‘নিরাপত্তা শঙ্কায়’ জাতীয় চার নেতাকে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রদর্শনী স্থগিত
জাতীয় চার নেতার স্মরণে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনী স্থগিত করা হয়েছে। পুলিশ হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করে অনুষ্ঠান বন্ধ রাখতে বলার পর নিরাপত্তার স্বার্থে এ…
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মঙ্গলবার ভোট দিচ্ছেন দেশটির লাখো ভোটার। এই নির্বাচনের ফলাফল শুধু কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ করবে না, বরং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি দুই বছরের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎও অনেকটা নির্ধারণ করে দেবে। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে কি না, তার ওপর নির্ভর করছে আগামী দিনগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসন কতটা নির্বিঘ্নে নীতি বাস্তবায়ন করতে পারবে।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে কেন্দ্রীয়, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের হাজার হাজার পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে কংগ্রেসের দুই কক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের আসনগুলো। বর্তমানে উভয় কক্ষই রিপাবলিকান পার্টির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেলে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য আইন প্রণয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে রিপাবলিকানরা দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। ফলে নির্বাচনের ফলাফল শুধু দলীয় জয়–পরাজয়ের হিসাব নয়, বরং আগামী দুই বছর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য কোন দিকে থাকবে, সেটিও নির্ধারণ করবে।
এবারের নির্বাচনে ট্রাম্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর কমে আসা জনসমর্থন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাব। তবে আর্থিক সুবিধা, প্রচারণায় বিপুল ব্যয় এবং রিপাবলিকান ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর ভর করে শেষ মুহূর্তে পরিস্থিতি নিজেদের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করছে তাঁর দল।
জনসমর্থনে পিছিয়ে ট্রাম্প
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনসমর্থন কমে যাওয়াকে ডেমোক্র্যাটদের জন্য বড় রাজনৈতিক সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জনমত জরিপ বিশ্লেষণকারী ওয়েবসাইট সিলভার বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে ট্রাম্পের জনসমর্থন ছিল ৫০ শতাংশের কিছু বেশি। তবে ক্ষমতা গ্রহণের পর দ্রুতই তা কমতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে ৪০ শতাংশের নিচে নেমে আসে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ট্রাম্পের জনসমর্থন ছিল প্রায় ৪২ শতাংশ। এরপর তা আরও কমে বর্তমানে প্রায় ৩৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
ট্রাম্পের বর্তমান জনসমর্থন তাঁর প্রথম মেয়াদের একই সময়ের তুলনায়ও কম। আট বছর আগে প্রথম মেয়াদের এই পর্যায়ে তাঁর জনসমর্থন ছিল প্রায় ৪৩ শতাংশ। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদের একই সময়ে জনসমর্থন ছিল প্রায় ৪০ শতাংশ।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ ও বাইডেনের শাসনামলে মধ্যবর্তী নির্বাচনে তাঁদের দল প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারালেও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পেরেছিল। তবে এবার ট্রাম্পের জনসমর্থন আরও নিচে নেমে যাওয়ায় ডেমোক্র্যাটরা শুধু প্রতিনিধি পরিষদ নয়, সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়েও আশাবাদী।
এই পরিস্থিতিতে ডেমোক্র্যাটরা এমন কিছু অঙ্গরাজ্য ও নির্বাচনী এলাকার দিকে নজর দিচ্ছে, যেখানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রিপাবলিকানরা ধারাবাহিকভাবে জয়ী হয়ে আসছে।
প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণের লড়াই
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বর্তমানে অত্যন্ত সংকীর্ণ। ৪৩৫ সদস্যের এই কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার জন্য প্রয়োজন ২১৮টি আসন। রিপাবলিকানদের হাতে রয়েছে ২১৮ জন প্রতিনিধি। পাশাপাশি একজন স্বতন্ত্র সদস্যও তাঁদের সঙ্গে ভোট দেন।
