এইচএসসির ফল প্রকাশ শনিবার, জানা যাবে যেভাবে
চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে আগামী শনিবার (৩১ অক্টোবর)। ওই দিন বেলা ১১টায় রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আনুষ্ঠানিকভাবে…
চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে দেশে বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হয়েছেন ২ হাজার ১৭১ জন নারী ও কন্যাশিশু। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের লিগ্যাল এইড উপপরিষদের সাম্প্রতিক মাসিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। গত বছরের একই সময়ে নির্যাতনের শিকার নারী ও কন্যাশিশুর সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৮০৮ জন।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বছরের শুরু থেকেই নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও জুন মাসে পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে প্রতিটিতে ১৮৩ জন করে নির্যাতনের শিকার হন। মার্চে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৯০ জনে। এপ্রিলে ২২০ জন এবং মে মাসে ২৫৯ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হন। জুনে সর্বোচ্চ ৩৩৩ জন নির্যাতনের শিকার হন। জুলাইয়ে এ সংখ্যা ছিল ২৯৯ জন। আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে প্রতিটিতে ২৫২ জন করে নির্যাতনের শিকার হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনে কন্যাশিশুদের ধর্ষণ ও দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক হিসেবে উঠে এসেছে। শুধু জুন মাসেই ধর্ষণের শিকার হন ১০০ জন নারী ও কন্যাশিশু। তাঁদের মধ্যে ৭২ জনই কন্যাশিশু। এ মাসে ৫২টি সাধারণ ধর্ষণ ও ১২টি দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ধর্ষণের পর সাতজন কন্যাশিশুকে হত্যার তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জুলাই মাসে ধর্ষণের শিকার হন ৭৫ জন, যাঁদের মধ্যে ৪৫ জন কন্যাশিশু। এসব পরিসংখ্যান শিশুদের নিরাপত্তা এবং যৌন সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।
শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি নারী ও কন্যাশিশু হত্যার ঘটনাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই মাসে ৫০ জন নারী ও কন্যাশিশুকে হত্যা করা হয়। তাঁদের মধ্যে ৩৯ জন নারী এবং ১১ জন কন্যাশিশু। সেপ্টেম্বর মাসে হত্যার শিকার হন ৫২ জন। তাঁদের মধ্যে ৩৯ জন নারী ও ১৩ জন কন্যাশিশু। এ ছাড়া বিভিন্ন মাসে রহস্যজনক মৃত্যু এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনার ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।
প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে সাইবার সহিংসতা ও উত্ত্যক্তকরণের ঘটনাও সামনে আসছে। স্কুল-কলেজপড়ুয়া তরুণী ও কন্যাশিশুরা বিভিন্নভাবে এসব ঘটনার শিকার হচ্ছে। শুধু জুন মাসেই উত্ত্যক্তকরণের শিকার হয়েছেন ২৯ জন, যাঁদের মধ্যে ১৭ জন কন্যাশিশু।
বাল্যবিবাহের চিত্রও উদ্বেগজনক। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বিভিন্ন স্থানে অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চললেও সেপ্টেম্বর মাসে একটি বাল্যবিবাহ সম্পন্ন হওয়ার পাশাপাশি আরও সাতটি বাল্যবিবাহের চেষ্টার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরাধীদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে না পারা, বিচারহীনতার সংস্কৃতি, পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা এবং নৈতিক অবক্ষয় নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা বাড়ার অন্যতম কারণ। পাশাপাশি পারিবারিক অসচ্ছলতা এবং সাইবার অপরাধের বিস্তার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনের কার্যকর প্রয়োগ, অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা এবং সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সর্বস্তরে নারীর প্রতি সম্মানজনক মনোভাব গড়ে তুলতে হবে। অন্যথায় ঘরে ও বাইরে নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au