টুপটুপ রিসোর্টে আগুন, ডিএনএ পরীক্ষায় ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত
কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেকে টুপটুপ রেস্তোরাঁ ও রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের পরিচয় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তবে নিখোঁজ…
জাতিসংঘের সহায়তায় পরিচালিত রেডিও ওকাপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। সংস্থাটির মহাপরিচালক তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুস নিহত নার্সের পরিবার ও সহকর্মীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। পাশাপাশি আহত স্বাস্থ্যকর্মীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন তিনি।
ইবোলা মোকাবিলায় কাজ করা কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা কঙ্গোতে এবারই প্রথম নয়। গত মাসে ইবোলার বিস্তার ঠেকাতে বিভিন্ন পদক্ষেপের পক্ষে প্রচার চালানোর পর এক রাজনীতিককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এর আগে গত আগস্টে রেড ক্রস জানায়, ইবোলার প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর প্রথম ১০০ দিনে তাদের স্বেচ্ছাসেবকেরা ১১টি সহিংস ঘটনার শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনায় কয়েকজন আহত হওয়ার পাশাপাশি একটি অ্যাম্বুলেন্সেও আগুন দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলার পেছনে ইবোলা নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুজবকে দায়ী করা হচ্ছে। কিছু মানুষ দাবি করছেন, ইবোলা নামে কোনো রোগ নেই। এ ধরনের ভুল ধারণা রোগ প্রতিরোধের কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কঙ্গোর সঙ্গে যাতায়াতে উগান্ডার কড়াকড়ি
ইবোলার বিস্তার ঠেকাতে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে যাতায়াতে নতুন বিধিনিষেধ দিয়েছে উগান্ডা। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া দুই দেশের মধ্যে ভ্রমণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কঙ্গো থেকে উগান্ডায় ফিরে আসা নাগরিকদের ২১ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। এর ব্যয়ও তাঁদের নিজেদের বহন করতে হবে।
উগান্ডার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কঙ্গো থেকে শুধু জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারীদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। এ তালিকায় ত্রাণকর্মী, ট্রাকচালক ও নিরাপত্তাকর্মীরা রয়েছেন। তবে সীমান্ত পার হওয়ার আগে তাঁদের কঠোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে। এ ছাড়া যেকোনো দেশ থেকে উগান্ডায় প্রবেশকারী যাত্রীদের নিজেদের অবস্থান ও যোগাযোগের তথ্য দিয়ে একটি ফরম পূরণ করতে হবে। সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা অন্যদের শনাক্ত করতে এসব তথ্য ব্যবহার করা হবে।
উগান্ডার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, কেনিয়ার আক্রান্ত ব্যবসায়ীর সংস্পর্শে আসা প্রায় ৬০ জনকে পর্যবেক্ষণের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
কেনিয়া ও নাইজেরিয়াতেও ইবোলা শনাক্ত
চলতি মাসের শুরুতে কেনিয়া ও নাইজেরিয়ায় বর্তমান প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত ইবোলার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। দেশ দুটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ধরনের সংক্রমণ সেখানে প্রথমবারের মতো শনাক্ত হয়েছে।
সোমবার নাইজেরিয়ায় আক্রান্ত এক নারীকে রাজধানী আবুজা থেকে সুইজারল্যান্ডে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁকে আরও চিকিৎসা দেওয়া হবে। আফ্রিকা রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের প্রধান জ্যঁ কাসেয়া জানান, ওই নারীর জন্ম উগান্ডায়। তিনি সুইজারল্যান্ডের এক কূটনীতিকের স্ত্রী। ছুটি কাটাতে তিনি উগান্ডার রাজধানীতে গিয়েছিলেন। তাঁর শরীরে ইবোলার কোনো উপসর্গ না থাকলেও স্বামীকে তাঁর সঙ্গে সুইজারল্যান্ডে নেওয়া হয়েছে।
নাইজেরিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই নারীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। তিনি সচেতন আছেন এবং কথা বলতে পারছেন। তবে তিনি কোথায় ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন, তা খতিয়ে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কেনিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সোমবার জানিয়েছে, দেশটিতে প্রথম আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা ২০ জন ২১ দিনের কোয়ারেন্টিন শেষে বাড়ি ফিরেছেন। তবে আরও ৯৮ জনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। দেশটিতে ইবোলায় আক্রান্ত সাতজনের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, কেনিয়ার ওই ব্যবসায়ী নাইরোবিতে পৌঁছানোর দুই দিন পর মারা যান। তাঁর সঙ্গে সম্পর্কিত আরেক নারীও মারা গেছেন। কেনিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা নয়জনে পৌঁছানোর পর রোগটি কতটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
একই সঙ্গে তিনটি দেশ ঘুরে একজন আক্রান্ত ব্যক্তি কীভাবে শনাক্ত না হয়ে ভ্রমণ করতে পারলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ইবোলামুক্ত থাকতে সতর্ক উগান্ডা
উগান্ডার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ক্রিস বারিওমুন্সি বিবিসির ‘নিউজডে’ অনুষ্ঠানে বলেছেন, দেশকে ইবোলামুক্ত রাখতে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চলতি মাসে কেনিয়া ও নাইজেরিয়ায় সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর উগান্ডা বারবার জানিয়েছে, দেশটিতে নতুন করে কোনো সংক্রমণ শনাক্ত হয়নি।
তবে কঙ্গোতে ইবোলার প্রাদুর্ভাব শুরুর পর উগান্ডায় ২০ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে দুজন মারা যান। পরে গত আগস্টে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা উগান্ডাকে ইবোলামুক্ত ঘোষণা করে।
সাম্প্রতিক ঘটনায় আক্রান্ত দুই ব্যক্তি একই দিনে উগান্ডার এনটেবে বিমানবন্দর দিয়ে যাতায়াত করেছিলেন। তবে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব ডায়ানা আতওয়াইন জানিয়েছেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে তাঁদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
উগান্ডার কর্মকর্তারা প্রথমে জানিয়েছিলেন, নাইজেরিয়ায় আক্রান্ত নারী দেশটির মধ্য দিয়ে কেবল যাতায়াত করেছিলেন এবং তাঁর গন্তব্য ছিল গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের পূর্বাঞ্চল। তবে পরে উগান্ডার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ওই নারীর চলাচল, সম্পূর্ণ ভ্রমণপথ এবং কোথায় তিনি ভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছেন, তা জানতে উগান্ডা ও নাইজেরিয়া যৌথভাবে কাজ করছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী ক্রিস বারিওমুন্সি বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখিয়েছে, ইবোলার ঝুঁকি এখনো শেষ হয়নি। কঙ্গোর সঙ্গে উগান্ডার সীমান্ত রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, যাতায়াত ও পারিবারিক সম্পর্কের কারণে মানুষের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকায় সংক্রমণের ঝুঁকি রয়ে গেছে।
সংক্রমণ ছড়ায় শরীরের তরলের মাধ্যমে
ইবোলা ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরলের সংস্পর্শে এলে একজনের শরীর থেকে অন্যজনের শরীরে ছড়াতে পারে। রক্ত ও বমির মতো তরলের মাধ্যমে সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। তাই আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ভাইরাসটির ধরন হলো বান্দিবুগিও। এটি তুলনামূলকভাবে বিরল। এই ধরনের ইবোলার বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। তবে এ বিষয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।
কঙ্গোতে স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতে সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার ঘটনায় ইবোলা নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা আরও জটিল হয়ে উঠেছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গুজব প্রতিরোধ এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করার ওপর এখন বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সুত্র; বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au