সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে ফেল, এক মাসের মধ্যে আবার পরীক্ষার সুযোগ
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা এক মাসের মধ্যে শুধু ওই বিষয়গুলোতে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবেন। এ বছর এক ও…
বলিউডের গ্যাংস্টার ড্রামা ও অ্যাকশন থ্রিলার চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য পরিচিত পরিচালক সঞ্জয় গুপ্ত মারা গেছেন। মুম্বাইয়ে নিজের বাসভবনে বাথরুমে পড়ে মাথায় আঘাত পাওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৭ বছর।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত রাতে বাথরুমে পড়ে মাথায় আঘাত পান সঞ্জয় গুপ্ত। তবে ঘটনার সময় বিষয়টি কেউ বুঝতে পারেননি। পরদিন ভোরে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি জানা যায়। খবর পেয়ে ভারসোভা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে একটি অপমৃত্যুর মামলা নথিভুক্ত করে। কী কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত এই মৃত্যুর পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র বা নাশকতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পারিবারিক সূত্রের পাশাপাশি সঞ্জয় গুপ্তের দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মিলাপ জাভেরিও তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। নির্মাতা অশোক পণ্ডিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে সঞ্জয় গুপ্ত অনু লেখির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। একবার তাঁদের মধ্যে বিচ্ছেদ হলেও পরবর্তী সময়ে আবারও একসঙ্গে হন তাঁরা।
চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে সঞ্জয় গুপ্তের অভিষেক ঘটে ১৯৯৪ সালে ‘আতিশ: ফিল দ্য ফায়ার’ সিনেমার মাধ্যমে। তবে ২০০২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘কাঁটে’ সিনেমা তাঁর ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তন নিয়ে আসে। অমিতাভ বচ্চন, সঞ্জয় দত্ত, সুনীল শেঠি, লাকি আলী ও মহেশ মাঞ্জরেকার অভিনীত ছবিটি বক্স অফিসে সাফল্য পাওয়ার পাশাপাশি তাঁকে গ্যাংস্টার ও থ্রিলারধর্মী চলচ্চিত্রের নির্মাতা হিসেবে পরিচিতি এনে দেয়।
‘কাঁটে’ সিনেমার সাফল্যের পর বেশ কয়েক বছর ভালো সময় কাটলেও অভিনেতা সঞ্জয় দত্তের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির কারণে দীর্ঘ সময় কাজের বাইরে থাকতে হয় তাঁকে। এক সাক্ষাৎকারে সঞ্জয় গুপ্ত জানিয়েছিলেন, সঞ্জয় দত্তের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক খারাপ হওয়ার পর বলিউডের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ তাঁর সঙ্গে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।
ওই সময় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। এমনকি চলচ্চিত্র নির্মাণ ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন। মানসিক অবসাদ কাটাতে খান্ডালার একটি হোটেলে সপ্তাহে চার দিন চাকরিও শুরু করেছিলেন। তাঁর ধারণা হয়েছিল, চলচ্চিত্রজগতে আর কাজের সুযোগ পাবেন না।
তবে জীবনের সেই কঠিন সময়ে তাঁর ঘরে পুত্রসন্তানের জন্ম নতুন করে ভাবতে শেখায় তাঁকে। এক সাক্ষাৎকারে সেই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে সঞ্জয় গুপ্ত বলেছিলেন, ছেলেকে কোলে নিয়ে তিনি ভাবছিলেন, সন্তানের জন্য কী রেখে যাবেন। মাত্র ১৫ বছর বয়স থেকে কাজ শুরু করেছিলেন তিনি এবং ২২ বছর বয়সে প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। তাই ৪০ বছর বয়সে এসে কেন হাল ছেড়ে দেবেন, সেই প্রশ্নই তাঁকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস জুগিয়েছিল।
এরপর প্রযোজক একতা কাপুরের সঙ্গে যোগাযোগ করে ‘শুটআউট অ্যাট ওয়াডালা’ নির্মাণের উদ্যোগ নেন তিনি। ২০১৩ সালে ছবিটি মুক্তির মধ্য দিয়ে বলিউডে শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন ঘটে তাঁর।
পরবর্তী সময়ে ২০১৫ সালে ‘জাজবা’ এবং ২০১৭ সালে হৃতিক রোশন অভিনীত ‘কাবিল’ নির্মাণ করেন সঞ্জয় গুপ্ত। এ ছাড়া ‘মুম্বাই সাগা’, ‘বিসফট’ ও ‘দ্য মিরান্ডা ব্রাদার্স’-এর মতো চলচ্চিত্রেও কাজ করেছেন তিনি।
নিজের ২৫ বছরের চলচ্চিত্রজীবনকে সাফল্য ও ব্যর্থতার মিশ্র অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন এই নির্মাতা। জীবনের কঠিন সময় পেরিয়ে আবারও চলচ্চিত্রজগতে নিজের অবস্থান তৈরি করতে পেরে সন্তুষ্টির কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে বলিউড অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au