প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যরা দুই বছরের জন্য নির্বাচিত হন। সে কারণে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ৪৩৫টি আসনের সবকটিতেই ভোট অনুষ্ঠিত হয়। তবে অধিকাংশ নির্বাচনী এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা খুব একটা জমে ওঠে না। কারণ, অনেক এলাকায় কোনো একটি দলের সমর্থন এতটাই শক্তিশালী যে অন্য দলের প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা খুব কম থাকে।

সিনেটের লড়াইয়ে ডেমোক্র্যাটদের কঠিন সমীকরণ। ছবিঃ সংগৃহীত
নির্বাচনী প্রচারণা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কুক পলিটিক্যাল রিপোর্টের হিসাব অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের মাত্র ১৮টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনিশ্চিত। অর্থাৎ এসব আসনে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট, যেকোনো দলের প্রার্থী জয়ী হতে পারেন।
অনিশ্চিত এই ১৮টি আসনের মধ্যে ১৪টি বর্তমানে রিপাবলিকানদের দখলে এবং চারটি ডেমোক্র্যাটদের হাতে রয়েছে। ফলে এসব আসনের ফলাফল প্রতিনিধি পরিষদের সামগ্রিক নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে ডেমোক্র্যাটদের জন্য শুধু অনিশ্চিত আসনগুলোতে জয়ী হওয়াই যথেষ্ট নয়। দলটির জন্য ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে বা ডেমোক্র্যাটদের দিকে ঝুঁকে থাকা হিসেবে চিহ্নিত আরও ৩৬টি আসনে জয় ধরে রাখা বা দখলে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এসব আসনের ফলাফলও তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের হিসাবকে প্রভাবিত করবে।
ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের দল প্রতিনিধি পরিষদে আসন হারানোর ঝুঁকিতে থাকে। সাধারণত ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের নীতির প্রতি অসন্তোষ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সরকারের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে।
১৯৩৪ সাল থেকে পাওয়া নির্বাচনী তথ্য অনুযায়ী, মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের দলের প্রতিনিধি পরিষদে গড়ে ২৭টি আসন কমে যায়। ওই সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত ২৩টি মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র তিনটিতে প্রেসিডেন্টের দল আসন বাড়াতে সক্ষম হয়েছে।
এই পরিসংখ্যান ডেমোক্র্যাটদের আশাবাদী করে তুলছে। কারণ, প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা এতটাই কম যে অল্প কয়েকটি আসনের পরিবর্তনেই কক্ষটির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতছাড়া হতে পারে।
সিনেটের লড়াইয়ে ডেমোক্র্যাটদের কঠিন সমীকরণ
প্রতিনিধি পরিষদের তুলনায় সিনেটে রিপাবলিকানদের অবস্থান কিছুটা শক্তিশালী। ১০০ সদস্যের এই কক্ষে রিপাবলিকানদের আসন ৫৩টি। এ ছাড়া দুজন স্বতন্ত্র সদস্য রয়েছেন, যাঁরা সাধারণত রিপাবলিকানদের সঙ্গে ভোট দেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের হাতে রয়েছে ৪৫টি আসন।
সিনেট সদস্যরা ছয় বছরের জন্য নির্বাচিত হন। তাই প্রতি দুই বছর পরপর মোট আসনের প্রায় এক–তৃতীয়াংশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের ৩৫টি আসনে ভোট হচ্ছে।
কুক পলিটিক্যাল রিপোর্টের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই ৩৫টি আসনের মধ্যে মাত্র সাতটির ফলাফল অনিশ্চিত। এর মধ্যে ছয়টি বর্তমানে রিপাবলিকানদের এবং একটি ডেমোক্র্যাটদের দখলে রয়েছে।
সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ডেমোক্র্যাটদের সামনে কঠিন হিসাব রয়েছে। ৫১টি আসনে পৌঁছাতে হলে অনিশ্চিত সাতটি আসনের মধ্যে অন্তত চারটিতে জয় পেতে হবে। পাশাপাশি সম্ভাব্য বা ডেমোক্র্যাটদের দিকে ঝুঁকে থাকা হিসেবে বিবেচিত আরও চারটি আসনেও জয় নিশ্চিত করতে হবে।
তবে এই লক্ষ্য অর্জনের পথে ডেমোক্র্যাটদের বেশ কয়েকটি কঠিন নির্বাচনী লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
মিশিগানে নিজেদের আসন ধরে রাখা দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে বামপন্থি রাজনৈতিক অবস্থানের বহিরাগত প্রার্থী আব্দুল এল–সায়েদের সঙ্গে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রজার্স সাবেক এফবিআই এজেন্ট এবং ট্রাম্পের মিত্র হিসেবে পরিচিত। জনমত জরিপে দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ডেমোক্র্যাটদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ ছাড়া ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প যে রাজ্যগুলোতে দুই অঙ্কের ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন, সেখানেও সিনেটের আসন দখলের চেষ্টা করছে ডেমোক্র্যাটরা। এসব রাজ্যের মধ্যে রয়েছে আলাস্কা, আইওয়া ও ওহাইও। এই রাজ্যগুলোতে জয় পাওয়া ডেমোক্র্যাটদের জন্য সহজ হবে না।
