নায়করাজ রাজ্জাকের ৫০ বছর পরে শাকিব খান!
ঢাকাই সিনেমায় একই নামে একাধিক চলচ্চিত্র নির্মাণের ঘটনা নতুন নয়। কখনো পুরোনো কোনো চলচ্চিত্রের নাম ধরে নতুন গল্প তৈরি হয়েছে, আবার কখনো একই নামের চলচ্চিত্রে…
নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে নিজ বাড়ির সামনে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বিতর্কিত ইসলামি বক্তা ইয়াহায়া মাসুসুকাকে। মৃত্যুর পর কবরে দুই ফেরেশতা এসে মৃত ব্যক্তিকে প্রশ্ন করেন, ইসলামে প্রচলিত এই বিশ্বাস নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বক্তব্য দেওয়ার কারণে তিনি আলোচনায় ছিলেন। তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিবিসির বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪৭ বছর বয়সী মাসুসুকা সোমবার সন্ধ্যায় কাতসিনা রাজ্যের দুতসিন মা শহরে নিজের বাড়ির সামনে অতিথিদের বিদায় জানাচ্ছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলে করে আসা দুই হামলাকারী তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। হামলায় তাঁর এক অতিথিও গুলিবিদ্ধ হন।
পরে আহত দুজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মাসুসুকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত ধর্মীয় বক্তব্যের ভিডিও প্রকাশ করতেন। পবিত্র কোরআনকে তাঁর বক্তব্যের প্রধান ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি হাদিসের কিছু বর্ণনা নিয়েও প্রশ্ন তুলতেন। বিশেষ করে মৃত্যুর পর কবরে দুই ফেরেশতা এসে মৃত ব্যক্তিকে প্রশ্ন করেন, ইসলামে বহুল প্রচলিত এই বিশ্বাস তিনি গ্রহণ করতেন না।
তাঁর এসব বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। একই সঙ্গে তাঁকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব হুমকির সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সরাসরি কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এর আগে হাদিস ও অন্যান্য ধর্মীয় শিক্ষা সম্পর্কে ভিন্ন বিশ্বাস পোষণ এবং এ নিয়ে সম্মানিত ইসলামি পণ্ডিতদের উপহাস করার অভিযোগে তাঁকে নয় মাস কারাগারে থাকতে হয়েছিল।
মাত্র ১৩ বছর বয়সে কোরআনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন মাসুসুকা। পরবর্তী সময়ে তিনি মিসরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন এবং ওমানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।
পরে নিজের বাড়িতে একটি স্টুডিও স্থাপন করেন তিনি। সেখানেই ধর্মীয় বক্তব্য রেকর্ড করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করতেন।
ধর্মীয় বিষয়ে বিতর্কিত মতামতের জন্য পরিচিত হলেও সহিংস উগ্রবাদ ও মৌলবাদের বিরোধিতা করতেন মাসুসুকা। নাইজেরিয়ায় মুসলিম ও খ্রিষ্টানদের মধ্যে আন্তধর্মীয় সংলাপ এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পক্ষে কথা বলতেন তিনি।
এ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে গত বছর তাঁকে ‘পিস অ্যাম্বাসেডর অ্যাওয়ার্ড’ দেয় নেটওয়ার্ক ফর গুড গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ট্রান্সপারেন্সি।
দুই স্ত্রী ও সাত সন্তানের জনক মাসুসুকা গত দুই দশকে নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে নিহত হওয়া পরিচিত মুসলিম ধর্মীয় বক্তাদের মধ্যে সর্বশেষ সংযোজন।
এ অঞ্চলে ধর্মীয় বক্তাদের হত্যার ঘটনায় সশস্ত্র গোষ্ঠী বোকো হারামের সংশ্লিষ্টতার নজির রয়েছে। ২০০৯ সালে সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করা গোষ্ঠীটি নিজেদের মতাদর্শ ও কর্মকাণ্ডের সমালোচনাকারী কয়েকজন ধর্মীয় বক্তাকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল।
বোকো হারাম পশ্চিমা সংস্কৃতি, শিক্ষা ও নাইজেরিয়ার ধর্মনিরপেক্ষ সরকারব্যবস্থার বিরোধিতা করে এবং একটি ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অনুসরণ করে।
নাইজেরিয়ায় কয়েক দশক ধরে জাতিগত ও ধর্মীয় সহিংসতা চলছে। গত ২৫ বছরে দেশটিতে হাজার হাজার মুসলিম ও খ্রিষ্টান প্রাণ হারিয়েছেন। তবে মাসুসুকার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au