ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ২০
ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দিনিপ্রো শহরের একটি ব্যস্ত রেলস্টেশনে ড্রোন হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন…
বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলো থেকে মা ও তাঁর দুই মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যাকাণ্ড ও আত্মহত্যার কারণ সম্পর্কে তদন্তের তথ্য প্রকাশ করেছে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, বিভিন্ন এনজিও ও ব্যক্তির কাছ থেকে নেওয়া চার লাখ টাকার বেশি ঋণ পরিশোধের দুশ্চিন্তায় হতাশাগ্রস্ত হয়ে দুই মেয়েকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেন মা ইতি রানী (৩৪)।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মুকিত হাসান খাঁন।
পুলিশ জানায়, ইতি রানীর বড় মেয়ে আরাধ্যা বিশ্বাসের বয়স ছিল ১২ বছর এবং ছোট মেয়ে অনুরাধা বিশ্বাসের বয়স তিন বছর। সংসারের আর্থিক সংকট ও ঋণের চাপ সামলাতে না পেরে তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে বরগুনা পৌরসভার কড়ইতলা এলাকার বাসিন্দা দুলাল চন্দ্র বিশ্বাসের সঙ্গে বিয়ে হয় ইতি রানীর। তাঁদের সংসারে জন্ম নেয় দুই মেয়ে। দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস একটি ছোট দর্জির দোকান পরিচালনার পাশাপাশি সুপারির ক্ষুদ্র ব্যবসা করতেন। তবে সীমিত আয়ে সংসারের ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছিল।
সংসারের অভাব দূর করা এবং স্বামীর ব্যবসায় আর্থিক সহায়তা দিতে স্থানীয় পাঁচটি এনজিও থেকে ২ লাখ ২৭ হাজার ৭২৩ টাকা ঋণ নেন ইতি রানী। এ ছাড়া তাঁর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস একটি এনজিও থেকে ৮০ হাজার টাকা এবং দুজন ব্যক্তির কাছ থেকে আরও এক লাখ টাকা ধার নেন। সব মিলিয়ে স্বামী-স্ত্রীর নামে ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ লাখ ৭ হাজার ৭২৩ টাকা।
পুলিশের ভাষ্য, অধিকাংশ এনজিওর কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করলেও পুরো ঋণ শোধ করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন ইতি রানী। সংসারের আয় বাড়াতে তিনি বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলোয় পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে চাকরি নেন। ঘটনার প্রায় দুই মাস আগে তিনি সেখানে কাজ শুরু করেছিলেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ জুন বেলা ১১টার দিকে দুই মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে ডাকবাংলোয় যান ইতি রানী। ওই দিন দুপুরে ভবনটির তৃতীয় তলার একটি কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান অন্য কর্মীরা। পরে তাঁরা পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি কক্ষ থেকে বড় মেয়ে আরাধ্যা বিশ্বাসের মরদেহ উদ্ধার করে। অন্য একটি বন্ধ কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয় ইতি রানী ও তাঁর ছোট মেয়ে অনুরাধা বিশ্বাসের মরদেহ।
একই ঘটনায় মা ও দুই মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি হত্যা, নাকি আত্মহত্যা, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। পরে গত ৯ জুন নিহত ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে বরগুনা থানায় মামলা করেন।
মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, ইতি রানী ও তাঁর স্বামী বিভিন্ন এনজিও এবং ব্যক্তির কাছ থেকে মোট চার লাখ টাকার বেশি ঋণ নিয়েছিলেন। ঋণের বোঝা ও আর্থিক সংকট থেকে সৃষ্ট মানসিক চাপের কারণেই ইতি রানী দুই মেয়েকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুকিত হাসান খাঁন বলেন, ইতি রানীর স্বামীর কোনো জমিজমা নেই। তাঁদের কোনো পুত্রসন্তানও নেই। স্বামীর আর্থিক অসচ্ছলতা এবং বিভিন্ন এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের চাপে ইতি রানী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে ঋণসংক্রান্ত দুশ্চিন্তা থেকেই তাঁর আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি প্রতীয়মান হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মামলাটি এখনো তদন্তাধীন। অতি শিগগিরই আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au