তবে সবচেয়ে আলোচিত লড়াইগুলোর একটি হচ্ছে টেক্সাসে। সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও সাবেক শিক্ষক জেমস টালারিকো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রিপাবলিকান প্রার্থী এবং বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনের বিরুদ্ধে। প্যাক্সটন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত।
জনমত জরিপে টালারিকোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় রাজ্যটিতে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে নতুন আশাবাদ দেখা দিয়েছে। তিনি জয়ী হলে ১৯৮৮ সালের পর টেক্সাস থেকে সিনেটের আসন পাওয়া প্রথম ডেমোক্র্যাট হবেন।
জীবনযাত্রার ব্যয়, যুদ্ধ ও স্বাস্থ্যসেবা ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ
এবারের নির্বাচনে ভোটারদের সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে জীবনযাত্রার ব্যয়। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী করে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পরও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, জ্বালানি ও অন্যান্য খাতে ব্যয়ের চাপ ভোটারদের উদ্বেগের বড় কারণ হয়ে রয়েছে।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যে প্রতি গ্যালন গ্যাসের দাম ২ দশমিক ৩০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। কিন্তু এর চার দিন পর ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হলে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। এর প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রেও গ্যাসের দাম বেড়ে প্রতি গ্যালন ৪ ডলারে পৌঁছে যায়।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাব শুধু জ্বালানির বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বিশ্ব অর্থনীতি ও সরবরাহব্যবস্থায় এর প্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ ভোক্তাদের ব্যয়ও বেড়েছে। যুদ্ধটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন জনমতের কাছে আরও অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
আগস্টে পরিচালিত একটি জরিপে দেখা গেছে, ৬৩ শতাংশ উত্তরদাতা ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ফলে যুদ্ধের সিদ্ধান্ত ও এর অর্থনৈতিক প্রভাব রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
জীবনযাত্রার ব্যয়ের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা ও অভিবাসনও এবারের নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন নিয়ন্ত্রণকে তাদের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে। সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সংখ্যা আগের বছরগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে দাবি করছে প্রশাসন।
অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা স্বাস্থ্যসেবার উচ্চ ব্যয়, স্বাস্থ্যবিমার খরচ এবং চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁদের প্রচারণায় ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির কারণে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ কতটা ব্যয়বহুল বা কঠিন হয়ে উঠতে পারে, তা তুলে ধরা হচ্ছে।
ফলে ভোটারদের কাছে এবারের নির্বাচন শুধু দুই দলের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং অর্থনীতি, জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা, অভিবাসন এবং যুদ্ধের মতো সরাসরি জীবনযাত্রার সঙ্গে যুক্ত বিষয়গুলোর ওপর সরকারের ভূমিকা মূল্যায়নের সুযোগ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
প্রচারণায় অর্থের জোরে এগিয়ে রিপাবলিকানরা
জনমত জরিপ ও নির্বাচনী বিশ্লেষণে ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাবনা বেশি দেখা গেলেও রিপাবলিকানদের হাতে রয়েছে বড় আর্থিক সুবিধা। নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে এই অর্থ তাদের প্রচারণাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটি ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর হাতে প্রায় ৩২০ মিলিয়ন ডলার নগদ অর্থ ছিল। একই সময়ে ডেমোক্র্যাটদের হাতে ছিল ২৩০ মিলিয়ন ডলারের কিছু কম।
