বাংলাদেশ

বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা, তিন বছর পর ঢাকায় এসেছিলেন কিসিঞ্জার

  • 5:12 am - October 31, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১২২ বার
স্বাধীনতার তিন বছর পর সেই হেনরি কিসিঞ্জারই বাংলাদেশ সফরে আসেন। ছবিঃ সংগৃহীত

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন, গণহত্যার প্রতিবাদ জানানো মার্কিন কূটনীতিকদের উপেক্ষা এবং বঙ্গোপসাগরে সপ্তম নৌবহর পাঠানোর সিদ্ধান্তের কারণে হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশের মানুষের কাছে ব্যাপকভাবে সমালোচিত ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতায় যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন নিক্সন প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারক ছিলেন তিনি। এমনকি বাংলাদেশকে ‘ইন্টারন্যাশনাল বাস্কেট কেস’ বা আন্তর্জাতিক সহায়তানির্ভর ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে বর্ণনা করার বিতর্কও জড়িয়ে আছে তাঁর নামের সঙ্গে।

অথচ বাংলাদেশের স্বাধীনতার মাত্র তিন বছর পর, ১৯৭৪ সালের ৩০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ঢাকায় এসেছিলেন সেই হেনরি কিসিঞ্জার। স্বাধীন বাংলাদেশে মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কোনো প্রতিনিধির এটিই ছিল প্রথম সফর। প্রায় ২০ ঘণ্টার এই সফরে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনসহ বাংলাদেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন। আলোচনায় গুরুত্ব পায় বাংলাদেশের খাদ্যসংকট, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা, পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশের পাওনা সম্পদ এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক।

কিসিঞ্জারের সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ও বন্যার অভিঘাতে বিপর্যস্ত। খাদ্যসংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজন ছিল জরুরি। অন্যদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কূটনৈতিক স্বীকৃতি ও সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার চেষ্টাও চলছিল। ফলে বাংলাদেশের জন্মের বিরোধিতায় ভূমিকা রাখা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে বিশেষ তাৎপর্য বহন করেছিল।

মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ শুরু করে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বিচার হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। পাকিস্তানি বাহিনীর এই গণহত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন কনসাল জেনারেল আর্চার কে ব্লাড এবং কনস্যুলেটের কয়েকজন কর্মকর্তা ওয়াশিংটনে বার্তা পাঠান। তাঁদের প্রতিবাদ ছিল পাকিস্তানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত সমর্থনের বিরুদ্ধে।

কিন্তু তাঁদের সতর্কবার্তা ও প্রতিবাদ উপেক্ষা করে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের প্রশাসন পাকিস্তানের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখে। এমনকি মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে পাকিস্তানের পক্ষে বঙ্গোপসাগরে মার্কিন সপ্তম নৌবহরের অংশ হিসেবে ইউএসএস এন্টারপ্রাইজ পাঠানো হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থানের পেছনে বড় কৌশলগত কারণ ছিল পাকিস্তানের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক। সে সময় চীনের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছিল ওয়াশিংটন। এ ক্ষেত্রে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছিল। পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষাও যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বিবেচনা ছিল। এসব কারণে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পরিবর্তে নিক্সন প্রশাসন পাকিস্তানকে সমর্থন দিয়েছিল।

সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন হেনরি কিসিঞ্জার। পাকিস্তানের প্রতি নিক্সন প্রশাসনের সমর্থনমূলক নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এ কারণে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় তাঁর ভূমিকা এ দেশে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ মন্তব্যের বিতর্ক

বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলার অভিযোগও দীর্ঘদিন ধরে কিসিঞ্জারের নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। তবে ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ওয়াশিংটনে দক্ষিণ এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে ওয়াশিংটন স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপের এক বৈঠকে মন্তব্যটি করেছিলেন মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট ফর পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স ইউরাল এলেক্সিস জনসন।

ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করছিলেন তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হেনরি কিসিঞ্জার। বাংলাদেশকে সহায়তা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে জনসন বলেন, ‘তারা (বাংলাদেশ) হবে ইন্টারন্যাশনাল বাস্কেট কেস।’ জবাবে কিসিঞ্জার বলেন, ‘হ্যাঁ, তবে শুধু আমাদের বাস্কেট কেস না।’

দৈনিক ইত্তেফকের ৩০ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদ। ছবিঃ সংগৃহীত

বৈঠকের কার্যবিবরণী থেকে বোঝা যায়, ‘বাস্কেট কেস’ কথাটি সরাসরি কিসিঞ্জার বলেননি। মন্তব্যটি করেছিলেন জনসন। তবে কিসিঞ্জারও সেই বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ‘বাস্কেট কেস’ শব্দবন্ধটি ব্যবহৃত হতে থাকে। এর মাধ্যমে বোঝানো হতো, বাংলাদেশকে যত সহায়তাই দেওয়া হোক, তা দেশটির পরিস্থিতি পরিবর্তনে যথেষ্ট হবে না।

তাজউদ্দীনের পদত্যাগের চার দিন পর ঢাকায় কিসিঞ্জার

কিসিঞ্জারের ঢাকা সফরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও ছিল উল্লেখযোগ্য। তাঁর আসার মাত্র চার দিন আগে, ২৬ অক্টোবর বাংলাদেশের তৎকালীন অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ পদত্যাগ করেন। স্বাধীনতার পরপরই তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশ কখনো যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য নেবে না। এমন একজন অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগের কয়েক দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফর রাজনৈতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল।

১৯৭৪ সালের ৩০ অক্টোবর বেলা দেড়টায় স্ত্রী ন্যান্সি কিসিঞ্জারসহ ৭৭ সদস্যের প্রতিনিধিদল নিয়ে ঢাকায় পৌঁছান হেনরি কিসিঞ্জার। তখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ডের প্রশাসনে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর আগে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন।

ঢাকার বিমানবন্দরে কিসিঞ্জার ও তাঁর প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন এবং তাঁর স্ত্রী। সফর ঘিরে রাজধানীতে নেওয়া হয়েছিল কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। কিসিঞ্জারের ব্যবহারের জন্য দিল্লি থেকে আনা হয়েছিল কালো রঙের একটি বুলেটপ্রুফ লিমুজিন গাড়ি।

ন্যান্সি কিসিঞ্জারকে সংবর্ধনা দেয় বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মহিলা ফেডারেশন নামের একটি সংগঠন। ওই অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী শাহনাজ রহমতুল্লাহ। নৃত্য পরিবেশন করেন অঞ্জনা রহমান।

ঢাকায় অবস্থানকালে কিসিঞ্জার প্রথমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। ৩০ অক্টোবর বেলা তিনটা থেকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় প্রায় দুই ঘণ্টা তাঁদের আলোচনা হয়। পরে বিকেল সাড়ে পাঁচটা থেকে সন্ধ্যা পৌনে সাতটা পর্যন্ত গণভবনে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকটি স্থায়ী হয় প্রায় ৭৫ মিনিট।

এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদউল্লাহর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন কিসিঞ্জার। রাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া আনুষ্ঠানিক ভোজসভায় অংশ নেন তিনি।

বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন কিসিঞ্জার। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ২০২২ সালের ৫ আগস্ট প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সংবাদ সম্মেলনটি স্থায়ী হয়েছিল প্রায় তিন মিনিট। সেখানে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ১৯৭১ সালে কেন মার্কিন রণতরি ইউএসএস এন্টারপ্রাইজ বঙ্গোপসাগরে পাঠানো হয়েছিল। তবে প্রশ্নটির উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানান কিসিঞ্জার।

বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে বৈঠকে খাদ্যসংকট ও পাকিস্তানের কাছে পাওনা নিয়ে আলোচনা

