কুয়েটের ৫ হিন্দু শিক্ষক-কর্মকর্তাকে বরখাস্ত
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) ৫ হিন্দু শিক্ষক-কর্মকর্তাসহ মোট সাতজনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১৫তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চাকরিচ্যুতদের মধ্যে রয়েছেন…
ব্রিটেনের বিতর্কিত অতি ডানপন্থী নেতা টমি রবিনসন দুই সাংবাদিককে হয়রানি এবং তাঁদের ওপর সহিংস হামলার আশঙ্কা তৈরি করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনা দুটি অভিযোগেই দোষী সাব্যস্ত করার পক্ষে রায় দিয়েছেন জুরিরা। ১০-২ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় এ রায় দেওয়া হয়।
রবিনসনের প্রকৃত নাম স্টিফেন ইয়াক্সলি-লেনন। ২০২৪ সালের আগস্টে যুক্তরাজ্যে দাঙ্গা চলাকালে তিনি সানবেডে শুয়ে দাঙ্গায় উসকানি দিচ্ছিলেন, এমন অভিযোগ নিয়ে ডেইলি মেইল ও এর সহযোগী সংবাদমাধ্যম মেইলঅনলাইন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে রবিনসনের প্রতিশোধমূলক আচরণের সঙ্গে মামলাটির সম্পর্ক রয়েছে।
সাউথপোর্টে তিন শিশুকন্যাকে হত্যার ঘটনার পর যুক্তরাজ্যে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় হামলাকারীর পরিচয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়েছিল। এ সময় রবিনসনও হত্যাকাণ্ড নিয়ে বারবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন।
মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় রবিনসনের সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণের পর সরকারি কৌঁসুলিরা তাঁকে ‘দাপট দেখিয়ে অন্যদের ভয় দেখানো ব্যক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
মামলার দুই ভুক্তভোগী হলেন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক অ্যান্ড্রু ইয়ং এবং ডেইলি মেইল-এর সম্পাদক জ্যাকব ডিরনহুবার। রবিনসনের কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। হামলার আশঙ্কায় তাঁদের হয় বাড়ি ছেড়ে যেতে হয়েছে, নয়তো অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের বিশেষ অপরাধ ও সন্ত্রাসবিরোধী বিভাগের প্রধান ফ্র্যাঙ্ক ফার্গুসন বলেন, ‘এই মামলায় জুরি ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের বক্তব্য শুনেছেন। শেষ পর্যন্ত তাঁরা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে এই আচরণ অপরাধের পর্যায়ে পড়েছে।’
ঘটনার সময় সাইপ্রাসে ছুটি কাটাচ্ছিলেন রবিনসন। সেখান থেকেই যুক্তরাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক পোস্ট দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ডেইলি মেইল সাংবাদিক অ্যান্ড্রু ইয়ং ও একজন আলোকচিত্রীকে সাইপ্রাসে পাঠায়।
মেইলঅনলাইন রবিনসনকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে ওই প্রতিবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক ইয়ং ও সম্পাদক ডিরনহুবারের সমালোচনা করেন তিনি।
এ ছাড়া সাংবাদিক দুজন এবং ডেইলি মেইল-এর প্রধান সম্পাদক টেড ভেরিটির বাসার ঠিকানা খুঁজে বের করতে ব্যক্তিগত গোয়েন্দাও নিয়োগ করেছিলেন রবিনসন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট ও ডিরনহুবারকে সরাসরি বার্তা পাঠানোর পাশাপাশি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ইয়ংয়ের সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপেও রবিনসনের আচরণ ক্রমেই হুমকিমূলক হয়ে ওঠে। ওই সময় তিনি ইয়ংকে বলেন, ‘আমি তোমাকে খুঁজে বের করতে আসছি।’
রায়ের পর রবিনসনকে নীরবে মাথা নাড়তে এবং জুরিদের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি রায়কে ‘পাগলামি’ বলে অভিহিত করেন।
এ মামলায় রবিনসনের আইনি লড়াইয়ের ব্যয় বহন করেন টেসলা ও এক্সের প্রধান ইলন মাস্ক।
বিচারক জন কাভানাগ আগামী ১৬ ডিসেম্বর সাজা ঘোষণার শুনানির আগে রবিনসনকে জামিন দিয়েছেন।

জুলাই মাসে টমি রবিনসনের সঙ্গে মুখোমুখি বসে একটি সাক্ষাৎকার ধারণ করেন পলিন হ্যানসন। ছবি: টুইটার/টিআরবিনসন নিউ এরা (TRobinsonNewEra)
দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে রবিনসন অস্ট্রেলিয়ার কয়েকজন রাজনীতিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে আলোচনায় আসেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন অস্ট্রেলিয়ার ওয়ান নেশন পার্টির নেতা পলিন হ্যানসন।
জুলাই মাসে যুক্তরাজ্য সফরের সময় হ্যানসনের সঙ্গে রবিনসনের সাক্ষাৎ হয়। হ্যানসন ওই সফরকে ‘তথ্য অনুসন্ধানী মিশন’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। এ সময় তিনি লন্ডনের কাছের রবিনসনের নিজ শহর লুটনে যান। সেখানে তাঁরা মুসলিমদের পরিচালিত বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন এবং অভিবাসন নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন।
হ্যানসন সম্পর্কে রবিনসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে বলেন, ‘তিনি অস্ট্রেলিয়ার পরবর্তী নেতা হওয়ার পথে রয়েছেন। যুক্তরাজ্যে যেসব সমস্যা দেখা যাচ্ছে, সেগুলোর অনেক কিছুই অস্ট্রেলিয়ায় আসতে পারে বলে তিনি আগেই বুঝতে পারছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘সে কারণেই তিনি এখানে এসেছেন। আমি তাঁকে আমার শহর ঘুরিয়ে দেখাব।’
পরে হ্যানসনকে দ্য টমি রবিনসন পডকাস্ট অনুষ্ঠানেও দেখা যায়।

কার্ল স্টেফানোভিচের সঙ্গে টমি রবিনসন (ডান পাশে)। ছবি: এক্স (সাবেক টুইটার)
এ ছাড়া জুন মাসে নাইন নেটওয়ার্ক ছাড়ার আগে সাবেক টুডে শো উপস্থাপক কার্ল স্টেফানোভিচের পডকাস্টেও অংশ নেন রবিনসন। এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে নাইন নেটওয়ার্কের সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম।
টমি রবিনসন এর আগেও হামলা, বন্ধকী ঋণসংক্রান্ত জালিয়াতি এবং আদালত অবমাননার ঘটনায় কারাদণ্ড ভোগ করেছেন।
২০০৯ সালে তিনি ইংলিশ ডিফেন্স লিগ (ইডিএল) প্রতিষ্ঠা করেন। ইসলামবিদ্বেষী ও অতি ডানপন্থী এই সংগঠনটি রাস্তায় বিক্ষোভের মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছিল। ২০১৩ সালের দিকে সংগঠনটির তৎপরতা কমে গেলেও ব্রিটেনের অন্যতম প্রভাবশালী অতি ডানপন্থী ব্যক্তিত্ব হিসেবে রবিনসনের অবস্থান বজায় থাকে। এখনো তাঁর আহ্বানে বিপুলসংখ্যক মানুষ রাস্তায় সমবেত হন।
সূত্র:নিউজ.কম.এইউ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au