২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল ঢাকা থেকে নিখোঁজ হন, বিএনপির তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট জেলা কমিটির সভাপতি এম ইলিয়াস আলী ও তার গাড়িচালক মো. আনসার। নিখোঁজের পর পর ইলিয়াসের সন্ধান চেয়ে উত্তাল হয়ে উঠে সিলেট। আন্দোলনে অংশ নিয়ে প্রাণও হারান কয়েকজন। তবে ধীরে ধীরে স্তিমিত হয়ে যায় আন্দোলনের গতি। এরপর একসময় আলোচনার বাইরে চলে যায় ইলিয়াস আলী নিখোঁজের ইস্যু। তবে হাসিনা সরকারের পতনের পর ঘুরেফিরে আবার আলোচনায় ইলিয়াস আলী।
ইলিয়াস আলীর ‘নিখোঁজ’ হওয়ার ১৩ বছর পূর্ণ হলো আজ। দীর্ঘ সময় ধরে পরিবার থেকে শুরু করে বিএনপির নেতা-কর্মীরা ইলিয়াস আলীর ফেরার আশায় রয়েছেন। বিশেষ করে ‘আয়নাঘর’ হিসেবে পরিচিত গোপন বন্দিশালা থেকে দীর্ঘদিন পর অনেকে মুক্তি পাওয়ায় তারা আশায় বুক বেঁধেছেন যে ইলিয়াস আলীও হয়তো ফিরে আসবেন। তবে এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি। তাঁকে অক্ষত অবস্থায় ফিরে পেতে আজ সিলেট বিএনপি ও দলের সহযোগী সংগঠনগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে।
এর আগে গুঞ্জন উঠে, ইলিয়াস আলী বেঁচে আছেন। কিন্তু তিনি জীবিত না মৃত- এ বিষয়ে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো পরিষ্কার বক্তব্য আসেনি। এ বিষয়ে ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা তাঁর ফেসবুক আইডিতে পোস্ট দেন-‘মিথ্যা বা কোন প্রকার গুজবে কান দেবেন না। প্রিয় ইলিয়াস আলীর জন্য দোয়া করবেন।’
ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদী এর আগে গণমধ্যমে জানিয়েছিলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে বলতে আমি ক্লান্ত। যারা গুজব ছড়াচ্ছে তারাই ভালো জানে এমনটি কেন করছে। আমরা শুধু পরিবারের পক্ষ থেকে বলছি দোয়া করতে। আমাদের এখনো দৃঢ় বিশ্বাস- তিনি বেঁচে আছেন। প্রথম থেকেই আমরা এ আশা পোষণ করে আসছি। তাই সব সময় তাঁর সুস্থতার জন্য বিভিন্ন স্থানে দোয়া করিয়েছি বা করাচ্ছি।’