নয়টি গুলিতে আহত হওয়ার দাবি ভুয়া,হাসিনাসহ ৮৪ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ
জুলাই আন্দোলনের সময় শরীরে নয়টি গুলি লেগে আহত হওয়ার দাবি করে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৭৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন নূর হোসেন নামের এক যুবক।…
প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কথা বলার পর হুমকির মুখে এলাকা ছেড়েছেন তার বোন হেনা বেগম। আতঙ্কে গত বুধবার স্বজনদের সঙ্গে এলাকা ছাড়েন তিনি। এর আগে মানিক পশারীর অন্য নিকটাত্মীয়রাও এলাকা ছেড়েছেন বলে জানা গেছে। নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের কাছে আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন হেনা।
পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে মানিক পশারীর বাড়ি। তার বাড়ির পাশেই বসবাস করতেন বোন হেনা বেগম। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন মানিক পশারী। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জামাতার বাড়িতে বসবাস করছিলেন।
দুই মাস ধরে অসুস্থ থাকার পর গত ২৪ অক্টোবর সকালে সেখানেই মারা যান মানিক পশারী। তার মরদেহ পিরোজপুরে নেওয়ার পর গার্ড অব অনার দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দেয়। স্থানীয় কয়েকজন তাকে সেখানে দাফন না করার দাবি জানান। এ সময় পিরোজপুর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জামায়াতের নেতাকর্মীদের অবস্থান নিতে ও সমবেত হতে দেখা যায়। শেষ পর্যন্ত গভীর রাতে ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে পারিবারিক কবরস্থানে মানিক পশারীকে দাফন করেন স্বজনেরা। ওই সময় সেখানে পুলিশ পাহারার ব্যবস্থা ছিল।
দাফনের ঘটনায় যারা বাধা দিয়েছিলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার পর থেকেই হুমকি পাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন হেনা বেগম। মোবাইল ফোনে তিনি বলেন, রাতে ঝুপড়িঘরে থাকতে ভয় লাগে। ভাইয়ের দাফনে যারা বাধা দিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে তাকে নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি এলাকা থেকে দূরে চলে এসেছেন। প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা চাইবেন বলেও জানান তিনি।
মানিক পশারীর ভাই পান্না পশারী খুলনার বটিয়াঘাটায় বসবাস করেন। ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে গত ২৪ অক্টোবর দুপুরে পিরোজপুরের পুরান বাসস্ট্যান্ডে গেলে তাকে হুমকি দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পান্না পশারী বলেন, ভাইয়ের জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে গিয়েও হুমকির মুখে তাদের পিরোজপুর ছেড়ে চলে আসতে হয়েছে।
তবে স্বজনদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জিয়ানগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আলী হোসেন। তিনি বলেন, দলের পক্ষ থেকে মানিক পশারীর কোনো স্বজনকে হুমকি দেওয়া বা হয়রানি করা হয়নি। এ ধরনের অভিযোগ সত্য নয়।
এ বিষয়ে পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, মানিক পশারীর মরদেহ দাফনের পর এলাকায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তারপরও পুলিশ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। গ্রাম পুলিশও খোঁজখবর রাখছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au