ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর কাছ থেকে সম্ভাব্য হামলার হুমকি এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরবে সামরিক সহায়তা বাড়িয়েছে পাকিস্তান। দেশটিতে নতুন করে সেনাসদস্য, ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি চালকবিহীন আকাশযান পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সিএনএন-নিউজ১৮।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে স্বাক্ষরিত কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবকে এই সহায়তা দিচ্ছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের একজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ শহর ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করতেই এসব সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে।
ওই সূত্রের দাবি, পাকিস্তানের সেনাসদস্যদের অল্প অল্প করে নিয়মিত সৌদি আরবে পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি পাকিস্তান বিমানবাহিনীর পরিবহন বিমান ও সামরিক পণ্যবাহী উড়োজাহাজের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হচ্ছে। পাকিস্তান বিমানবাহিনীর একটি আইএল-৭৮ আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানও সৌদি আরবের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে স্বাক্ষরিত কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বলা হয়েছে, দুই দেশের যেকোনো একটির ওপর আগ্রাসনকে উভয় দেশের ওপর আগ্রাসন হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের পাকিস্তান-সৌদি আরব প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আনুষ্ঠানিকভাবে আরও জোরদার হয়েছে।
সৌদি আরবে পাকিস্তানের সামরিক উপস্থিতি অবশ্য নতুন নয়। কয়েক দশক ধরেই দেশটিতে পাকিস্তানের সামরিক সদস্যরা অবস্থান করছেন। তাঁদের মধ্যে প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় যুক্ত সদস্যরাও রয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কতসংখ্যক সেনা পাঠানো হয়েছে এবং তাঁদের দায়িত্ব কী, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীকে ঘিরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে সৌদি আরব তার আকাশ প্রতিরক্ষা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সুরক্ষা জোরদার করতে চাইছে। পাকিস্তান প্রকাশ্যে সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে ইসলামাবাদ ইয়েমেন সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সৌদি আরবের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতিপূরণের বিনিময়ে পাকিস্তান সামরিক সরঞ্জাম ও সেনাসদস্য সরবরাহ করছে বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সূত্র। তবে এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট অর্থের পরিমাণ বা অর্থ পরিশোধের শর্ত প্রকাশ করা হয়নি। আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাইও করা যায়নি।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নতুন করে সামরিক সহায়তা দেওয়ার খবর আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরছে। তবে সেনা মোতায়েনের প্রকৃত পরিসর, সরবরাহ করা অস্ত্রের সংখ্যা এবং সহযোগিতার আর্থিক শর্ত সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত তথ্য না থাকায় এসব বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ সীমিত।