মাদ্রাসায় চাকরির এক মাস; দুই শিশুকে ধর্ষণ মামলায় হুজুর গ্রেপ্তার
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে একটি আবাসিক হাফেজিয়া মাদ্রাসায় যোগ দেওয়ার এক মাসের মধ্যে ১০ ও ১১ বছর বয়সী দুই শিশুশিক্ষার্থীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে।…
ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে রান্নার কাজে এলপিজি ব্যবহারকারী পরিবারগুলোর মাসিক ব্যয় আরও বাড়বে।
সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নতুন দাম ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে বিইআরসি। সংস্থাটি জানিয়েছে, একই দিন রাত ৮টা থেকে নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে। পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই দাম বহাল থাকবে।
নতুন মূল্য অনুযায়ী, প্রতি কেজি এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭১ টাকা ৬৮ পয়সা। সে হিসাবে বিভিন্ন ওজনের সিলিন্ডারের দাম নির্ধারিত হবে। পাশাপাশি যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে। প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৯১ টাকা ৯৫ পয়সা নির্ধারণ করেছে কমিশন।
এর আগে গত মাসে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি। নতুন দাম ঘোষণার মাত্র কয়েক দিন আগে, গত ২৯ অক্টোবর কমিশনের কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৭৬ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৬০ টাকা, যা কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির প্রস্তাবের চেয়েও ৮৪ টাকা বেশি।
অন্যদিকে, সরকারি নির্ধারিত দামের সঙ্গে খুচরা বাজারের দামের বড় ব্যবধানের অভিযোগ রয়েছে। এলপিজি খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় মাস ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১২ কেজি সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ নতুন নির্ধারিত দাম কার্যকর হওয়ার আগেই অনেক ভোক্তাকে সরকারি দামের তুলনায় ৩৬৩ থেকে ৪৬৩ টাকা পর্যন্ত বেশি দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে।
এলপিজি খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হিসাবে, দেশে প্রায় এক কোটি গ্রাহক জ্বালানি হিসেবে এলপিজি ব্যবহার করেন। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ এলপিজি ব্যবহৃত হয় গৃহস্থালির রান্নার কাজে। বাকি অংশ শিল্পকারখানা ও পরিবহন খাতে ব্যবহৃত হয়। ফলে এলপিজির দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ পরিবারগুলোর রান্নার খরচে। একই সঙ্গে শিল্প ও পরিবহন খাতের পরিচালন ব্যয়েও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দেশের এলপিজি বাজারের প্রায় ৯৯ শতাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে। এসব প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এলপিজি আমদানি করে দেশের বাজারে সরবরাহ করে। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, গত দুই মাসে এলপিজি আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি। অথচ বাজারে সরবরাহ কমেছে। ফলে সরবরাহ সংকটের অজুহাতে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
এলপিজির দাম নির্ধারণ ও বাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভোক্তাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি। এর উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির মূল্য ওঠানামার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের ভোক্তা পর্যায়ে যৌক্তিক দাম নির্ধারণ করা।
তবে কমিশনের নির্ধারিত দাম বাস্তবে বাজারে কার্যকর হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে সরবরাহ সংকটের কথা বলে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত দাম দিয়েও গ্রাহকদের সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
এ অবস্থায় নতুন করে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণের পাশাপাশি বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং নির্ধারিত দামে বিক্রি নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অন্যথায় কাগজে-কলমে দাম নির্ধারণ হলেও বাড়তি মূল্য পরিশোধের চাপ থেকে ভোক্তাদের মুক্তি মিলবে না।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au