প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ হাজার গ্রেপ্তারের অভিযোগ শেখ হাসিনার
বাংলাদেশে প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি দাবি করেছেন, বর্তমান সরকার রাজনৈতিক বিরোধীদের দমনে…
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘাত বন্ধ এবং তেল রপ্তানি স্বাভাবিক করতে ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের আর্থিক প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত আলোচনায় সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী যুবরাজ খালিদ বিন সালমান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন অংশ নেন। তবে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব বা অর্থ হস্তান্তরের বিষয়টি সৌদি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেনি।
২৭ অক্টোবর প্রকাশিত ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা কমানো এবং সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হুথিদের হামলা বন্ধ করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইরানের মধ্যস্থতায় হুথিদের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর তেহরান সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এমনকি প্রস্তাবিত অর্থ সামরিক পরিবহন উড়োজাহাজে করে নেওয়া হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে এ দাবিরও স্বাধীন কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় হুথিদের হামলার কারণে দেশটির অর্থনীতি ও জ্বালানি অবকাঠামো ঝুঁকির মুখে পড়েছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারকে ঘিরে হামলা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানিও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত এড়ানো সৌদি আরবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রায় তিন বছর আগে হওয়া কিছু সমঝোতায় হুথি-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সরকারি কর্মচারীদের বেতন দেওয়া এবং বেসামরিক অবকাঠামো পুনর্গঠনের জন্য সৌদি আরবের আর্থিক সহায়তার বিষয়টি আলোচনায় এসেছিল। এর বিনিময়ে হুথিদের যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং সৌদি ভূখণ্ডে হামলা বন্ধ করার কথা ছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সৌদি আরব প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি, এমন অভিযোগ তুলে হুথিরা সাম্প্রতিক সময়ে আবার হামলা চালানোর যুক্তি দেখিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তেহরানের আলোচনায় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিনের অংশগ্রহণকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত আগস্টে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে এই দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর প্রচেষ্টাও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের মহাসচিব মোহসেন রেজাই এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও আলোচনায় যুক্ত ছিলেন। ইরান সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
হুথিদের সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে তেহরান এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখার সুযোগ পেয়েছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নেতৃত্বে সমাধান প্রতিষ্ঠা করতে ইরান আগ্রহী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সৌদি আরবের সঙ্গে হুথিদের সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারলে আঞ্চলিক কূটনীতিতে ইরানের প্রভাব আরও বাড়তে পারে।
তবে সৌদি আরবের অবস্থান নিয়ে প্রতিবেদনে ভিন্ন দিকও উঠে এসেছে। ইসরায়েল হায়োম-এর দাবি, হুথিদের সামরিক চাপের মুখে অর্থ দিতে রাজি নয় রিয়াদ। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের কাছ থেকে দখল করা এলাকা ফিরিয়ে দেওয়ার আগে হুথিদের অর্থ দেওয়ার বিরোধিতা করছে সৌদি আরব বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, হুথিদের সঙ্গে সংঘাত বন্ধে সৌদি আরবের ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাবের খবর প্রকাশিত হলেও অর্থ হস্তান্তর কিংবা চূড়ান্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আলোচনা ও সমঝোতার ওপর।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au