মাদ্রাসায় চাকরির এক মাস; দুই শিশুকে ধর্ষণ মামলায় হুজুর গ্রেপ্তার
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে একটি আবাসিক হাফেজিয়া মাদ্রাসায় যোগ দেওয়ার এক মাসের মধ্যে ১০ ও ১১ বছর বয়সী দুই শিশুশিক্ষার্থীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে।…
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার তালিকা, ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট এবং নির্বাচনের ফল অনুমোদন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে। দেশটির বিচার বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস) ক্যালিফোর্নিয়া ও আলাস্কায় নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, তা কয়েক দশক ধরে চলে আসা প্রচলিত রীতির ব্যতিক্রম হিসেবে দেখছেন আইন ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের আশঙ্কা, এসব পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রায় ২০ হাজার ভোটারের ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট বাতিলের আবেদন এবং আলাস্কায় সিনেট নির্বাচনসংক্রান্ত একটি ফৌজদারি তদন্ত নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। দুই অঙ্গরাজ্যেই বিচার বিভাগের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ উঠেছে। ইতোমধ্যে ফেডারেল আদালত উভয় অঙ্গরাজ্যসংক্রান্ত মামলায় বিচার বিভাগের আবেদন খারিজ করেছেন। তবে আলাস্কার মামলায় আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে বিভাগটি।
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে একটি অলিখিত প্রশাসনিক রীতি অনুসরণ করা হয়ে আসছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো যেন কোনো রাজনৈতিক দল, প্রার্থী বা নির্বাচনী প্রচারশিবিরের পক্ষে নিজেদের ক্ষমতা ব্যবহার করতে না পারে। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে ভোটারদের নিবন্ধন, ব্যালট গণনা কিংবা নির্বাচনের ফল অনুমোদনের মতো বিষয়ে বিচার বিভাগের ভূমিকা সাধারণত ভোটাধিকার সুরক্ষা এবং নির্বাচনী আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হতো।
কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে বিচার বিভাগের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো সেই প্রচলিত অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সমালোচকেরা।
ক্যালিফোর্নিয়ায় বিচার বিভাগের পদক্ষেপের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে প্রায় ২০ হাজার ভোটারের ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট। এসব ভোটারের একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন বলে অভিযোগ করেছে বিভাগটি। এ কারণে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের ব্যালট বাতিলের আবেদন জানানোর পাশাপাশি একটি ফৌজদারি তদন্তের অংশ হিসেবে নির্বাচনী নথিপত্রও চাওয়া হয়েছে।
তবে ক্যালিফোর্নিয়ার কর্তৃপক্ষ বিচার বিভাগের এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে। তাদের বক্তব্য, ভোট বাতিল করার এখতিয়ার বিচার বিভাগের নেই। এ ছাড়া যেসব ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন, তাঁদের ভোট দেওয়া থেকে বিরত রাখতে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের অবস্থান অনুযায়ী, ভোটার তালিকা যাচাই এবং অনাগরিকদের ভোটাধিকার প্রয়োগ ঠেকানোর জন্য অঙ্গরাজ্যটির নিজস্ব প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে বিচার বিভাগের হস্তক্ষেপকে তারা নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের এখতিয়ারের বাইরে যাওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখছে।
অন্যদিকে আলাস্কায় বিচার বিভাগের তদন্তের বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। অঙ্গরাজ্যটিতে রিপাবলিকান পার্টির বর্তমান সিনেটর ড্যান সুলিভানের পাশাপাশি একই নামের একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করার উদ্দেশ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীটি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে ফৌজদারি তদন্ত জোরদার করেছে বিচার বিভাগ।
নির্বাচনে একই নামের একাধিক প্রার্থী থাকলে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে আলাস্কার ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র প্রার্থীর উদ্দেশ্য নিয়ে তদন্ত শুরু হওয়ায় নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফেডারেল সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এর আগে বিচার বিভাগ আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছিল, সিনেটর ড্যান সুলিভান অল্প ব্যবধানে পরাজিত হলে যেন নির্বাচনের ফলাফলের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রক্রিয়া আটকে রাখা হয়। অর্থাৎ, ভোটের ফল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে চূড়ান্ত ফল অনুমোদনের প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার সুযোগ চেয়েছিল বিভাগটি।
তবে রোববার এক ফেডারেল বিচারক বিচার বিভাগের সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তের পরও বিষয়টি শেষ হয়নি। বিচার বিভাগ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামো অনুযায়ী, নির্বাচন পরিচালনার প্রধান দায়িত্ব অঙ্গরাজ্যগুলোর। ভোটার নিবন্ধন, ভোটগ্রহণ, ব্যালট গণনা এবং নির্বাচনের ফলাফল অনুমোদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো মূলত অঙ্গরাজ্যগুলোর নিজস্ব নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের অধীনে পরিচালিত হয়।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের নেতৃত্বে রয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল, যিনি প্রেসিডেন্টের মনোনীত ব্যক্তি। ফলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা এবং আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রশাসনের প্রভাব নিয়ে দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে সমালোচকদের প্রধান উদ্বেগ হলো, নির্বাচনের আগে বিচার বিভাগের ফৌজদারি তদন্ত ও আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করে অঙ্গরাজ্যগুলোর নির্বাচনী সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে কি না।