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত ঐতিহাসিক নথিতে ১৯৭৪ সালের ৩০ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও হেনরি কিসিঞ্জারের বৈঠকের বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়। বৈঠকের শুরুতে কুশল বিনিময়ের পরই পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশের প্রাপ্য সম্পদ এবং বাংলাদেশে আটকে পড়া কয়েক লাখ বিহারির প্রত্যাবাসনের বিষয়টি তোলেন শেখ মুজিব।

দেশের ভয়াবহ খাদ্যসংকটের চিত্র তুলে ধরে বঙ্গবন্ধু জানান, তিনি সারা দেশে ৫ হাজার ৩০৩টি লঙ্গরখানা চালু করেছেন। এসব কেন্দ্রে প্রতিদিন প্রায় এক লাখ মানুষকে খাবার দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, দেশের পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন। এর সঙ্গে ওই বছরের বন্যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।

এ সময় কিসিঞ্জার জানতে চান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টোর সঙ্গে এসব বিষয় নিয়ে শেখ মুজিব আলোচনা করবেন কি না। জবাবে বঙ্গবন্ধু বলেন, কিসিঞ্জার চাইলে ভুট্টোর সঙ্গে কথা বলতে পারেন। তবে শুধু আলোচনা করলেই হবে না, বাস্তব সহায়তাও প্রয়োজন। বাংলাদেশের মানুষ যে অনাহারে মারা যাচ্ছে, তা পাকিস্তানের জানা উচিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বৈঠকে খাদ্য উৎপাদন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠন নিয়েও আলোচনা হয়। সফরের আগে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে দেড় লাখ টন খাদ্যশস্য দিয়েছিল। নতুন করে আরও এক লাখ টন খাদ্যশস্য দেওয়ার আশ্বাসের জন্য কিসিঞ্জারকে ধন্যবাদ জানান শেখ মুজিব। জবাবে কিসিঞ্জার বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এ সহায়তা অপরিহার্য।

দৈনিক ইত্তেফাকের ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদ। ছবিঃ সংগৃহীত

শেখ মুজিব জানান, বাংলাদেশের আরও এক থেকে দুই বছর খাদ্যসহায়তা প্রয়োজন। দেশকে স্বনির্ভর করতে ব্যাপক সহযোগিতা দরকার। শিল্পের জন্য কাঁচামাল সরবরাহ, পাটের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা এবং খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে প্রযুক্তিগত সহায়তার বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি সার উৎপাদন এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় খাদ্যশস্যের মজুত গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

বৈঠকে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। শেখ মুজিব বলেন, বাংলাদেশ দুর্ভাগ্যজনকভাবে চীনের কাছ থেকে কোনো সহায়তা বা স্বীকৃতি পাচ্ছে না। জবাবে কিসিঞ্জার বলেন, তাঁর ধারণা, শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ চীনের সহায়তা ও স্বীকৃতি পাবে। তবে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত চীন অপেক্ষা করতে পারে।

এর আগে ১৯৭৪ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের ২৯তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। ১ অক্টোবর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ডের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়। ঢাকায় কিসিঞ্জার সেই বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে জানান, বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলোচনার পর ফোর্ড বাংলাদেশকে খাদ্যসহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও কী করা যায়, তা খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।

বৈঠকের একপর্যায়ে শেখ মুজিব কিসিঞ্জারকে সরকারের পরিচালিত লঙ্গরখানাগুলো পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান। তিনি দেশের মানুষের খাদ্যসংকট, গবাদিপশুর মৃত্যু, কর্মসংস্থানের অভাব এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমের চাপের কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের জন্য তখন খাদ্যসহায়তার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও পুনর্গঠন ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।

বঙ্গবন্ধু জানান, ওই বছরের বন্যায় দেশের ১৭টি জেলা পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছিল। খাদ্যসহায়তার পাশাপাশি বন্যা নিয়ন্ত্রণেও যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চান তিনি। বৈঠকে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য পরিকল্পনা, ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়েও আলোচনা হয়।

আলোচনার শেষ পর্যায়ে শেখ মুজিব বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের নীতি হচ্ছে, ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বিদ্বেষ নয়।’ এরপর কিসিঞ্জার ও বঙ্গবন্ধু আলাদা একটি কক্ষে গিয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন।

