কারওয়ান বাজারের বিএসইসি ভবনে বারবার আগুন, এখন কতটা নিরাপদ?
ওটিএন বাংলা রিপোর্ট : রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশন (বিএসইসি) ভবনে একাধিকবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ২০০৭ সালে ভয়াবহ আগুনে প্রাণহানি, ২০১০ সালে…
আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আগামী দুই বছরের জন্য কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন রাজনৈতিক দলের হাতে থাকবে, তা নির্ধারিত হবে। তবে নির্বাচনের নির্ধারিত দিনের আগেই ভোটারদের ব্যাপক অংশ ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ইতোমধ্যে প্রায় ৪ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন নাগরিক আগাম ভোট দিয়েছেন। ভোটের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগাম ভোটের পাশাপাশি সামগ্রিক ভোটার উপস্থিতিতেও নতুন রেকর্ড তৈরি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে ভোটাররা নির্ধারিত নির্বাচনের দিনের আগে সরাসরি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে অথবা ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ পান। ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন গবেষণাগারের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০ লাখ আগাম ভোট পড়ছে। আগের অধিকাংশ নির্বাচনের তুলনায় এই সংখ্যা অনেক বেশি।
নির্বাচন গবেষণাগারের পরিচালক অধ্যাপক মাইক ম্যাকডোনাল্ড জানিয়েছেন, টেক্সাসে সাধারণত যে পরিমাণ ভোট পড়ে, এবার আগাম ভোটে ইতোমধ্যে তার চেয়ে বেশি ভোটারের অংশগ্রহণ দেখা যাচ্ছে। হিস্পানিক সম্প্রদায়ের মধ্যেও স্বাভাবিকের তুলনায় ভোট দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে।
ম্যাকডোনাল্ডের ধারণা, এবার সামগ্রিক ভোটার উপস্থিতি ২০২০ সালের নির্বাচনকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। এমনকি ২০১৮ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটার উপস্থিতির রেকর্ডও ভেঙে যেতে পারে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ১৯১৪ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের রেকর্ড ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
তিনি জানান, ২০২২ সালে টেক্সাসে প্রায় ১৭ লাখ ৫০ হাজার আগাম ভোট পড়েছিল। কিন্তু এবার সেই সংখ্যা অনেক আগেই ছাড়িয়ে গেছে।
যেসব অঙ্গরাজ্যে ভোটারদের নিবন্ধনের সময় রাজনৈতিক দলের পরিচয় উল্লেখ করতে হয়, সেখানকার তথ্য অনুযায়ী, এবার ডেমোক্র্যাটদের আগাম ভোটের সংখ্যা বেড়েছে। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের আগাম ভোটের সংখ্যা ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় প্রায় একই রয়েছে। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত না করা ভোটারদের মধ্যেও আগাম ভোট দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। তবে তাঁরা কোন দলের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন, তা এসব তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে না।
বৃহস্পতিবারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগাম ভোটের ৪৪ শতাংশ দিয়েছেন ডেমোক্র্যাট ভোটাররা। রিপাবলিকান ভোটারদের অংশ ৩১ দশমিক ২ শতাংশ। বাকি ২৪ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট দিয়েছেন এমন ভোটাররা, যাঁদের কোনো দলীয় পরিচয় নেই। তবে এই হিসাব যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় অর্ধেক অঙ্গরাজ্যের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যেখানে ভোটারদের দলীয় পরিচয় নিবন্ধন বাধ্যতামূলক।
নর্থ ক্যারোলাইনা, জর্জিয়া ও ফ্লোরিডায় ভোটারদের নিবন্ধনের সময় জাতিগত পরিচয় উল্লেখ করতে হয়। এসব অঙ্গরাজ্যের তথ্য অনুযায়ী, হিস্পানিক ও কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়ের ভোটারদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। অন্যদিকে শ্বেতাঙ্গ ভোটারদের আগাম ভোটের হার ২০২২ সালের নির্বাচনের কাছাকাছি রয়েছে। অধ্যাপক ম্যাকডোনাল্ডের মতে, অশ্বেতাঙ্গ সম্প্রদায়ের বড় একটি অংশ সাধারণত ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন করে এবং শ্বেতাঙ্গদের একটি বড় অংশ রিপাবলিকানদের সমর্থক।
টেক্সাসে ভোটারদের দলীয় পরিচয় বা জাতিগত পরিচয় উল্লেখ করার বাধ্যবাধকতা নেই। তবে সেখানকার তথ্যেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। মেক্সিকো সীমান্তবর্তী কয়েকটি কাউন্টিতে আগাম ভোটের হার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এসব এলাকার ৯০ শতাংশের বেশি বাসিন্দা হিস্পানিক। ম্যাকডোনাল্ড জানান, কয়েকটি কাউন্টিতে শুধু আগাম ভোটের সংখ্যাই ২০২২ সালের মোট ভোটার উপস্থিতিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে।
গত কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে আগাম ভোট দেওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে করোনা মহামারির সময় আরও বেশি অঙ্গরাজ্যে সরাসরি এবং ডাকযোগে আগাম ভোট দেওয়ার সুযোগ সম্প্রসারিত হয়। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট ও আইনপ্রণেতা নির্বাচনে মোট ভোটের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আগাম দেওয়া হয়েছিল। এসব আগাম ভোটের প্রায় অর্ধেক ছিল ডাকযোগে।
তবে বর্তমানে ভোটারদের মধ্যে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার চেয়ে সরাসরি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে আগাম ভোট দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন ম্যাকডোনাল্ড। তাঁর মতে, ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ভুলের কারণে ব্যালট বাতিল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ডাক পরিষেবায় হস্তক্ষেপের আশঙ্কা নিয়েও কিছু ভোটারের উদ্বেগ রয়েছে।
এদিকে কিছু এলাকায় ইতোমধ্যে আগাম ভোটের রেকর্ড গড়ার খবর পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার মিনিয়াপোলিস শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো নির্বাচনের ক্ষেত্রে শহরটিতে আগাম ভোটের নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে।
৩ নভেম্বরের নির্বাচন সামনে রেখে অঙ্গরাজ্যভেদে ৩০ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বরের মধ্যে আগাম ভোট দেওয়ার সুযোগ শেষ হবে। শেষ পর্যন্ত ভোটার উপস্থিতি কতটা বাড়ে, তা নিয়ে এখন নজর রাখছেন নির্বাচন বিশ্লেষকেরা।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au