কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে একটি আবাসিক হাফেজিয়া মাদ্রাসায় যোগ দেওয়ার এক মাসের মধ্যে ১০ ও ১১ বছর বয়সী দুই শিশুশিক্ষার্থীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় দুই শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। মামলার পর অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার শিক্ষকের নাম মো. কবির হোসেন। তাঁর বাড়ি কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায়। রোববার রাতে উপজেলার একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। আজ সোমবার (২ নভেম্বর) তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে ওই মাদ্রাসায় আবাসিক শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন কবির হোসেন। এরপর থেকে মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের দুই আবাসিক শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন সময়ে যৌন নির্যাতন করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী শিশুদের স্বজনদের ভাষ্য, অভিযুক্ত শিক্ষক ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং বিভিন্ন প্রলোভন দিয়ে কয়েক দিন ধরে তাদের ওপর নির্যাতন চালান। লোকলজ্জা ও ভয়ে শিশুরা প্রথমে বিষয়টি কাউকে জানায়নি।
তবে গত দুই-তিন দিনে নির্যাতনের ঘটনা বেড়ে গেলে তারা পরিবারের সদস্যদের কাছে বিষয়টি জানায়। পরে ঘটনা জানাজানি হলে দুই শিশুর পরিবার, অন্য অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
এর প্রতিবাদে রোববার বিকেলে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে জড়ো হন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা মাদ্রাসাটি ঘেরাও করে অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পরে খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। রাতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়।
ভুক্তভোগী দুই শিশুর বাবা প্রবাসে থাকেন। এ কারণে একজনের চাচা এবং অন্যজনের দাদা বাদী হয়ে চৌদ্দগ্রাম থানায় পৃথক দুটি মামলা করেন। মামলাগুলোতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে।
চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন আজ সোমবার বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে।
ওসি আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত শিক্ষক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে দুই শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হবে। ঘটনার অন্যান্য দিকও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শিক্ষকদের নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।