে ফের রাজনৈতিক সংকটের শঙ্কা

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ঐতিহাসিক চতুর্থ মেয়াদে জয়ী হওয়ার পরও পরাজয় মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ডানপন্থী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো।…

নিউজিল্যান্ডের ডানেডিনে দুর্গাপূজা: প্রবাসে বাঙালির সংস্কৃতি, সম্প্রীতি ও প্রজন্মের সেতুবন্ধন

ওটিএন বাংলা, নিউজিল্যান্ড: প্রবাসের মাটিতে দেবী দুর্গার আরাধনা, গান ও নৃত্যের পরিবেশনা আর আপনজনের সঙ্গে মিলিত হওয়ার আনন্দে উৎসবমুখর হয়ে উঠল নিউজিল্যান্ডের ডানেডিন। বাঙালি হিন্দুদের…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au