খাদ্যসহায়তার আশ্বাস ও যৌথ ইশতেহার

কিসিঞ্জারের সফর শেষে দুই দেশের পক্ষ থেকে একটি যৌথ ইশতেহার প্রকাশ করা হয়। ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত বিভিন্ন পত্রিকার প্রধান খবরেও উঠে আসে খাদ্যসহায়তা ও বাংলাদেশের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি।

দৈনিক বাংলার প্রধান শিরোনাম ছিল ‘খাদ্যসমস্যা সমাধান ও উন্নয়নে সাহায্যের আশ্বাস’। পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে বৈঠকের পর কিসিঞ্জার সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশের খাদ্যসমস্যা সমাধান এবং উন্নয়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সাধ্যমতো সব ধরনের সহযোগিতা করবে। খাদ্য উৎপাদন বাড়াতেও সম্ভাব্য সহায়তা দিতে প্রস্তুত দেশটি।

এক প্রশ্নের জবাবে কিসিঞ্জার বলেন, নবীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সামনে বড় সমস্যা হলো, একের পর এক সংকট তাদের সম্পদের কার্যকর ব্যবহার বাধাগ্রস্ত করে। এতে উন্নয়নের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।

বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন জানান, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও এক লাখ টন গম আসবে। পিএল-৪৮০ কর্মসূচির আওতায় ওই বছর বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের মোট গমসহায়তার পরিমাণ দাঁড়াবে আড়াই লাখ টন।

পিএল-৪৮০ যুক্তরাষ্ট্রের একটি খাদ্যসহায়তা কর্মসূচি। এর পূর্ণ নাম পাবলিক ল ৪৮০। ১৯৫৪ সালে দেশটির কংগ্রেসে ‘অ্যাগ্রিকালচারাল ট্রেড ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাক্ট’ নামে আইনটি পাস হয়। পরবর্তী সময়ে কর্মসূচিটি ‘ফুড ফর পিস’ নামে পরিচিতি পায়। এর আওতায় খাদ্যসংকটে থাকা দেশগুলোকে অনুদান ও সহজ শর্তে খাদ্যশস্য সরবরাহ করা হতো। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্যের উদ্বৃত্ত মজুত ব্যবহার এবং দেশটির আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক স্বার্থ এগিয়ে নেওয়াও ছিল কর্মসূচিটির অন্যতম উদ্দেশ্য।

৩১ অক্টোবর দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত যৌথ ইশতেহারে বলা হয়, উপমহাদেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতির স্বার্থে আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সন্তোষজনক সমাধান প্রত্যাশা করে দুই দেশ। কিসিঞ্জারের সঙ্গে বাংলাদেশের নেতাদের আলোচনা হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

ইশতেহারে গত তিন বছরে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সহায়তার জন্য বাংলাদেশের সন্তোষ প্রকাশ এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নে মার্কিন সরকারের সহযোগিতার সংকল্পকে স্বাগত জানানোর কথা বলা হয়। দুই দেশ যোগাযোগ অব্যাহত রাখা এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও উন্নত করতে সব পর্যায়ে মতবিনিময়ের আগ্রহ প্রকাশ করে।

এতে আরও বলা হয়, জাতিসংঘে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির সময় বঙ্গবন্ধু ও কামাল হোসেনের যুক্তরাষ্ট্র সফরে যে আলোচনা শুরু হয়েছিল, তার ধারাবাহিকতায় কিসিঞ্জারের এই সফর অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বিশ্বশান্তি, মধ্যপ্রাচ্যে সমঝোতার প্রচেষ্টা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট নিয়েও আলোচনা হয়।

কিউবা ইস্যুতে আটকে গিয়েছিল খাদ্যসহায়তা

বাংলাদেশের খাদ্যসহায়তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানাপোড়েনের অন্যতম কারণ ছিল কিউবা ইস্যু। খাদ্যের উচ্চমূল্য, আমদানি ব্যয় বহনে অক্ষমতা এবং সরবরাহের ঘাটতির কারণে ১৯৭৩ সালের মাঝামাঝি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে খাদ্যসহায়তা চেয়েছিল বাংলাদেশ।

