ডিবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীর কোটি টাকার স্বর্ণ লুট
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিচয় দিয়ে যাত্রীবাহী বাস থেকে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে নামিয়ে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকার স্বর্ণ ও রুপার অলংকার লুটের…
সমুদ্রের গভীরে সাবমেরিনে চড়ে ভ্রমণের অনুভূতি পেতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন হংকংয়ের ওশান পার্কে। সেখানে রয়েছে ‘ওশান এক্সপ্রেস’ নামে বিশেষ এক ট্রেন, যা যাত্রীদের নিয়ে যায় সমুদ্রের তলদেশের আদলে তৈরি দীর্ঘ সুড়ঙ্গের ভেতর দিয়ে। প্রায় চার মিনিটের এই যাত্রায় মনে হবে, যেন সত্যিই সমুদ্রের গভীরে ডুব দিয়ে এগিয়ে চলেছে একটি সাবমেরিন।
ওশান এক্সপ্রেসের মাধ্যমে ওশান পার্কের দুটি অংশ, ওয়াটারফ্রন্ট ও সামিটের মধ্যে যাতায়াত করা যায়। ট্রেনটি ১ দশমিক ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সুড়ঙ্গের ভেতর দিয়ে চলাচল করে। এর ভেতরের সাজসজ্জায় সমুদ্রের তলদেশ ও বিভিন্ন জলজ প্রাণীর দৃশ্য এমনভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যা যাত্রীদের পানির নিচে ভ্রমণের অনুভূতি দেয়। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার যাত্রী বহন করতে সক্ষম এই বিশেষ ট্রেন।
কেমন এই ওশান এক্সপ্রেস?
ওশান এক্সপ্রেস সাধারণ কোনো ট্রেন নয়। এর পুরো যাত্রাপথ সাজানো হয়েছে সমুদ্রের নিচে সাবমেরিনে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা দেওয়ার জন্য। ট্রেনটিতে ওঠার পর চারপাশের দৃশ্য দেখে মনে হবে, যাত্রীরা সমুদ্রের গভীর দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। ওশান পার্কের ওয়াটারফ্রন্ট স্টেশন অথবা সামিট স্টেশন থেকে এই ট্রেনে ওঠা যায়।
পার্কের দুটি অংশে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্র ও আকর্ষণীয় স্থান ঘুরে দেখতে ওশান এক্সপ্রেস বেশ সুবিধাজনক। বিশেষ করে যারা অল্প সময়ে ভিন্নধর্মী ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিতে চান, তাদের জন্য এটি হতে পারে আকর্ষণীয় আয়োজন।
টিকিটের দাম ও সময়সূচি
ওশান পার্ক হংকংয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পার্কটি সাধারণত সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত খোলা থাকে। তবে দিন ও বিশেষ আয়োজনের ওপর নির্ভর করে সময়সূচিতে পরিবর্তন হতে পারে।
১২ বছর বা তার বেশি বয়সী দর্শনার্থীদের জন্য টিকিটের দাম ৫৩৮ হংকং ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮ হাজার ৫১৪ টাকা। ৩ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুদের টিকিটের মূল্য ২৬৯ হংকং ডলার বা প্রায় ৪ হাজার ২৫৭ টাকা। আর ৬০ থেকে ৬৪ বছর বয়সী জয়ইউ কার্ডধারীদের জন্য টিকিটের দাম ১০০ হংকং ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৫৮৩ টাকা।
ওশান পার্কে আরও যা দেখবেন
ওশান এক্সপ্রেস ছাড়াও হংকংয়ের ওশান পার্কে দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে নানা আকর্ষণ। পার্কের বিশাল অ্যাকোয়ারিয়ামে দেখা মিলবে বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক প্রাণীর। এ ছাড়া রয়েছে জায়ান্ট পান্ডা দেখার সুযোগ, রোমাঞ্চকর রোলার কোস্টার এবং ওয়াটারফ্রন্ট থেকে সামিট পর্যন্ত কেবল কারে ভ্রমণের ব্যবস্থা।
ফলে একই জায়গায় সমুদ্রের নিচে ট্রেনযাত্রা, সামুদ্রিক প্রাণী দেখা এবং বিভিন্ন বিনোদনমূলক অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে পারবেন দর্শনার্থীরা। পরিবার ও শিশুদের নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার জন্যও জায়গাটি বেশ আকর্ষণীয়।
কীভাবে যাবেন?
হংকংয়ের সাউথ আইল্যান্ড লাইনের ট্রেনে চড়ে ওশান পার্ক স্টেশনে নামতে হবে। সেখান থেকে সহজেই পার্কে পৌঁছানো যায়। তবে ওশান পার্কে প্রবেশের জন্য আলাদা টিকিট কিনতে হবে। পার্কের সরকারি ওয়েবসাইট থেকে টিকিট সংগ্রহ করা যাবে।
পার্কে প্রবেশের পর ওয়াটারফ্রন্ট অংশে গেলেই পাওয়া যাবে ওশান এক্সপ্রেসের স্টেশন। সেখান থেকে সাবমেরিনের আদলে তৈরি ট্রেনে চড়ে ১ দশমিক ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সুড়ঙ্গ পেরিয়ে পৌঁছানো যাবে সামিটে।
সব মিলিয়ে, হংকংয়ের ওশান পার্কে ওশান এক্সপ্রেস কেবল এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার বাহন নয়, বরং এটি নিজেই একটি বিশেষ বিনোদনমূলক আকর্ষণ। সমুদ্রের গভীরে ট্রেনযাত্রার মতো ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা নিতে চাইলে ভ্রমণতালিকায় রাখতে পারেন এই আয়োজন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au