তাহসিফের শেষ মুহূর্ত নিয়ে মুখ খুললেন দীপ, বললেন নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার কথা
বিমানবাহিনীর চাকরিচ্যুত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় আটক আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের দেওয়া তথ্য যাচাই করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।…
উত্তর প্রদেশে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে চরিত্র যাচাইয়ের নিয়ম কঠোর করেছে যোগী আদিত্যনাথের সরকার। সহিংস উপায়ে প্রচলিত রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থা পরিবর্তনের আন্দোলনে যুক্ত ব্যক্তিদের সরকারি চাকরিতে অযোগ্য বিবেচনার বিধান রাখা হয়েছে নতুন নির্দেশিকায়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলো। তাদের অভিযোগ, আন্দোলনের অধিকার খর্ব করতেই এ উদ্যোগ নিয়েছে বিজেপি সরকার।
ভারতের উত্তর প্রদেশে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধ জারি করেছে বিজেপিশাসিত রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশনায় সরকারি নিয়োগের আগে প্রার্থীদের চরিত্র যাচাই বা ক্যারেক্টার ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকারের জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সহিংস পন্থায় প্রচলিত ব্যবস্থার পরিবর্তন কিংবা সরকার পরিবর্তনের আন্দোলনে যুক্ত ব্যক্তিরা সরকারি চাকরির জন্য অযোগ্য বিবেচিত হতে পারেন।
এলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসরণ করে জারি করা এ বিধি রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ছাড়াও পৌরসভা, পৌর পরিষদ এবং স্থানীয় প্রশাসনিক সংস্থার নিয়োগের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে।
নতুন নির্দেশিকা প্রকাশের পরপরই রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমাজবাদী পার্টি (এসপি) ও কংগ্রেস সরকারের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে একে ‘কালা বিধি’ আখ্যা দিয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের মতো আন্দোলনকারীদের দমন করতে চাইছে যোগী সরকার।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘ভোটচুরি’র অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে বিরোধী দলগুলো। এ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছে কংগ্রেসসহ বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। আন্দোলনের কয়েকজন অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশের গণ-অভ্যুত্থান থেকে অনুপ্রেরণা পাওয়ার কথাও বলেছেন। কেউ কেউ একে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা সরকার পরিবর্তনের আন্দোলন হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
বিজেপি এসব বক্তব্যকে সামনে এনে আন্দোলনকে নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রচেষ্টা হিসেবে তুলে ধরছে। দলটির অভিযোগ, সহিংসতার মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়েই এসব কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। নতুন সরকারি নির্দেশিকাতেও এমন আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগ না দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, যেসব সংগঠনের ঘোষিত লক্ষ্য সহিংস পন্থায় প্রচলিত ব্যবস্থা পরিবর্তন করা, সেসব সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রার্থীদের সরকারি চাকরির জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা হতে পারে।
রাজ্য সরকারের নিয়োগ ও কর্মীবর্গ দপ্তরের মুখ্য সচিব এম দেবরাজের জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি ২১ বছর বয়স পূর্ণ করার পর থেকে চরিত্র যাচাইয়ের তারিখের আগের তিন বছরের মধ্যে এ ধরনের আন্দোলন বা কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলে তাঁকে ওই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত বলে বিবেচনা করা হবে। সে ক্ষেত্রে তিনি সরকারি চাকরির অযোগ্য হতে পারেন।
তবে ওই তিন বছরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আচরণ ও মনোভাবে ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁর আবেদন পুনর্বিবেচনার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ জন্য পরিবর্তনের পক্ষে অকাট্য প্রমাণ থাকতে হবে।
সরকার অবশ্য জানিয়েছে, কেবল রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কোনো প্রার্থীকে চাকরির অযোগ্য ঘোষণা করা হবে না। কারও বিরুদ্ধে এফআইআর থাকলেই কিংবা কোনো মামলার তদন্ত চলমান থাকলেই তাঁকে অযোগ্য বিবেচনা করা হবে না। আদালতে বেকসুর খালাস পাওয়া ব্যক্তি, আপস-মীমাংসার মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তি হওয়া ব্যক্তি কিংবা জুভেনাইল জাস্টিস আইনের আওতায় থাকা প্রার্থীদের ক্ষেত্রেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে অযোগ্যতার বিধান কার্যকর হবে না।
নির্দেশিকায় চরিত্র যাচাইয়ের প্রতিবেদন পেতে দেরি হলে নিয়োগপ্রক্রিয়া আটকে না রাখার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রার্থী স্বঘোষণাপত্র জমা দিয়ে সাময়িক বা প্রভিশনাল নিয়োগপত্র পেতে পারবেন। তবে পরবর্তী সময়ে চরিত্র যাচাইয়ের প্রতিবেদনে বিরূপ তথ্য পাওয়া গেলে কিংবা মিথ্যা তথ্য দিয়ে নিয়োগ নেওয়ার প্রমাণ মিললে নিয়োগ বাতিল করা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।
নতুন নির্দেশিকা জারির আগে যাঁরা সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়েছেন, তাঁদের চরিত্র নতুন করে যাচাই করা হবে না। তবে প্রয়োজন মনে করলে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন। কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিরূপ প্রতিবেদন পাওয়া গেলে তাঁকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
এদিকে বিরোধী ইন্ডিয়া জোট আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিরোধীদের ধারণা, উত্তর প্রদেশের তরুণদের এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখাও নতুন নির্দেশিকা জারির অন্যতম উদ্দেশ্য হতে পারে।
নির্দেশিকা জারির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উত্তর প্রদেশের ১১টি বিধান পরিষদ আসনের নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হয়। ফলাফলে দেখা যায়, আগের তুলনায় দুটি আসন বেশি পেয়েছে সমাজবাদী পার্টি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনী এলাকা বারানসির দুটি আসনেই বিজেপি প্রার্থীদের পরাজিত করেছেন এসপি প্রার্থীরা।
এবার ভারতের চার রাজ্যের বিধান পরিষদের মোট ২৮টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এসব আসনের ভোটার ছিলেন স্নাতক ও শিক্ষক শ্রেণির মানুষ। ফলাফল ঘিরে উত্তর প্রদেশের শিক্ষিত ভোটারদের মধ্যে বিজেপির জনপ্রিয়তা কমছে এবং বিরোধীদের সমর্থন বাড়ছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের নতুন বিধি বিজেপির জন্য রাজনৈতিকভাবে উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
নতুন বিধির বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেস। উভয় দলই একে ‘কালা বিধি’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
সমাজবাদী পার্টির অভিযোগ, ব্রিটিশ শাসনামলেও আন্দোলনকারীদের দেশদ্রোহী আখ্যা দিয়ে এ ধরনের নির্দেশ জারি করা হতো। স্বাধীন ভারতে আন্দোলন করার অধিকার সংবিধান স্বীকৃত। অথচ সরকারি চাকরি না দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তরুণদের সেই অধিকার থেকে দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করছে যোগী সরকার।
অন্যদিকে কংগ্রেসের বক্তব্য, বিরোধী আন্দোলনে সরকার ভীত হয়ে পড়েছে বলেই এমন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au