বাংলাদেশ

শত শত প্রাণহানির পরও থামছে না গণপিটুনি, বিচার নিয়ে প্রশ্ন

  • 6:28 pm - October 30, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৩৮ বার
শত শত প্রাণহানির পরও থামছে না গণপিটুনি।ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশে গণপিটুনিতে প্রাণহানির ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৪ সাল থেকে এ ধরনের সহিংসতায় শত শত মানুষের মৃত্যু হলেও আলোচিত অনেক হত্যাকাণ্ডের বিচার এখনো শেষ হয়নি। সরকার বারবার কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়ায় দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন মানবাধিকারকর্মীরা।

এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অক্টোবর মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে গণপিটুনিতে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ঢাকায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে ৩২ বছর বয়সী পিকআপচালক জনিকে ঢাকার যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় দেখা করতে ফোন করেন তাঁর বন্ধু আরাফাত। সেখানে পৌঁছানোর পর জনিকে বিবিরবাগিচার ৪ নম্বর গেটের কাছে একটি স্থানীয় ক্লাবে নিয়ে যাওয়া হয়। ছিনতাইকারী সন্দেহে একদল ব্যক্তি তাঁকে মারধর করলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

এরপর সকাল ৬টার দিকে আরাফাত একই এলাকায় আরেক পিকআপচালক ২৭ বছর বয়সী মো. নিশাতকে ডেকে নেন। তাঁকেও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত নিশাতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সকাল ৯টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

নিশাতের বোন শারমিন আক্তারের অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালী হারুনসহ সাত থেকে আটজন এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে তাঁদের বাবা মো. মহসিনকেও মারধর করা হয় বলে তিনি দাবি করেন। শারমিনের ভাষ্য, পূর্বশত্রুতার জেরে তাঁর ভাইকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

তবে যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক হাসান কবির বলেন, মঙ্গলবার সকালে ওই এলাকায় একদল যুবক ছিনতাই করেছিল। স্থানীয় লোকজন তাদের ধাওয়া করলে দুজন ধরা পড়ে এবং গণপিটুনির শিকার হয়। বাকিরা পালিয়ে যায়।

এর মাত্র ছয় দিন আগে, ২১ অক্টোবর ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল চত্বরে অপহরণকারী সন্দেহে আলম শেখ নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি কাজের সন্ধানে ঢাকায় এসেছিলেন বলে জানা গেছে।

মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলেন, গণপিটুনি বলে পরিচিত এসব ঘটনা আসলে গণসহিংসতা, এমনকি প্রকাশ্য সন্ত্রাস। রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবেই এ ধরনের সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।

অন্যদিকে, পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) কামরুন মুনীরা দাবি করেছেন, গণপিটুনির খবর পেলেই পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে। আগের সময়ের তুলনায় এ ধরনের ঘটনা কমেছে এবং সামগ্রিক পরিস্থিতিরও উন্নতি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গত ১ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সিলেটে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের একটি স্থাপনা উদ্বোধনের পর গণপিটুনি মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, এ ধরনের সহিংসতা দমনে সরকার সতর্ক রয়েছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নতুন কোনো আইনের প্রয়োজন নেই, বিদ্যমান আইনেই যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

গণপিটুনিতে প্রাণহানির হিসাবে বড় পার্থক্য

গণপিটুনির ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা নিয়ে সরকারি হিসাবের সঙ্গে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যের বড় পার্থক্য রয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যের বরাতে বলা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬৩টি গণপিটুনির ঘটনায় ৪০ জন নিহত হয়েছেন। গত বছরের একই সময়ে ১০৭টি ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন ৬৩ জন। সে হিসাবে ঘটনার সংখ্যা কমেছে ৪১ দশমিক ১২ শতাংশ। আহতের সংখ্যাও ৮২ থেকে কমে ৬৫ হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাবে চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন ১৭১ জন, যা সরকারি হিসাবের চার গুণেরও বেশি। মানবাধিকার সহায়তা সংস্থার হিসাবে একই সময়ে ৩৯৮টি ঘটনায় ১৮৭ জন নিহত এবং ৪০১ জন আহত হয়েছেন।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে গণপিটুনিতে ১২৮ জন এবং ২০২৫ সালে ১৯৮ জন নিহত হন। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯৭ জনে। অন্যদিকে, মানবাধিকার সহায়তা সংস্থা ২০২৫ সালে ১৬৮ জনের মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত করেছে। সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ৪১৩টি ঘটনায় ২৫৯ জন নিহত হন।

গণপিটুনির শিকার ব্যক্তিদের হাসপাতালে নেওয়ার পরও তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। গত ১৩ অক্টোবর সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে ৩৮ বছর বয়সী ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে মারধর করা হয়। পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করলেও পরে একদল ব্যক্তি হাসপাতাল থেকে তাঁকে নিয়ে গিয়ে আবার মারধর করে। অন্য হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

আলোচিত হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচারপ্রক্রিয়া

গণপিটুনিতে আলোচিত কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়াও এখনো শেষ হয়নি।

