মিসরের সেনাসদস্য ও ইয়েমেনে হুতি সমর্থকদের সমাবেশ। ছবি: সংগৃহীত
ওটিএন বাংলা ডেস্ক: সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে মিসরের পার্লামেন্টের অনুমোদনকে ইয়েমেনের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ বলে অভিহিত করেছে ইরানসমর্থিত হুতি গোষ্ঠী। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আলী আল-হুতি এ মন্তব্য করেন।
এর আগের দিন সোমবার মিসরের পার্লামেন্ট সৌদি আরবকে হুতিদের হামলা থেকে রক্ষায় সামরিক সহায়তা দেওয়ার অনুমোদন দেয়। তবে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে মিসরীয় সেনা পাঠানোর কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধের ঘোষণা তখনো আসেনি। কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে, তা-ও বিস্তারিত জানায়নি কায়রো।
আল-হুতি তাঁর বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, একদিকে আঞ্চলিক শান্তি নিয়ে আলোচনা চলছে, অন্যদিকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষার নামে মিসর সামরিক সহায়তার অনুমোদন দিচ্ছে। তাঁর দাবি, এই পদক্ষেপ ইয়েমেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল। তবে এটি হুতি নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া; মিসরের আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণার খবর নয়।
সোমবার তেহরানে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির ও তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিনের বৈঠকের পর এই প্রতিক্রিয়া আসে। আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে তাঁরা ইরানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিরও সমালোচনা করেন আল-হুতি। চুক্তিতে একটি সদস্যদেশের ওপর হামলাকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনার কথা রয়েছে। হুতি নেতা দাবি করেন, কোনো সামরিক জোটকে ভয় পায় না তাঁর গোষ্ঠী।
এদিকে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি বলেছেন, তাঁর দেশের সম্ভাব্য সামরিক ভূমিকা সৌদি ভূখণ্ড ও সীমান্তের প্রতিরক্ষায় সীমিত থাকবে। ইয়েমেনে হামলা চালানো এর উদ্দেশ্য নয়। কায়রো কূটনৈতিক সমাধানের ওপরও জোর দিয়েছে।
মিসরের কয়েকটি বিরোধী রাজনৈতিক দল সম্ভাব্য সামরিক সম্পৃক্ততা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। অভিযানের লক্ষ্য, পরিধি, মেয়াদ ও ব্যয় সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকার কথা তুলে ধরে সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির সংসদীয় দল ভোটদানে বিরত থাকে। দলটি দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অঙ্গীকার এড়াতে কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানায়।
সৌদি আরব মিসরের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অংশীদার। এর আগে ২০১৫ সালে ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটে যোগ দিয়েছিল মিসর। সে সময় দেশটির ভূমিকা মূলত লোহিত সাগরের নৌপথের নিরাপত্তা রক্ষায় কেন্দ্রীভূত ছিল।
– timesofisrael.com