‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে চাঁদা নিতেন সমন্বয়কেরা
রাজধানীর গুলশানে সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) শাম্মী আহম্মেদের বাসায় পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালানোর পর তাঁর স্বামীকে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে…
১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকদের ভ্রমণের সুযোগ চালু হলেও এখনো কোনো পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি পায়নি। কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌপথে চলাচলের জন্য সাতটি জাহাজের মালিকপক্ষ রুট পারমিট ও সময়সূচি অনুমোদনের আবেদন করলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দেওয়ায় কোনো আবেদনই অনুমোদন করেনি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। ফলে পর্যটন মৌসুম শুরু হওয়ার পরও দ্বীপে যাতায়াত নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে, কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌপথে পর্যটক পরিবহনের জন্য সাতটি জাহাজের মালিকপক্ষ রুট পারমিট ও চলাচলের সময়সূচি অনুমোদনের আবেদন করেছে। তবে আবেদনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সনদ ও নথিপত্র জমা না দেওয়ায় অনুমোদন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে গত সোমবার (২ নভেম্বর) জাহাজ মালিকদের চিঠি দিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সংস্থাটি।
বিআইডব্লিউটিএর নৌনিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপপরিচালক সালমা আক্তারের স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, এমভি বারো আউলিয়া ও এমভি টেকনাফের মালিকপক্ষ গত ৬ ও ৭ অক্টোবর রুট পারমিট এবং সময়সূচি অনুমোদনের জন্য আবেদন করে। এসব জাহাজের অনুকূলে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সম্মতিপত্র পাওয়া গেছে। তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দেওয়ায় কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া থেকে সেন্টমার্টিন নৌপথে চলাচলের অনুমতি দেওয়া যাচ্ছে না।
অন্যদিকে এমভি কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন, এমভি কেয়ারি সিন্দাবাদ, এলসিটি কাজল ও এমভি বে-কুইজার-১-এর মালিকপক্ষ গত ২৬ ও ২৭ অক্টোবর আবেদন করে। এসব জাহাজের প্রয়োজনীয় নথিপত্র না থাকায় পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কাছে নীতিগত সম্মতির জন্য চিঠি পাঠানোও সম্ভব হয়নি। ফলে সাতটি জাহাজের কোনোটির ক্ষেত্রেই রুট পারমিট ও সময়সূচি অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি।
চিঠিতে জাহাজ মালিকদের হালনাগাদ সার্ভে সনদ, রুট পারমিট ফি জমার প্রমাণ, কনজারভেন্সি ছাড়পত্র, ভয়েজ লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় সব নথি জমা দিতে বলা হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএর চট্টগ্রাম বিভাগ ও কক্সবাজার নদীবন্দরের উপপরিচালক নয়ন শীল জানান, কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটক পরিবহনের জন্য সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে বিআইডব্লিউটিএর রুট পারমিট নিতে হয়।
এদিকে টেকনাফের পৌর জামায়াতের সাবেক মেয়র মো. ইসমাইল বলেছেন, টেকনাফ নৌপথ ছাড়া সেন্টমার্টিন ভ্রমণ একেবারেই অপূর্ণ। তাঁর মতে, কক্সবাজার থেকে জাহাজে দ্বীপে যেতে পর্যটকদের তিন গুণ বেশি সময় লাগছে এবং খরচ হচ্ছে দ্বিগুণ। এতে ভ্রমণকারীদের ভোগান্তিও বেড়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী জানিয়েছিলেন, পরিবেশ ও প্রতিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার নির্ধারিত শর্তগুলো পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। এসব শর্ত পূরণ হওয়ার পরই জাহাজ চলাচলের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, সেন্টমার্টিন ভ্রমণে সরকারের জারি করা শর্তের কোনো ব্যত্যয় যাতে না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিজম বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কাজ করছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au