সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে ফেল, এক মাসের মধ্যে আবার পরীক্ষার সুযোগ
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা এক মাসের মধ্যে শুধু ওই বিষয়গুলোতে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবেন। এ বছর এক ও…
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সরকারি সেবার মান নিয়ে অসন্তোষ এবং প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সজুড়ে নতুন করে বিক্ষোভের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শনিবার দেশজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
হ্যালোইন উৎসবের দিনেই এ বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। এর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে দেশটির বিভিন্ন শহরে দাঙ্গা ও লুটপাটের ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনী অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে। এতে দোকানপাট, সরকারি ভবন ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এবার একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে এক সংবাদ সম্মেলনে নিরাপত্তাব্যবস্থার বিস্তারিত তুলে ধরে নুনেজ বলেন, যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অত্যন্ত কঠোরভাবে প্রস্তুত রয়েছে। দিনটিকে তিনি ‘অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
হ্যালোইন উপলক্ষে বিক্ষোভকারীরা মুখোশ পরে নিজেদের পরিচয় আড়াল করতে পারে বলেও আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ। নুনেজ জানান, জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে মুখ ঢেকে রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতা পুলিশের আগে থেকেই রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ফ্রান্সে অবস্থানরত নাগরিক ও ভ্রমণকারীদের বিক্ষোভ কিংবা বড় জনসমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে, এমন এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।
গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে বিক্ষোভের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। ওই সময় মাখোঁর সংখ্যালঘু সরকার ২০২৭ সালের বাজেট নিয়ে আলোচনা শুরু করে। দেশটির সরকারি ঋণ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১২০ শতাংশে পৌঁছানোর কাছাকাছি। একই সঙ্গে ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয়ও বাড়ছে। ফলে সরকারি ব্যয় কমানোর চাপের মুখে রয়েছে সরকার। এতে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকট মোকাবিলায় সরকারের নীতিগত সুযোগও সংকুচিত হচ্ছে।
দেশটির বিভিন্ন বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ অবস্থা, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর চাপ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়ার কথিত বৈষম্য নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ রয়েছে। এই ক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শ্রমিক সংগঠন এবং নতুন করে সক্রিয় হয়ে ওঠা ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন। আন্দোলনকারীরা জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।
১৫ বছর বয়সী অ্যারন বার্থিয়ে দ্য গ্রঁদ্রি প্যারিসের উপশহর নোজঁ-সুর-মার্নের একজন উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থী। টানা তৃতীয় সপ্তাহান্তের মতো এবারও বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
সে বলে, ‘ছোটবেলায় আমাকে বলা হয়েছিল, তরুণেরাই ভবিষ্যৎ। কিন্তু আমরা যদি ফ্রান্সের ভবিষ্যৎ হয়ে থাকি এবং আমাদের প্রয়োজনীয় সম্পদেরই অভাব থাকে, তাহলে শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সের পতন ঘটবে।’
ফ্রান্সের আন্দোলন ইউরোপের অন্যান্য দেশেও তরুণদের নেতৃত্বে বিক্ষোভে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। শনিবার জার্মানির ৩০টিরও বেশি শহরে বিক্ষোভের পরিকল্পনা রয়েছে।
শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কার এবং জ্বালানির ব্যয় কমানোর বিষয়ে ফরাসি সরকারের প্রতিশ্রুতিও জনঅসন্তোষ প্রশমিত করতে পারেনি।
চলমান অস্থিরতা দেশটির রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলছে। কট্টর ডানপন্থী নেতা মেরিন ল্য পেন এ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিকভাবে সুবিধা পেয়েছেন। আগামী এপ্রিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে জনমত জরিপগুলোতে তিনি এগিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে মাখোঁর সম্ভাব্য মধ্যপন্থী উত্তরসূরিরা নিজেদের মধ্যে বিভক্ত রয়েছেন।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। শুক্রবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ফ্রান্সের অর্থনীতি অপ্রত্যাশিতভাবে সংকুচিত হয়েছে।
দেশটির চেম্বার অব কমার্সের হিসাব অনুযায়ী, চলমান অস্থিরতায় খুচরা ব্যবসায়ীদের ক্ষতির পরিমাণ ১০০ কোটি ইউরোর বেশি। তবে বিমাবহির্ভূত ক্ষয়ক্ষতি ও ব্যবসায়িক আয় কমে যাওয়ার হিসাব যুক্ত করলে মোট ক্ষতির পরিমাণ দ্বিগুণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্যারিসের প্রধান বাণিজ্যিক সড়কগুলোতে বড়দিনের আগাম আলোকসজ্জা দেখা গেলেও অনেক দোকানের জানালা এখনো কাঠের পাটাতন ও নিরাপত্তাবেষ্টনী দিয়ে বন্ধ রাখা হয়েছে। আগের বিক্ষোভ ও সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে হার্মেস, লুই ভিতোঁ ও বারবেরির মতো বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের বিক্রয়কেন্দ্রও রয়েছে।
বিক্ষোভ ও দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের ক্ষতিপূরণ আদায়ে একটি বিতর্কিত আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে ফরাসি সরকার।
প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি নিজে কিংবা যে গোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে তাঁকে বিবেচনা করা হবে, সেই গোষ্ঠীর মাধ্যমে সংঘটিত ক্ষয়ক্ষতির জন্য সর্বোচ্চ ১০ হাজার ইউরো জরিমানা দিতে বাধ্য হতে পারেন।
তবে মানবাধিকার সংগঠন এবং কয়েকজন আইনজীবী এ উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, আইনটি শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করার সাংবিধানিক অধিকারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় দেশজুড়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে সরকার। শনিবারের বিক্ষোভ ঘিরে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর ফ্রান্সের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলের।
সূত্র: রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au