যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের প্রচারে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট শিবিরে উত্তেজনা বাড়ছে। বিশেষ করে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে প্রকাশ্য বিভক্তি তৈরি হয়েছে। দলটির প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হেইলি স্টিভেন্স নিজ দলের প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদের পরিবর্তে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন।
অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগের মধ্যে ভোট গণনা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে আইনি তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন। ক্যালিফোর্নিয়ায় ২০ হাজারের বেশি ভোটারের ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট গণনা বন্ধ করতে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। একই সময়ে আলাস্কার সিনেট নির্বাচন নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের আইনি উদ্যোগ বড় ধাক্কা খেয়েছে।
মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারিত হবে। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্পের আইন প্রণয়নের সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়তে পারে। পাশাপাশি তাঁর প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তদন্তের সুযোগ পাবে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা।
মিশিগানে ডেমোক্র্যাট শিবিরে প্রকাশ্য বিভক্তি
মিশিগানের সিনেট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ডেমোক্র্যাটদের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নতুন মাত্রা পেয়েছে। রোববার দলের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হেইলি স্টিভেন্স আকস্মিকভাবে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেন। ডেট্রয়েটের একটি গির্জায় রজার্সের সঙ্গে উপস্থিত হয়ে তিনি তাঁর পক্ষে প্রচারেও অংশ নেন।
এর আগে ডেমোক্র্যাট দলের সিনেট প্রার্থী নির্বাচনের প্রাথমিক ভোটে (প্রাইমারি) আবদুল এল-সাইয়েদের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন স্টিভেন্স। ওই নির্বাচনটি দুই প্রার্থীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল।
স্টিভেন্সের দলীয় অবস্থান পরিবর্তনের ঘটনাটি ডেমোক্র্যাটদের জন্য বড় রাজনৈতিক অস্বস্তি তৈরি করেছে। কারণ, মিশিগানের এই আসনটি সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ভাঙার ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন ৫৩টি এবং ডেমোক্র্যাটদের ৪৭টি। এই ব্যবধান ঘুচিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে হলে ডেমোক্র্যাটদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে জয় পেতে হবে।
স্টিভেন্স রোববার রাতে সিএনএনকে বলেন, এল-সাইয়েদের উচিত এমন একটি বিজ্ঞাপনের নিন্দা জানানো, যেখানে তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিজ্ঞাপনটি তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। তাঁর মতে, অনেক ডেমোক্র্যাট ভোটার দলীয় মনোনীত প্রার্থীকে ভোট দিতে চান। কিন্তু তাঁদের এমন বার্তা দেওয়া হচ্ছে যে তাঁরা এই দল বা নির্বাচনী প্রচারের অংশ নন।
তবে স্টিভেন্সের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন এল-সাইয়েদ। তাঁর মতে, কয়েক মাস আগে অনুষ্ঠিত প্রাইমারিতে পরাজয়ের বিষয়টি সামনে এনে স্টিভেন্স অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক তৈরি করছেন।
শনিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এল-সাইয়েদ বলেন, অন্যদের নিন্দা করার বিষয়টি নিয়ে অনেকের আগ্রহ রয়েছে। তবে ওই বিজ্ঞাপন তাঁর তৈরি নয় এবং এর বক্তব্যের সঙ্গে তিনি একমত নন, সেটি তিনি আগেই স্পষ্ট করেছেন।
মিশিগানে জন্ম নেওয়া মিসরীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম আবদুল এল-সাইয়েদকে নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্পসহ রিপাবলিকান নেতারা বারবার আক্রমণ করেছেন। তাঁর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি তাঁকে সন্ত্রাসবাদে সহানুভূতিশীল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। রিপাবলিকানদের দাবি, তিনি নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রে হামলার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ তুলে ধরা হয়নি।
এ ধরনের বক্তব্যকে লজ্জাজনক বলে আখ্যা দিয়েছেন এল-সাইয়েদ।
নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের একাংশের বক্তব্যে আরব বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক, মুসলিম ও ট্রান্সজেন্ডার জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক প্রচারণার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে ডেমোক্র্যাটদের কমিউনিস্ট ও বিপজ্জনক উগ্রপন্থি হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে।
স্টিভেন্সের মা মারিয়া মারকোটে জানিয়েছেন, এল-সাইয়েদের রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে উদ্বেগ থেকেই তাঁর মেয়ে রিপাবলিকান প্রার্থী রজার্সকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিশেষ করে বামপন্থি অনলাইন ভাষ্যকার হাসান পাইকারের সঙ্গে এল-সাইয়েদের অতীতের উপস্থিতির বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি। ইসরায়েল ও মার্কিন ইহুদিদের নিয়ে মন্তব্যের কারণে পাইকার বিভিন্ন সময়ে সমালোচিত হয়েছেন।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মারকোটে বলেন, তাঁর মেয়ে এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছেন, যেখানে তিনি মনে করছেন, তাঁর নির্বাচনী এলাকার মানুষ এবং পরিচিতজনেরা এল-সাইয়েদের প্রচার থেকে আসা কিছু বক্তব্যে ভীত ও উদ্বিগ্ন।
তবে ডেমোক্র্যাট ভোটারদের একটি অংশ স্টিভেন্সের সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছেন। ডেট্রয়েটের উপশহর ওয়ারেন এলাকায় এল-সাইয়েদের পক্ষে ভোট দেওয়ার পর ৭২ বছর বয়সী ভোটার পামেলা জনসন বলেন, স্টিভেন্স একজন বিশ্বাসঘাতক।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : রয়টার্স
আলাস্কায় সিনেট নির্বাচন নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের আইনি উদ্যোগে ধাক্কা
আলাস্কায় সিনেট নির্বাচন নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভান অল্প ব্যবধানে পরাজিত হলে নির্বাচনের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যয়ন (সার্টিফিকেশন) বন্ধ রাখার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের করা মামলা খারিজ করে দিয়েছেন একজন ফেডারেল বিচারক।
রোববার যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) এ-সংক্রান্ত মামলা দায়ের করেছিল। তাদের যুক্তি ছিল, একই ব্যালটে ড্যানিয়েল জে সুলিভান জুনিয়র নামে আরেকজন প্রার্থী থাকায় ভোটাররা বিভ্রান্ত হতে পারেন।
বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভানের নামের সঙ্গে ওই প্রার্থীর নামের মিল থাকায় ভোটের ফলাফলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে বলে দাবি করেছিল বিচার বিভাগ।
নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মেরি পেলটোলার নির্বাচনী প্রচারশিবির প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে ড্যানিয়েল জে সুলিভান জুনিয়রকে নির্বাচনে আনার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভানের ভোট কমিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তাঁকে প্রার্থী করা হয়ে থাকতে পারে।
তবে পেলটোলা তাঁর প্রচারশিবিরের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে ড্যানিয়েল জে সুলিভান জুনিয়রও পেলটোলার প্রচারশিবিরের সঙ্গে সমন্বয়ের অভিযোগ নাকচ করেছেন।
রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভান রোববার জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসন এ ঘটনায় ফৌজদারি তদন্ত চালিয়ে গেলেও মঙ্গলবারের নির্বাচনের ফলাফল তিনি মেনে নেবেন।
আদালতের রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন পেলটোলার সমর্থকরা। আলাস্কার ওয়াসিলা এলাকার ২৪ বছর বয়সী ভোটার আইলিনা বার্ড বলেন, মামলাটি খারিজ হওয়ায় তিনি খুশি। ভোটারদের দমন করার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আরও পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ক্যালিফোর্নিয়ায় ২০ হাজারের বেশি ভোটারের ব্যালট নিয়ে ট্রাম্পের আইনি পদক্ষেপ
নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে ক্যালিফোর্নিয়ার ভোট গণনা নিয়েও আইনি লড়াইয়ে নেমেছেন ট্রাম্প।
সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে জরুরি আবেদন জমা দিয়ে তিনি অঙ্গরাজ্যটিতে ২০ হাজারের বেশি নিবন্ধিত ভোটারের ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট গণনা সাময়িকভাবে বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ওই ভোটারদের মধ্যে এমন অনেকে রয়েছেন, যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ক্যালিফোর্নিয়া কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগের বিরোধিতা করেছে।
