অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় বাপার দুর্গাপূজার ২০ বছর
ওটিএন বাংলা, ক্যানবেরা: দেবীর আরাধনা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা আর প্রজন্মের মেলবন্ধনে দুর্গাপূজা আয়োজনের দুই দশক উদ্যাপন করল বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া পূজা অ্যাসোসিয়েশন—বাপা। ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর ক্যানবেরায়…
ওটিএন বাংলা, নিউজিল্যান্ড: প্রবাসের মাটিতে দেবী দুর্গার আরাধনা, গান ও নৃত্যের পরিবেশনা আর আপনজনের সঙ্গে মিলিত হওয়ার আনন্দে উৎসবমুখর হয়ে উঠল নিউজিল্যান্ডের ডানেডিন। বাঙালি হিন্দুদের সংগঠন ‘শঙ্খ’-এর আয়োজনে ২৩ ও ২৪ অক্টোবরের দুর্গোৎসবে শামিল হন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পটভূমির প্রায় ৬০০ মানুষ। পূজার আনুষ্ঠানিকতার সঙ্গে মিশে ছিল বাঙালির চেনা ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির আবহ। দুই দিনের এই আয়োজন হয়ে ওঠে নিজেদের সংস্কৃতি সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার এবং নতুন প্রজন্মকে শিকড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার এক মিলনমেলা।
২০১৭ সালে ড. শ্যামল দামের বাসভবনে ছোট পরিসরে শুরু হয়েছিল এই দুর্গাপূজা। সময়ের সঙ্গে সেই উদ্যোগ ডানেডিনের একটি পরিচিত ও প্রতীক্ষিত সাংস্কৃতিক আয়োজনে পরিণত হয়েছে। ২০২০ সালে কলকাতা থেকে দেবী দুর্গার প্রতিমা আনার মধ্য দিয়ে আয়োজনটি নতুন মাত্রা পায়।
এ বছর ডানেডিনের সেন্ট জনস চার্চ হলে দুই দিনব্যাপী পূজার আয়োজন করা হয়। ২৩ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর অনুষ্ঠিত হয় সপ্তমীপূজা। পরদিন অষ্টমী, কুমারীপূজা, নবমী ও দশমীপূজার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় ধর্মীয় আচার।
তিনটি পর্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পূজার আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের ব্যবস্থা। সংগীত ও নৃত্যের পরিবেশনা উৎসবে যোগ করে প্রাণের স্পন্দন। বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের অংশগ্রহণ আয়োজনটিকে করে তোলে আরও বৈচিত্র্যময়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বর্তমান পার্লামেন্টের দুজন সদস্য এবং আরও তিনজন প্রার্থীও ছিলেন।
‘শঙ্খ’-এর সভাপতি ও মুখপাত্র অধ্যাপক শ্যামল দাম বলেন, এই মিলনমেলার তাৎপর্য শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দুর্গাপূজা মানবসেবা, নারীর মর্যাদা ও সমতা প্রতিষ্ঠার গুরুত্বও তুলে ধরে।
তিনি জানান, এই আয়োজনের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে বাঙালি হিন্দু সংস্কৃতির চেতনা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন তাঁরা। একই সঙ্গে এটি নিজেদের সংস্কৃতি অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সাংস্কৃতিক বন্ধন গড়ে তোলার একটি মাধ্যম।
ডানেডিনের এই দুর্গোৎসব স্থানীয় সংবাদমাধ্যমেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করে। নিউজিল্যান্ডের দক্ষিণ দ্বীপের সংবাদপত্র ওটাগো ডেইলি টাইমস তাদের সংবাদ পরিবেশনায় আয়োজনটিকে স্থান দেয়।
প্রবাসের ব্যস্ত জীবনে দুই দিনের এই উৎসব তাই শুধু দেবী আরাধনার পরিসরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; হয়ে উঠেছে পরিচিত সংস্কৃতিতে ফিরে আসা, পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়ানো এবং পরবর্তী প্রজন্মের হাতে ঐতিহ্যের আলো তুলে দেওয়ার এক মিলনমেলা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au