হংকংয়ে সমুদ্রের তলা দিয়ে ট্রেনযাত্রার অনন্য অভিজ্ঞতা
সমুদ্রের গভীরে সাবমেরিনে চড়ে ভ্রমণের অনুভূতি পেতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন হংকংয়ের ওশান পার্কে। সেখানে রয়েছে ‘ওশান এক্সপ্রেস’ নামে বিশেষ এক ট্রেন, যা যাত্রীদের নিয়ে…
রাশিয়ার ক্রমাগত বিমান ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেনের কাছে ৫০০টি অত্যাধুনিক প্যাট্রিয়ট পিএসি-৩ ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনে পৌঁছাতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তার মতে, ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার জন্য এসব ক্ষেপণাস্ত্র প্রয়োজন এখনই, কয়েক বছর পর নয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর আনুমানিক মূল্য ২১০ কোটি ডলার, যা প্রায় ১৬০ কোটি পাউন্ডের সমান। তবে এই বিক্রিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব কোনো তহবিল ব্যবহার করা হচ্ছে না। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, জার্মানি ও নরওয়ের অনুদান ও আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর সম্পূর্ণ ব্যয় মেটানো হবে। যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন এগুলোর প্রধান ঠিকাদার হিসেবে উৎপাদনের দায়িত্ব পালন করবে।
সামনে শীত মৌসুমকে কেন্দ্র করে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোয় রাশিয়ার হামলা বেড়েছে। এসব হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে আসায় দেশটি উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান জেলেনস্কি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইউক্রেনের এই আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এখনই প্রয়োজন। কয়েক বছর পর ক্ষেপণাস্ত্রগুলো পৌঁছালে তা বর্তমান পরিস্থিতির জন্য যথেষ্ট হবে না।
তবে দ্রুত সরবরাহের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে উৎপাদন সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর মাত্র ৬০০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা হয়। বিশ্বজুড়েও এসব ক্ষেপণাস্ত্রের চাহিদা ও ঘাটতি রয়েছে। ফলে নতুন করে অনুমোদিত ৫০০টি ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করে ইউক্রেনে পাঠাতে সময় লাগবে। এ কারণে দেশটি দ্রুত সরবরাহ পাওয়ার সম্ভাবনা কম।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেনীয় নেতৃত্বের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির এ সিদ্ধান্ত এসেছে। সম্প্রতি ট্রাম্প ইউক্রেনে নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে নরওয়ের রাজধানী অসলোতে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পর সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত জি-২০ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকেও ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে। বৈঠকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের উপস্থিতির প্রতিবাদে ইউরোপীয় কূটনীতিকেরা যৌথ ছবিতে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানান। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও সরাসরি রাশিয়াকে এই যুদ্ধের একমাত্র আগ্রাসী শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
সব মিলিয়ে, ইউক্রেনের জন্য ৫০০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির মার্কিন অনুমোদন দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হলেও সরবরাহে দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে। রাশিয়ার হামলা অব্যাহত থাকায় দ্রুত ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়াই এখন ইউক্রেনের জন্য সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au