অঙ্গরাজ্যটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ২০ হাজার ভোটারের ভোটাধিকার কার্যত কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। অ-মার্কিন নাগরিক শনাক্ত করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় প্রশাসনের ব্যবহৃত পদ্ধতিও ত্রুটিপূর্ণ এবং ভুল শনাক্তকরণের ঝুঁকিপূর্ণ বলে দাবি করেছে ক্যালিফোর্নিয়া।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের কাছে পরাজয়ের জন্য ব্যাপক নির্বাচনী জালিয়াতিকে দায়ী করে আসছেন ট্রাম্প। তবে তাঁর এই অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিনগুলোতে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে দেশজুড়ে প্রতিদিন সমাবেশ করছেন ট্রাম্প। সোমবারও তাঁর বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি নির্ধারিত ছিল।
এদিন স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১টা) ওয়াশিংটনের লিংকন মেমোরিয়াল রিফ্লেক্টিং পুলের পুনরায় উদ্বোধন উপলক্ষে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে জলাধারটির সংস্কার করা হয়েছিল। তবে ঠিকাদারদের কাজের ত্রুটির কারণে এর ওপরের নীল আস্তরণ উঠে যেতে শুরু করে। ট্রাম্প ভুলভাবে এ ঘটনার জন্য ভাঙচুরকারীদের দায়ী করেছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। ছবিঃ সংগৃহীত
প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সম্ভাবনা, সিনেটে কঠিন লড়াই
নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে নিরপেক্ষ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি। তবে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা দলটির জন্য কঠিন হতে পারে।
বিশ্লেষকদের সাম্প্রতিক মূল্যায়নে টেক্সাস, কানসাস ও আইওয়ার মতো ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকান-সমর্থিত অঙ্গরাজ্যেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ জমে উঠেছে। এসব অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথও কিছুটা বিস্তৃত হয়েছে।
কংগ্রেসের যেকোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলেই ট্রাম্পের আইন প্রণয়নের উদ্যোগে বাধা সৃষ্টি করতে পারবে ডেমোক্র্যাটরা। একই সঙ্গে তাঁর প্রশাসনের কর্মকাণ্ড তদন্তের সুযোগও তৈরি হবে।
আর সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেলে ফেডারেল আদালত, এমনকি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের মনোনীত প্রার্থীদের আটকে দেওয়ার ক্ষমতাও পাবে বিরোধী দল।
এদিকে ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকশন ল্যাবের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের আগেই সরাসরি কেন্দ্রে গিয়ে এবং ডাকযোগে প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ ভোট পড়েছে। ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মোট ভোট পড়েছিল প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ। অর্থাৎ, আগের নির্বাচনের তুলনায় এবার ভোটের আগাম অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করবে কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সাধারণত প্রেসিডেন্টের চার বছরের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রতিনিধি পরিষদের সব আসন এবং সিনেটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসনে ভোট হয়।
এবারের নির্বাচন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কারণ, কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ থাকায় এত দিন আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দলটি সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল।
কিন্তু ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ কিংবা সিনেটের যেকোনো একটির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটতে পারে। বিশেষ করে প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি, অভিবাসন, বিচার বিভাগ এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন রাজনৈতিক সংঘাত তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মিশিগানে ডেমোক্র্যাটদের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি, আলাস্কায় নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে আইনি বিতর্ক এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় ভোটারদের ব্যালট গণনা বন্ধের প্রচেষ্টা সব মিলিয়ে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন শুধু দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। নির্বাচনী ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা, ভোটাধিকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নও এতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সূত্রঃ রয়টার্স