এর বাইরে ট্রাম্পের ‘এমএজিএ ইনকর্পোরেটেড’ নামের রাজনৈতিক তহবিল সংগ্রহ ও ব্যয়কারী সংগঠনের হাতে ছিল ১৬০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। সংগঠনটি ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ বা এমএজিএ রাজনৈতিক আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে।
এই আর্থিক সুবিধা কাজে লাগিয়ে রিপাবলিকানরা নির্বাচনী বিজ্ঞাপন ও প্রচারণায় বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করছে। গবেষণা সংস্থা অ্যাডইমপ্যাক্টের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে মার্কিন ভোটারদের উদ্দেশে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন ব্যয়ের ক্ষেত্রেও রিপাবলিকানরা ডেমোক্র্যাটদের চেয়ে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার বেশি খরচ করেছে। বিশেষ করে অনিশ্চিত সিনেট আসনগুলোর প্রায় সবকটিতেই রিপাবলিকানদের বিজ্ঞাপন ব্যয় ডেমোক্র্যাটদের তুলনায় বেশি।
রিপাবলিকানদের প্রত্যাশা, নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে ব্যাপক প্রচারণা ও বিজ্ঞাপন ভোটারদের, বিশেষ করে ট্রাম্পের সমর্থকদের, ভোটকেন্দ্রে যেতে উৎসাহিত করবে। এতে ভোটার উপস্থিতি বাড়ার পাশাপাশি প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে দলটির সম্ভাব্য ক্ষতিও সীমিত রাখা সম্ভব হতে পারে।
ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন দিকে?
সব মিলিয়ে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সামনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার বাস্তব সুযোগ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের কমে আসা জনসমর্থন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাব এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অসন্তোষ তাদের নির্বাচনী প্রচারণায় সুবিধা দিচ্ছে।
তবে জনমত জরিপ সব সময় নির্বাচনের ফলাফলের নির্ভুল পূর্বাভাস দিতে পারে না। অতীতেও ট্রাম্প ও রিপাবলিকানরা জরিপের পূর্বাভাসের চেয়ে ভালো ফল করেছেন। তাই শেষ মুহূর্তে ভোটারদের উপস্থিতি, অনিশ্চিত আসনগুলোর ফলাফল এবং দলীয় প্রচারণার প্রভাব নির্বাচনের চূড়ান্ত চিত্র বদলে দিতে পারে।
ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটের যেকোনো একটির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেলেও ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিক পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠবে। কংগ্রেসের কোনো একটি কক্ষ বিরোধীদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেলে আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন এবং প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বাধার মুখে পড়তে পারে সরকার। একই সঙ্গে কংগ্রেসের তদন্ত ও নজরদারির ক্ষমতা ব্যবহার করে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর সুযোগ পাবে।
অন্যদিকে রিপাবলিকানরা দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে ট্রাম্পের জন্য দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ দুই বছর নিজের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের সুযোগ তুলনামূলকভাবে সহজ হবে।
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক আলোচনায় দ্রুতই ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন গুরুত্ব পেতে শুরু করবে। সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতার কারণে ট্রাম্প তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। ফলে ডেমোক্র্যাটদের জন্যও আগামী দিনের রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে নতুন প্রশ্ন সামনে আসবে। কোন নীতির পক্ষে তারা অবস্থান নেবে, কোন বিষয়গুলোকে বিরোধিতার কেন্দ্রবিন্দু করবে এবং পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কাকে প্রার্থী করবে, তা নিয়ে দলটির ভেতরে আলোচনা জোরালো হতে পারে।
তবে তার আগে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলই নির্ধারণ করবে, ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ দুই বছর কতটা রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ধরে রাখতে পারবেন এবং কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অক্ষুণ্ন থাকবে কি না।
সূত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au