নাইজেরিয়ায় দুই সেনাঘাঁটিতে হামলা, পাল্টা অভিযানে ৪৮ যোদ্ধা নিহত
নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বর্নো ও ইয়োবে রাজ্যে সামরিক অবস্থানে সমন্বিত হামলা চালানোর পর পাল্টা অভিযানে ৪৮ জন ইসলামপন্থী যোদ্ধা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।…
শিক্ষা, জীবনযাত্রার ব্যয়, সামরিক খাতে সরকারি বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং জলবায়ু সুরক্ষার দাবিতে জার্মানির ৩০টির বেশি শহরে আগামীকাল শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে তরুণদের একটি উদ্যোগ। ‘জেন-জি’ নামে প্রচারিত এই আন্দোলনে অংশ নিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তবে আন্দোলনের আয়োজক কারা এবং এর সাংগঠনিক কাঠামো কেমন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
আন্দোলনের প্রতি বিভিন্ন মহল থেকে সমর্থন জানানো হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংগঠনগুলো এখন পর্যন্ত এতে আনুষ্ঠানিকভাবে সংহতি প্রকাশ করেনি। জার্মানির ফেডারেল ছাত্রপ্রতিনিধি সংগঠন ‘বুন্দেশ শুলার কনফারেন্স’ও আয়োজকদের পরিচয় ও সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে অস্পষ্টতার কথা উল্লেখ করে প্রস্তাবিত বিক্ষোভ থেকে নিজেদের দূরে রেখেছে।
তবে সংগঠনটি আগামী ২০ নভেম্বর বার্লিনে নিজেদের উদ্যোগে পৃথক একটি প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। এতে শিক্ষক এবং অন্যান্য যুব আন্দোলনের প্রতিনিধিরাও অংশ নিতে পারেন বলে জানা গেছে।
জার্মানিতে আগামীকালের বিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিভিন্ন শহরের কর্তৃপক্ষ। সাম্প্রতিক সময়ে ফ্রান্সসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশে তরুণদের নেতৃত্বে হওয়া বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেওয়ায় জার্মানিতেও একই ধরনের পরিস্থিতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত বিক্ষোভে সহিংসতার কোনো সুনির্দিষ্ট আহ্বান তাদের নজরে আসেনি।
সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, পর্তুগাল ও আলবেনিয়ায় হাজার হাজার মানুষ বিভিন্ন দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন। কোথাও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কোথাও শিক্ষাব্যবস্থার সংকট, আবার কোথাও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ছিল আন্দোলনের মূল বিষয়। এসব বিক্ষোভের কয়েকটিতে সংঘর্ষ, দোকানপাটে লুটপাট, ব্যারিকেডে আগুন দেওয়া এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
জার্মানিতে প্রস্তাবিত বিক্ষোভের আয়োজক কারা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ‘জেন-জি’ নামের একটি উদ্যোগ থেকে কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হলেও এর পেছনে কারা রয়েছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আয়োজকদের ওয়েবসাইটে দেওয়া যোগাযোগের ঠিকানাও গত এক সপ্তাহে দুবার পরিবর্তন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সেখানে সুইজারল্যান্ডের একটি ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছিল।
টিকটক, ইনস্টাগ্রাম ও টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিক্ষোভের প্রচার চালানো হচ্ছে। দেশব্যাপী প্রচারণার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়েও কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
জার্মানির সম্প্রচারমাধ্যম এআরডির অনলাইন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আয়োজকদের পরিচয় ও সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে অস্পষ্টতার কারণে ফেডারেল ছাত্রপ্রতিনিধি সংগঠনটি বিক্ষোভে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রয়েছে। সংগঠনটির মতে, আন্দোলনের লক্ষ্য ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের পরিচয় স্পষ্ট না হওয়ায় এ কর্মসূচির সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হওয়া কঠিন।
তবে আন্দোলনের সাংগঠনিক কাঠামো দুর্বল বা অস্পষ্ট হওয়াকে অস্বাভাবিক মনে করছেন না বার্লিনের ফ্রাই ইউনিভার্সিটির আন্তবিষয়ক শান্তি ও সংঘাত গবেষণাকেন্দ্রের গবেষক ইয়ানিস ইউলিয়ান গ্রিম। তাঁর মতে, নতুন কোনো প্রতিবাদ আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে এমন সাংগঠনিক পরিস্থিতি দেখা যেতে পারে।
