মণিপুরে নতুন করে জাতিগত সহিংসতা, নিহত ৫
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে নতুন করে জাতিগত সহিংসতায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। পৃথক দুটি ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ। কুকি ও নাগা…
নিজের বসতভিটায় নিরাপদে বসবাসের নিশ্চয়তা, বাড়িতে হামলার বিচার এবং বরাদ্দ পাওয়া সরকারি ঘরের নির্মাণকাজ শেষ করার দাবিতে কাফনের কাপড় পরে আমরণ অনশন শুরু করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আজাহার আলী হাওলাদার। ৭৬ বছর বয়সী এই মুক্তিযোদ্ধার অভিযোগ, দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করলেও আজ নিজ বসতভিটাতেই নিরাপদে থাকতে পারছেন না তিনি। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কয়েকজন তাকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করছেন এবং বিভিন্ন সময় হুমকি ও হামলার শিকার হয়েছেন।
রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে তিনি এই অনশন শুরু করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পটুয়াখালী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবু মুছা।
অনশনরত আজাহার আলী হাওলাদার পটুয়াখালী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পুরাতন ফেরিঘাট এলাকার বাসিন্দা। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তার বসতভিটা দখল করে তাকে উচ্ছেদের চেষ্টা করছেন। এ নিয়ে তাকে বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি তার বাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় তিনি পটুয়াখালী সদর থানায় মামলা করেছেন।
আজাহার আলী বলেন, ‘আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছি। অথচ আজ নিজের বসতভিটায় নিরাপদে থাকতে পারছি না। দীর্ঘদিন ধরে আমাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সরকারি ঘর বরাদ্দ পেলেও সন্ত্রাসীদের বাধায় ঘরের কাজ শেষ করতে পারছি না। আমি আমার বসতভিটায় নিরাপদে বসবাসের নিশ্চয়তা চাই। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
তিনি আরও জানান, সরকারিভাবে একটি ঘর বরাদ্দ পেলেও নানা বাধার কারণে সেটির নির্মাণকাজ শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে এখনো ওই ঘরের সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন তিনি। নিজের বসতভিটায় নিরাপত্তা এবং সরকারি ঘরের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার দাবিতেই শেষ পর্যন্ত কাফনের কাপড় পরে আমরণ অনশনে বসেছেন এই মুক্তিযোদ্ধা।
বাড়িতে হামলার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ২
আজাহার আলীর অভিযোগ, গত ১৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় তার বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় কামাল গাজী (৫০), ফারুক গাজী (৪৫), শামীম (৪০), লিটন (৫৫) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে পটুয়াখালী সদর থানায় অভিযোগ করেন তিনি।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, ঘটনার পরই মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। শিগগিরই আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে দুজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সরকারি খাসজমিতে ঘর নির্মাণ নিয়ে জটিলতা
এদিকে মুক্তিযোদ্ধার জন্য বরাদ্দ করা সরকারি ঘরের নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ার বিষয়ে ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু মুছা।
তিনি জানান, আজাহার আলীর জন্য যে জমিতে সরকারি ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সেটির মালিক তিনি নন। জমিটি সরকারি খাসজমি এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন। এ কারণে সেখানে ঘর নির্মাণের কাজ শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না।
ইউএনও আরও জানান, আজাহার আলীর নিজস্ব জমি থাকলে সেখানে সরকারি ঘর নির্মাণের জন্য আবেদন করতে বলা হয়েছে। তবে তিনি এখনো আবেদন করেননি। বিষয়টি সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
একদিকে নিজের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের আশঙ্কা ও হামলার বিচার চেয়ে অনশন করছেন ৭৬ বছর বয়সী এই মুক্তিযোদ্ধা, অন্যদিকে সরকারি ঘর নির্মাণের জমি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জটিলতার কথা জানানো হয়েছে। এখন নিজের নিরাপত্তা ও বসবাসের স্থায়ী ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন আজাহার আলী হাওলাদার।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au