আজ কবি সিলভিয়া প্লাথের ৯৪তম জন্মদিন।
মার্কিন কবি ও ঔপন্যাসিক সিলভিয়া প্লাথের জন্মদিন আজ ২৭ অক্টোবর। ১৯৩২ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের বোস্টনে জন্মগ্রহণ করেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রভাবশালী এই সাহিত্যিক। মাত্র ৩০ বছরের জীবনে তিনি এমন কিছু কবিতা ও সাহিত্যকর্ম রেখে গেছেন, যা আজও বিশ্বজুড়ে পাঠক ও সাহিত্যসমালোচকদের কাছে সমাদৃত।
সিলভিয়া প্লাথ বিশেষভাবে পরিচিত তাঁর আত্মস্বীকারমূলক কবিতার জন্য। তাঁর লেখায় ব্যক্তিগত অনুভূতি, আত্মপরিচয়ের সংকট, সম্পর্কের জটিলতা এবং জীবনের নানা কঠিন অভিজ্ঞতা গভীরভাবে উঠে এসেছে। তীব্র আবেগ, স্বতন্ত্র ভাষাশৈলী ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে সাহিত্যে রূপ দেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা তাঁকে বিশ্বসাহিত্যে বিশেষ স্থান দিয়েছে।
শৈশব ও শিক্ষাজীবন
সিলভিয়া প্লাথের বাবা অটো প্লাথ ছিলেন জার্মান বংশোদ্ভূত অধ্যাপক ও পতঙ্গবিজ্ঞানী। তাঁর মা অরেলিয়া প্লাথ ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ। ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল সিলভিয়ার। মাত্র আট বছর বয়সে তাঁর একটি কবিতা প্রকাশিত হয়। শৈশব থেকেই সাহিত্যচর্চার প্রতি তাঁর এই আগ্রহ পরবর্তী সময়ে তাঁকে একজন খ্যাতিমান কবি ও ঔপন্যাসিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে সাহায্য করে।
১৯৫০ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্মিথ কলেজে ভর্তি হন। ১৯৫৫ সালে সেখান থেকে স্নাতক শেষ করার পর ফুলব্রাইট বৃত্তি নিয়ে যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যান। সেখানে তাঁর পরিচয় হয় ইংরেজ কবি টেড হিউজের সঙ্গে। ১৯৫৬ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। তাঁদের দুই সন্তান ফ্রিডা ও নিকোলাস।
যেসব সাহিত্যকর্ম তাঁকে খ্যাতি এনে দেয়
সিলভিয়া প্লাথের উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে দ্য কলোসাস অ্যান্ড আদার পোয়েমস, দ্য বেল জার এবং এরিয়েল। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য কলোসাস অ্যান্ড আদার পোয়েমস প্রকাশিত হয় ১৯৬০ সালে। এতে তাঁর কবিতার স্বতন্ত্র প্রকাশভঙ্গি ও গভীর আবেগের পরিচয় পাওয়া যায়।
১৯৬৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর উপন্যাস দ্য বেল জার। আধা-আত্মজীবনীমূলক এই উপন্যাসে এসথার গ্রিনউড নামের এক তরুণীর অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে আত্মপরিচয়ের সংকট, সামাজিক প্রত্যাশা এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা জটিলতা তুলে ধরা হয়েছে। উপন্যাসটি পরবর্তী সময়ে বিশ্বসাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ রচনা হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
তাঁর অন্যতম বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ এরিয়েল প্রকাশিত হয় ১৯৬৫ সালে, তাঁর মৃত্যুর পর। এই গ্রন্থের কবিতাগুলোতে তীব্র আবেগ, ব্যক্তিগত সম্পর্ক, আত্মপরিচয় এবং অস্তিত্বের নানা প্রশ্ন উঠে এসেছে। ‘ড্যাডি’, ‘লেডি লাজারাস’ ও ‘মর্নিং সং’ তাঁর বহুল আলোচিত কবিতাগুলোর মধ্যে অন্যতম।
মৃত্যুর পরও এসেছে বিশ্বস্বীকৃতি
১৯৬৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মাত্র ৩০ বছর বয়সে মারা যান সিলভিয়া প্লাথ। তবে তাঁর মৃত্যুতে সাহিত্যজগতে তাঁর প্রভাব থেমে থাকেনি। বরং মৃত্যুর পর তাঁর সাহিত্যকর্ম আরও ব্যাপকভাবে পাঠকপ্রিয়তা ও স্বীকৃতি অর্জন করে।
১৯৮১ সালে প্রকাশিত তাঁর কবিতার সংকলন দ্য কালেক্টেড পোয়েমস কাব্যগ্রন্থের জন্য ১৯৮২ সালে তিনি মরণোত্তর পুলিৎজার পুরস্কার লাভ করেন। মরণোত্তর এই সম্মান অর্জনকারী প্রথম কবি হিসেবে তিনি ইতিহাসে বিশেষ স্থান করে নেন।
সিলভিয়া প্লাথের কবিতা ও উপন্যাস আজও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাঠক, গবেষক ও সাহিত্যসমালোচকদের আগ্রহের বিষয়। ব্যক্তিগত অনুভূতি ও অভিজ্ঞতাকে শক্তিশালী সাহিত্যিক ভাষায় প্রকাশ করার ক্ষমতা এবং কবিতার স্বতন্ত্র শৈলীর কারণে তাঁর রচনা নতুন প্রজন্মের কাছেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। স্বল্পায়ু জীবনের মধ্যেও বিশ্বসাহিত্যে তাঁর অবদান তাঁকে স্মরণীয় করে রেখেছে।