সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রায় ৪৪০টি সেবা পাওয়া যায় এমন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম মাইগভের ওয়েবসাইট বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ। জরুরি নথি সত্যায়ন, জমিসংক্রান্ত সেবা, বিভিন্ন সনদ ও অনুমোদনের জন্য আবেদন করতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন সেবাপ্রার্থীরা। প্রতিদিন এই প্ল্যাটফর্ম থেকে পাঁচ থেকে ছয় হাজার মানুষ সেবা নিয়ে থাকেন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ওয়েবসাইটটিতে প্রবেশ করা যায়নি। সাইটে ঢোকার চেষ্টা করলে ‘ওয়েব সার্ভার ডাউন’ বার্তা দেখা যাচ্ছে। মাইগভের ফেসবুক পেজে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের কথা জানিয়ে সোমবার মধ্যরাতের মধ্যে সেবা চালুর আশা প্রকাশ করা হলেও নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ওয়েবসাইটটি সচল হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার নিরাপত্তা ত্রুটি সংশোধন এবং ওয়েবসাইটের সংস্করণ হালনাগাদের কাজ চলছে। এ ছাড়া মাইগভের অধীন একাধিক ডোমেইনও হালনাগাদ করতে হচ্ছে। এসব কাজের অংশ হিসেবে কয়েক দফা পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। সব প্রক্রিয়া শেষ করে মঙ্গলবারের মধ্যে সেবা চালুর আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জরুরি কাজে বিপাকে আবেদনকারীরা
ওয়েবসাইট বন্ধ থাকায় জরুরি নথি জমা দেওয়া ও সংগ্রহ করা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন অনেক আবেদনকারী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ জানিয়ে বিকল্প ব্যবস্থার অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। শামায়েল শামভী নামের এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, অনলাইন সেবা বন্ধ থাকলে সরাসরি সেবা নেওয়ার ব্যবস্থা থাকা উচিত। জরুরি কাজের জন্য সবার পক্ষে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ই-অ্যাপোস্টিলের জন্য নথি জমা দেওয়া শাহরিয়ার অর্ণব জানান, পরদিনই তাঁর নথিগুলো প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ওয়েবসাইট বন্ধ থাকায় নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থা না থাকলে সময়মতো প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ ও জমা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে বলে জানান তিনি।
এক প্ল্যাটফর্মে প্রায় ৪৪০ সরকারি সেবা
মাইগভ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সেবা এক জায়গা থেকে পাওয়ার অনলাইন মাধ্যম। সরকারের অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট বা এটুআই উদ্যোগের আওতায় পরিচালিত এই প্ল্যাটফর্মে প্রায় ৪৪০টি সরকারি সেবা রয়েছে। এটুআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় হাজার মানুষ এসব সেবা গ্রহণ করেন।
এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিদেশে পড়াশোনা বা কাজের জন্য প্রয়োজনীয় নথির ই-অ্যাপোস্টিল, জমিসংক্রান্ত সেবা, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সনদ, ব্যবসার অনুমতিপত্র এবং বিভিন্ন অনুমোদন ও অনুদানের জন্য আবেদন করা যায়। সেবাভেদে অনলাইনে আবেদন, ফি পরিশোধ এবং আবেদনের অগ্রগতি জানারও সুযোগ রয়েছে।
ই-অ্যাপোস্টিলের মাধ্যমে বিদেশে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি নথির সত্যতা যাচাই ও প্রত্যয়ন করা হয়। ফলে শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থীসহ বিদেশগামী অনেক মানুষের কাছে এই সেবা গুরুত্বপূর্ণ। ওয়েবসাইট বন্ধ থাকায় তাঁদের জরুরি কাজও ব্যাহত হচ্ছে।
নিরাপত্তা ত্রুটি সংশোধনে হালনাগাদ চলছে
তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির বলেন, সাইবার নিরাপত্তার কারণে কোনো ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে ত্রুটি সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে। তবে একটি প্ল্যাটফর্মে বিপুলসংখ্যক সরকারি সেবা কেন্দ্রীভূত থাকলে সেটি অচল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিকল্প ব্যবস্থাও রাখা জরুরি।
বিশেষ করে জরুরি নথির ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের ক্ষতি এড়াতে আবেদনের সময়সীমা বাড়ানো এবং সেবা চালুর অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য জানানোর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
বাংলাদেশের সরকারি কম্পিউটার নিরাপত্তা দল বিজিডি ই-গভ সিআইআরটির তথ্য অনুযায়ী, পুরোনো ও নিরাপত্তাঝুঁকিপূর্ণ পিএইচপি সংস্করণ ব্যবহার করছিল সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫০টির বেশি ওয়েবসাইট ও ওয়েব অ্যাপ। এসব ত্রুটি কাজে লাগিয়ে ওয়েবসাইট বা সার্ভারে অননুমোদিত প্রবেশের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই নিরাপত্তা ত্রুটি সংশোধন ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা হালনাগাদ করা জরুরি।
নিরাপত্তাঝুঁকি যাচাই ও ত্রুটি সংশোধনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক, কয়েকটি ব্যাংক এবং ভূমিসেবাসংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। সেগুলোর বেশির ভাগ রোববারের মধ্যে সচল হয়। তবে মাইগভের সেবা বন্ধ থাকায় আবেদনকারীদের ভোগান্তি অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রয়োজনীয় কারিগরি কাজ শেষ হলে মঙ্গলবারের মধ্যে প্ল্যাটফর্মটি আবার চালু করা সম্ভব হবে।