২০২৫ সালের ৯ আগস্ট রংপুরে চুরির সন্দেহে রূপলাল দাস ও প্রদীপ দাসকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। বুড়িরহাট উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শত শত মানুষের তাঁদের মারধরের ভিডিও প্রকাশ্যে আসে। হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় আট পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। নিহতদের পরিবারের অভিযোগ, হত্যার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত রুবেল পাইকার জানুয়ারিতে জামিন পাওয়ার পর তাঁদের হুমকি দিয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁরা সাধারণ ডায়েরি ও অভিযোগ দায়ের করেছেন। তারাগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জানিয়েছেন, এ ঘটনায় ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং শিগগিরই অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে।

২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে চুরির সন্দেহে তোফাজ্জল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। প্রথমে পুলিশ ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয়। পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আরও ২৮ জনকে অন্তর্ভুক্ত করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয়। চলতি বছরের ১০ মার্চ ঢাকার একটি আদালত সম্পূরক অভিযোগপত্র গ্রহণ করে ২২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

একই দিন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শামীম আহমেদ ওরফে শামীম মোল্লাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। এ ঘটনায় পিবিআই এখনো তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়নি।

এ ছাড়া ২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে বিনোদপুর বাজারে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আবদুল্লাহ আল মাসুদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। প্রথমে স্থানীয় পুলিশ, পরে গোয়েন্দা পুলিশ এবং সবশেষে পিবিআই তদন্তের দায়িত্ব পেলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তদন্তেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির খবর পাওয়া যায়নি।

২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে পোশাকশ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে তাঁর মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ঘটনায় ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটনের মতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে গণপিটুনির ঘটনা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। জমি নিয়ে বিরোধ, ব্যক্তিগত শত্রুতা ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে বিভিন্ন গোষ্ঠী মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করছে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়ায় অনেকেই মনে করছেন, এসব অপরাধ করেও পার পাওয়া সম্ভব। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের অনেকে পরে জামিনে মুক্তি পাচ্ছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অধিকার-এর পরিচালক এ এস এম নাসিরুদ্দিন এলান বলেন, সহিংস জনতার অংশ হয়ে গেলে অনেক মানুষ ন্যায়-অন্যায়ের বোধ হারিয়ে ফেলেন। আবার ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংঘবদ্ধ জনতা তৈরি করা হয়। তাঁর মতে, সরকারকে এ ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে। অপরাধীদের শাস্তির পাশাপাশি বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে দেশব্যাপী সচেতনতামূলক প্রচার চালানো জরুরি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক তৌহিদুল হক বলেন, মানুষ যখন রাষ্ট্রের কাছ থেকে নিরাপত্তা পাওয়ার বিষয়ে আস্থা হারায়, তখন নিজের হাতে বিচার তুলে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ে। অতীতের সরকারগুলোর অপর্যাপ্ত পদক্ষেপ এবং সামাজিক বিভাজনের কারণে গণপিটুনিকে সমর্থন করার প্রবণতা অপরাধীদের আরও উৎসাহিত করেছে বলেও তিনি মনে করেন।

বারবার কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসের পরও গণপিটুনির ঘটনা অব্যাহত থাকা এবং আলোচিত হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার শেষ না হওয়ায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

সুত্রঃ দ্য ডেইলি স্টার

এই শাখার আরও খবর

নায়করাজ রাজ্জাকের ৫০ বছর পরে শাকিব খান!

ঢাকাই সিনেমায় একই নামে একাধিক চলচ্চিত্র নির্মাণের ঘটনা নতুন নয়। কখনো পুরোনো কোনো চলচ্চিত্রের নাম ধরে নতুন গল্প তৈরি হয়েছে, আবার কখনো একই নামের চলচ্চিত্রে…

হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও শেয়ার, সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তার মৃত্যু নিয়ে রহস্য

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করার ঘটনায় আলোচনায় আসা সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির মৃত্যু ঘিরে…

বন্ডাই হামলার অভিযুক্তের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ, মুক্তি পাচ্ছেন দণ্ডিত আইএস সদস্য

অস্ট্রেলিয়ার বন্ডাই বিচে ভয়াবহ হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত নাভিদ আকরামের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ থাকা দণ্ডিত ইসলামিক স্টেট (আইএস) সদস্য আইজ্যাক এল মাতারি আগামী রোববার কারাগার থেকে…

বছরে এক লাখ বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার সম্মতি দেয়নি জাপান

বাংলাদেশ থেকে বছরে এক লাখ কর্মী নেওয়ার বিষয়ে জাপান সরকার সম্মতি দিয়েছে বলে দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া খবর নাকচ করেছে টোকিও।…

সৌদি আরবে ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি হুতিদের

সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে তেল স্থাপনা, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও একটি সামরিক কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে এক দিনে ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে…

তাহসিফ সৌরির মৃত্যু: কিছু প্রশ্ন, প্রোপাগান্ডার অভিযোগ এবং বিচারের দাবি

সজীব ওয়াজেদ জয় :  রহস্যজনক মৃত্যুর মাত্র তিন মাস আগে এক পডকাস্টে তাহসিফ সৌরি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তার ওপর নেমে আসা ভয়াবহ…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au