সংস্কার ছাড়া নিম্ন প্রবৃদ্ধির ফাঁদ থেকে বের হতে পারবে না বাংলাদেশ
প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত সংস্কার না হলে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন নিম্ন প্রবৃদ্ধি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও কর্মসংস্থানের সংকটে আটকে থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছেন অর্থনীতিবিদ ড. ফাহমিদা…
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী ইউনিয়নের ছোটখাল এলাকায় গভীর নলকূপ খননের সময় ভূগর্ভ থেকে বের হওয়া গ্যাসের সঙ্গে এবার তরল হাইড্রোকার্বন বা তেলের উপস্থিতিও পেয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। টানা কয়েক দিন ধরে জ্বলতে থাকা আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে আরও অন্তত ১৫ দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান বাপেক্সের পরিচালক (অপারেশন) মোহাম্মদ শরীফ। তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে গ্যাসের সঙ্গে তরল হাইড্রোকার্বন বা তেলের উপস্থিতি দেখা গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত হতে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর এ বিষয়ে চূড়ান্তভাবে বলা সম্ভব হবে।
বাপেক্সের এই কর্মকর্তা আরও জানান, ভূগর্ভে গ্যাসের স্তর প্রায় ২ থেকে ৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ কারণে তাড়াহুড়া করে আগুন নেভানোর পরিবর্তে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ধাপে ধাপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
মোহাম্মদ শরীফ বলেন, আগুন নেভানোর আগে গ্যাসের চাপ, প্রবাহ এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তাড়াহুড়া করে আগুন নিভিয়ে ফেললে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ চলছে। পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে আরও প্রায় ১৫ দিন সময় লাগতে পারে।
গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৬টার দিকে ইনানীর ছোটখাল এলাকার মোহাম্মদ আবদুল্লাহর বাড়িতে গভীর নলকূপ খননের কাজ চলছিল। এ সময় হঠাৎ ভূগর্ভ থেকে প্রচণ্ড বেগে গ্যাস বের হতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে আগুন ধরে যায়। এরপর থেকে টানা জ্বলছে আগুন।
ঘটনার পর থেকে ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে। নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে ঘটনাস্থল থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে দীর্ঘ সময় ধরে আগুন জ্বলতে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আগুনের প্রভাব পরিবেশ ও জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। তবে বাপেক্স জানিয়েছে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার মান অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরীক্ষাগারের ফলাফলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেলের উপস্থিতি নিশ্চিত হলে ইনানী এলাকার ভূতাত্ত্বিক সম্ভাবনা নিয়ে আরও বিস্তৃত অনুসন্ধানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে নমুনা পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au