গ্রিম বলেন, বিশেষ করে আন্দোলনের শুরুতে ব্যক্তিগত যোগাযোগ, অনানুষ্ঠানিক নেটওয়ার্ক এবং ডিজিটাল যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নির্ভর করেই কর্মসূচি গড়ে ওঠে। সুস্পষ্ট দায়িত্ব বণ্টন, নির্দিষ্ট মুখপাত্র এবং পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক কর্মসূচিসহ একটি সংগঠিত কাঠামো তৈরি হতে সময় লাগে। এ প্রসঙ্গে তিনি জলবায়ু আন্দোলন ‘ফ্রাইডেস ফর ফিউচার’-এর উদাহরণ তুলে ধরেন।
ছয় দফা দাবিতে বিক্ষোভ
আয়োজকদের ওয়েবসাইটে আগামীকালের বিক্ষোভের জন্য ছয়টি দাবি তুলে ধরা হয়েছে। প্রথম দাবিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মাদকাসক্তি নিরাময় সহায়তা এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় অর্থ বরাদ্দ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এসব খাতে বাজেট কমানোর বিরোধিতা করেছেন আয়োজকেরা।
দ্বিতীয় দাবিতে সবার জন্য জীবনযাত্রার ব্যয় সহনীয় পর্যায়ে রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সংকট ও উদ্বেগকে সরকারি নীতিনির্ধারণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
তৃতীয় দাবিতে সমাজের সব শ্রেণির মধ্যে ব্যয়ের বোঝা ন্যায্যভাবে বণ্টনের কথা বলা হয়েছে। আয়োজকদের বক্তব্য, অর্থ সাশ্রয়ের চাপ শুধু তরুণ প্রজন্মের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না।
চতুর্থ দাবিতে সামরিক খাতে ব্যয় কমানো এবং বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণের বিরোধিতা করা হয়েছে। ১৮ বছর বয়স পার হওয়া তরুণদের সামরিক প্রশিক্ষণে নিয়োগের উদ্যোগের বিরোধিতা করে তাঁদের মতামত ছাড়া ভবিষ্যৎ-সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পঞ্চম দাবিতে মৌলিক অধিকার সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নজরদারি ব্যবস্থা ক্রমাগত সম্প্রসারণের বিরোধিতা করেছেন আন্দোলনের আয়োজকেরা।
ষষ্ঠ দাবিতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর জলবায়ু সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
গবেষক গ্রিমের মতে, ইউরোপের বিভিন্ন দেশের তরুণদের মধ্যে রাজনৈতিক অসহায়ত্ব এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার অভিজ্ঞতা ক্রমেই অভিন্ন হয়ে উঠছে। তাঁর ভাষ্য, গত কয়েক বছরে সামাজিক বৈষম্য বেড়েছে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অনেক দেশে শিক্ষাব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাবে সংকটে রয়েছে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সবচেয়ে বেশি বহন করতে হবে তরুণ প্রজন্মকেই।
জার্মানির পরিবেশবাদী দল গ্রিন পার্টির সভাপতি ফেলিক্স বানাসাকও আন্দোলনকারীদের সবাইকে সন্দেহের চোখে না দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। দেশটির সংবাদমাধ্যম নেটওয়ার্ক আরএনডিকে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, বিক্ষোভ শুরুর আগেই একে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করা কিংবা সব আন্দোলনকারীকে সহিংস গোষ্ঠীর সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক হবে না।
বানাসাকের মতে, এ ধরনের আগাম নেতিবাচক প্রচারণা বরং কিছু মানুষকে আরও উগ্র অবস্থানের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এর পরিবর্তে তরুণদের ন্যায্য দাবিগুলো নিয়ে রাজনৈতিকভাবে গঠনমূলক আলোচনা করা উচিত।
এদিকে জার্মানির নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত বিক্ষোভে সহিংসতার কোনো সুনির্দিষ্ট আহ্বান তাঁদের নজরে আসেনি। তবে বামপন্থী চরমপন্থী গোষ্ঠীর কিছু অংশ এবং বিদেশের কয়েকটি সংগঠন এই বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন জানিয়ে প্রচার চালাচ্ছে। জার্মানিতেও এ ধরনের গোষ্ঠী সহিংস আন্দোলনের প্রচারে যুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শিক্ষা, অর্থনৈতিক চাপ, সামরিক ব্যয়, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও জলবায়ু সুরক্ষার মতো বিষয়গুলোকে সামনে রেখে আয়োজিত এই বিক্ষোভ জার্মানির তরুণদের মধ্যে কতটা সাড়া ফেলে, তা শনিবারের কর্মসূচির পর স্পষ্ট হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au