অধ্যাপক রেহমান সোবহান তাঁর ‘খাদ্য ও দুর্ভিক্ষের রাজনীতি’ শীর্ষক প্রবন্ধে লিখেছেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন (বিজেএমসি) কিউবার কাছে প্রায় ৫০ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের ৪০ লাখ পাটের বস্তা বিক্রির চুক্তি করেছিল। এই চুক্তির পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে খাদ্যসহায়তা পাঠানোর বিষয়টি পিছিয়ে যেতে থাকে।

১৯৭৪ সালের মার্চ থেকেই বাংলাদেশে খাদ্যসংকটের লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে। জুনের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। জুলাই থেকে অক্টোবর ছিল দুর্ভিক্ষের সবচেয়ে ভয়াবহ সময়। একই বছরের এপ্রিল-মে মাসে শুরু হওয়া বন্যা জুলাইয়ে চরম আকার ধারণ করে। পরে পানি কমে গেলেও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি ও খাদ্যের উচ্চমূল্য সংকটকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

উইকিলিকসের ফাঁস করা একটি নথিতে দেখা যায়, ১৯৭৪ সালের ৬ আগস্টের এক মার্কিন তারবার্তায় কিউবা-সংক্রান্ত বিরোধের কারণে বাংলাদেশে অতিরিক্ত খাদ্যশস্য পাঠানো আটকে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল।

অন্যদিকে, ৪ অক্টোবর মার্কিন কংগ্রেসের কংগ্রেশনাল রেকর্ডে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভবিষ্যতে কিউবায় পাটের বস্তা পাঠানো বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ। এর ফলে এক লাখ টন গম ও ৫০ হাজার টন চাল সরবরাহের চুক্তি কয়েক দিনের মধ্যে হওয়ার কথা ছিল। এর ২৬ দিন পর ঢাকায় আসেন কিসিঞ্জার।

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড ইউনিভার্সিটির স্কুল অব পাবলিক পলিসির অধ্যাপক আই এম ডেস্টলারের ১৯৭২ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি নিয়ে করা এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ১৯৭৪ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের খাদ্যসংকট যখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়, তার আগে অধিকাংশ মার্কিন খাদ্যশস্য বাংলাদেশে পৌঁছায়নি। ওই বছরের আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র ৬৮ হাজার টন খাদ্যশস্য পৌঁছেছিল।

১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন হিসাব

১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে কত মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, তা নিয়ে বিভিন্ন হিসাব রয়েছে। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন তাঁর ‘দারিদ্র্য ও দুর্ভিক্ষ’ বইয়ে সরকারি হিসাবের বরাতে ২৬ হাজার মানুষের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করেছেন।

একই বইয়ে গবেষক মহিউদ্দিন আলমগীরের ‘দক্ষিণ এশিয়ায় দুর্ভিক্ষ: গণঅনাহারের রাজনৈতিক অর্থনীতি’ বইয়ের তথ্য উদ্ধৃত করে তিনি লিখেছেন, ১৯৭৪ সালের আগস্ট থেকে ১৯৭৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত দুর্ভিক্ষে প্রায় ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। পরবর্তী মাসগুলোতে কলেরা, গুটিবসন্ত, ডায়রিয়া ও আমাশয়ের মতো রোগের পরোক্ষ প্রভাবে আরও প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

খাদ্যসংকটে মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগের সেই সময়কে ধারণ করে আছে কবি রফিক আজাদের বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি, ‘ভাত দে হারামজাদা/ তা না হলে মানচিত্র খাবো’। যুদ্ধের ক্ষত কাটিয়ে ওঠার আগেই দুর্ভিক্ষ ও ভয়াবহ বন্যার মুখোমুখি হয়েছিল মাত্র তিন বছর বয়সী বাংলাদেশ। এমন এক পরিস্থিতিতেই ঢাকায় এসেছিলেন কিসিঞ্জার।

