গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে তিন মামলা, আসামি প্রায় ৪ হাজার, গ্রেপ্তার ৩০
গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে তিনটি মামলা করা হয়েছে। এসব…
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে প্রকাশিত সর্বশেষ জনমত জরিপে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকানদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। এমনকি ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত টেক্সাস ও কানসাসেও ডেমোক্র্যাটদের ভালো অবস্থান দেখা যাচ্ছে। এদিকে কংগ্রেসে বিরোধী দল জয়ী হতে পারে, এমন আশঙ্কায় নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে নিজেদের কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।
নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, মার্কিন সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সাতটি অঙ্গরাজ্যের প্রায় সবকটিতেই রিপাবলিকান প্রার্থীদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। জরিপে টেক্সাস ও কানসাসের মতো রক্ষণশীল অঙ্গরাজ্যেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে থাকার চিত্র উঠে এসেছে। উল্লেখ্য, টেক্সাসে ১৯৮৮ সালের পর এবং কানসাসে ১৯৩২ সালের পর কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হননি।
সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে হলে ডেমোক্র্যাটদের নিজেদের সব আসন ধরে রাখার পাশাপাশি রিপাবলিকানদের দখলে থাকা অন্তত চারটি আসনে জয় পেতে হবে। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, বর্তমানে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা পাঁচটি অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। আর একটি অঙ্গরাজ্যে দুই দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, অর্থনীতি পরিচালনায় অসন্তোষ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি ভোটারদের অনাস্থাকে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচন। এই নির্বাচনের ফলাফল ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক অবস্থান এবং কংগ্রেসে ক্ষমতার ভারসাম্যের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেতে পারে, এমন আশঙ্কায় আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছেন হোয়াইট হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তারা। বিরোধী দল ক্ষমতায় এলে প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে তদন্ত শুরু করতে পারে এবং আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ নির্বাহী আদেশ ও জরুরি ক্ষমতা ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারের কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।
হোয়াইট হাউসের সূত্রের বরাতে জানা গেছে, অভিবাসন নীতিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও অস্থায়ী কর্মীদের ভিসা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ম আরও কঠোর করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে খনিজ সম্পদ ও বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত উইন্ড টারবাইন আমদানির ওপর শুল্ক আরোপের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। বাজেট আইনের বিভিন্ন সুযোগ কাজে লাগিয়ে সীমান্তপ্রাচীর নির্মাণের মতো প্রকল্পে অর্থায়ন এবং একক প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে আবাসন ব্যয় কমানোর পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। সরকারি অনুদান দেওয়ার নিয়মে পরিবর্তন এনে হোয়াইট হাউসের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করার উদ্যোগও রয়েছে।
অন্যদিকে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ওয়েসলিয়ান মিডিয়া প্রজেক্টের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের পেছনে ১৩ কোটি ৭০ লাখ ডলারের বেশি ব্যয় হয়েছে। আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় এই ব্যয় অনেক বেশি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি বিভিন্ন প্রচারসামগ্রী ও ডিপফেক ভিডিওতে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা এবং উসকানিমূলক দাবি প্রচার করা হচ্ছে। এতে ভোটারদের জন্য প্রকৃত তথ্য ও ভুয়া প্রচারণার মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কঠোর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আইন প্রণয়ন ঠেকাতে লাখ লাখ ডলার ব্যয় করে তদবির চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে এআই ব্যবহার করে অপতথ্য ছড়ানোর প্রবণতা অবাধ নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করছে বলে সতর্ক করেছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও গবেষকেরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au