নির্বাচনের ফল নিয়ে সন্দেহ তৈরির আশঙ্কা
দুই অঙ্গরাজ্যে বিচার বিভাগের করা মামলাগুলো ফেডারেল আদালতে খারিজ হলেও আইন বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করছেন, এসব পদক্ষেপের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব আদালতের রায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।
তাঁদের আশঙ্কা, ভোটার তালিকা, ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট এবং ফলাফল অনুমোদন নিয়ে একের পর এক তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্দেহ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে এ ধরনের পদক্ষেপ ভোটের বৈধতা নিয়ে বিতর্ক বাড়িয়ে দিতে পারে।
আইনগত শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করা অলাভজনক সংস্থা ‘রুল অব ল প্রজেক্ট’-এর প্রতিষ্ঠাতা মার্ক ব্লুমবার্গ এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, আগে যেসব কাজকে নিষিদ্ধ বা অনুচিত হিসেবে বিবেচনা করা হতো, এখন সেসব কাজে প্রভাব বিস্তারের জন্য প্রশাসন বিচার বিভাগকে ব্যবহার করার সুযোগ দিতে চাইছে বলে মনে হচ্ছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ বিচার বিভাগের পদক্ষেপকে আইনসম্মত বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বিচার বিভাগের মুখপাত্র কিয়ার্স্টেন পেলসও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিচার বিভাগ কোনো নির্বাচনী প্রচারশিবিরকে সহায়তা করছে না। বরং প্রচলিত আইন প্রয়োগের দায়িত্ব পালন করছে।
অনাগরিকদের ভোট নিয়ে ট্রাম্পের অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, দেশটির নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব অঙ্গরাজ্যগুলোর ওপর ন্যস্ত। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত অঙ্গরাজ্যগুলো অনাগরিকদের ভোট দেওয়া ঠেকাতে যথেষ্ট ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
অনাগরিকদের ভোটাধিকার প্রয়োগের বিষয়টি ট্রাম্প প্রশাসনের নির্বাচনী বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যুক্তিতে ভোটার তালিকা যাচাই ও নাগরিকত্বসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ট্রাম্প এখনো দাবি করেন, ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতির কারণে তিনি পরাজিত হয়েছিলেন। তবে তাঁর এই অভিযোগের পক্ষে ব্যাপক নির্বাচনী জালিয়াতির কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। স্বাধীন গবেষণা, অঙ্গরাজ্যগুলোর নিরীক্ষা এবং বিভিন্ন তদন্তে ভোটার জালিয়াতির ঘটনা বিরল বলে উঠে এসেছে।
২০২০ সালের নির্বাচনে জো বাইডেনের কাছে পরাজয়ের পর ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে ট্রাম্পের সমর্থক সংগঠনগুলো ৬০টির বেশি মামলা করেছিল। কিন্তু সেসব মামলা আদালতে সফল হয়নি। নির্বাচনী ফল পরিবর্তনের মতো কোনো ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগও আদালতে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভোটাধিকারবিষয়ক আইনজীবীরা। ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে আদালতে প্রতিনিধিত্ব করা ইলাইয়াস ল গ্রুপের ভোটাধিকারবিষয়ক আইনজীবী লিস ফ্রস্ট বলেন, এ বছর ট্রাম্পপন্থি সংগঠনগুলোকে আগের মতো নির্বাচনী মামলা পরিচালনায় সক্রিয় হতে হচ্ছে না। কারণ, খোদ বিচার বিভাগই এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে।
বিচার বিভাগের ভূমিকা নিয়ে নতুন বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে বিচার বিভাগের ঐতিহাসিক ভূমিকা মূলত ভোটাধিকার সুরক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত। বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘু, সামাজিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী এবং ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধার মুখে পড়তে পারেন এমন নাগরিকদের ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে বিভাগটি বিভিন্ন সময়ে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে।
নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বৈষম্য প্রতিরোধ, ভোটকেন্দ্রে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং ভোটারদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় বিচার বিভাগের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের সময় সেই ভূমিকার ধরনে পরিবর্তন আসছে বলে মনে করছেন সমালোচকেরা। তাঁদের মতে, ভোটাধিকার সুরক্ষার পাশাপাশি এখন ভোটার তালিকা, ব্যালটের বৈধতা এবং নির্বাচনের ফল অনুমোদনের মতো বিষয়ে বিচার বিভাগের সরাসরি হস্তক্ষেপের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ নির্বাচনের মাধ্যমে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর পদেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ফলে কংগ্রেসে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের ক্ষমতার ভারসাম্য এবং ট্রাম্প প্রশাসনের আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও নির্বাচনের ফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা, ভোটারদের আস্থা এবং অঙ্গরাজ্যগুলোর সাংবিধানিক ক্ষমতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিচার বিভাগের পদক্ষেপগুলো আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও নির্বাচনের আগে এসব তদন্ত ও আইনি তৎপরতা ভোটের পরিবেশ এবং ফলাফল নিয়ে জনমনে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
সূত্রঃ সিএনএন
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au