বিশ্বব্যাংকের ১৯৭৫ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৭৪ সালের বন্যায় খাদ্যশস্যের ব্যাপক ক্ষতি, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, পর্যাপ্ত মজুতের অভাব এবং সময়মতো খাদ্যসহায়তা না পৌঁছানোর কারণে দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ওই বছরের নভেম্বর থেকে বাংলাদেশে খাদ্যশস্যের আগমন বাড়তে শুরু করে। অর্থাৎ কিসিঞ্জারের ঢাকা সফরের পর যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্যসহায়তার বড় অংশ বাংলাদেশে পৌঁছায়।

কিসিঞ্জারের মৃত্যু ও বাংলাদেশের পরবর্তী অগ্রগতি

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে মার্কিন কূটনীতির অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ছিলেন হেনরি কিসিঞ্জার। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। ২০২৩ সালের ২৯ নভেম্বর ১০০ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের আর্লিংটন ন্যাশনাল সিমেট্রিতে তাঁকে সমাহিত করা হয়েছে।

কিসিঞ্জারের জীবদ্দশাতেই বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করে। খাদ্য উৎপাদন, দারিদ্র্য হ্রাস, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন সূচকে এগিয়েছে দেশটি। একসময় যে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল, সেই বাংলাদেশ পরবর্তী সময়ে উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজস্ব সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে।

১৯৭৪ সালের ৩০ অক্টোবরের ঢাকা সফর তাই শুধু একজন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কূটনৈতিক সফর ছিল না। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত ভূমিকা, যুদ্ধোত্তর খাদ্যসংকট, আন্তর্জাতিক সহায়তার রাজনীতি এবং নবীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান প্রতিষ্ঠার ইতিহাস।

লেখকঃ আসিফ হাওলাদার

মূল প্রতিবেদনঃ প্রথম আলো

এই শাখার আরও খবর

কানাডায় স্থায়ী বসবাসের বড় সুযোগ, যাদের মিলছে অগ্রাধিকার

কানাডায় স্থায়ী বসবাসের (পিআর) সুযোগ পেতে ফরাসি ভাষায় দক্ষ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য বড় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দেশটির এক্সপ্রেস এন্ট্রি ব্যবস্থায় চলতি বছরের ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত ফরাসিভাষী…

জার্মানির ৩০টির বেশি শহরে শনিবার জেন-জি বিক্ষোভের ডাক

শিক্ষা, জীবনযাত্রার ব্যয়, সামরিক খাতে সরকারি বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং জলবায়ু সুরক্ষার দাবিতে জার্মানির ৩০টির বেশি শহরে আগামীকাল শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে তরুণদের একটি…

নাইজেরিয়ায় দুই সেনাঘাঁটিতে হামলা, পাল্টা অভিযানে ৪৮ যোদ্ধা নিহত

নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বর্নো ও ইয়োবে রাজ্যে সামরিক অবস্থানে সমন্বিত হামলা চালানোর পর পাল্টা অভিযানে ৪৮ জন ইসলামপন্থী যোদ্ধা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।…

ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা অ্যাটাশের বৈঠক

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে ঢাকায় সাক্ষাৎ করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে ব্রিগেডিয়ার মুহাম্মদ ইমরান ইউসুফ চৌধুরী। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে ঢাকার কুর্মিটোলা গলফ…

নাসিরনগরে সাম্প্রদায়িক হামলার ১০ বছর, বিচার হয়নি এখনো

ওটিএন বাংলা রিপোর্ট : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও মন্দিরে সাম্প্রদায়িক হামলার ১০ বছর পূর্ণ হয়েছে আজ। ২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর ফেসবুকে ধর্ম অবমাননাকর…

পাবনায় বজ্রপাতে শিশুসহ ৬ জনের মৃত্যু

পাবনার সদর উপজেলায় বজ্রপাতে শিশুসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নের সোনাপাতির বিলে এ…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au