সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্পদে ভাগ বসাবে জুলাই শহীদ পরিবার?
ওটিএন বাংলা ডেস্ক : সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে শহীদ পরিবার ও আহতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার রায় কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য…
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় মুড়ির প্যাকেটে রাখা একটি হাতে তৈরি ককটেল বিস্ফোরণে মনিরুল ইসলাম নামে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতা আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোর পৌনে ছয়টার দিকে উপজেলার সেনহাটি ইউনিয়নের কলের পুকুরের পশ্চিম পাশে তাঁর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণে তাঁর হাত ও পায়ের বিভিন্ন অংশ ঝলসে গেছে। এ ঘটনায় ঘরের আসবাবপত্রেও আগুন ধরে যায়। বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আহত মনিরুল ইসলাম সেনহাটি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের একটি ইউনিটের সভাপতি। তিনি একটি মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোরে ফজরের নামাজ আদায় করতে মসজিদে যান মনিরুল ইসলাম। নামাজ শেষে সকাল পৌনে ছয়টার দিকে বাড়িতে ফিরে ঘরের দরজার সামনে একটি পলিথিনের প্যাকেট দেখতে পান। প্যাকেটের ভেতরে মুড়ি রয়েছে মনে করে তিনি সেটি হাতে তুলে নেন। পরে ঘরের ভেতরে নিয়ে প্যাকেটটি পরীক্ষা করার সময় হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে।
এতে মনিরুল ইসলামের হাত ও পায়ের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঘরের আসবাবপত্রেও আগুন ধরে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আহত মনিরুল ইসলামকে উদ্ধার করে দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মনিরুল ইসলামের সাংগঠনিক পরিচয় নিশ্চিত করেছেন দিঘলিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মুশফিকুর রহমান। তিনি জানান, আহত মনিরুল ইসলাম জামায়াতের একটি ইউনিটের সভাপতি। তাঁর ছোট ভাই এম এম রকিব উদ্দিন সেনহাটি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে জামায়াত মনোনীত সদস্য পদপ্রার্থী।
মুশফিকুর রহমানের ধারণা, ওই প্রার্থীকে ভয়ভীতি দেখানোর উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা মুড়ির প্যাকেটে ককটেল রেখে যেতে পারে। তবে ভুলবশত ককটেলভর্তি প্যাকেটটি রকিব উদ্দিনের ঘরের পরিবর্তে তাঁর ভাই মনিরুল ইসলামের ঘরের দরজার সামনে রেখে যাওয়া হয়ে থাকতে পারে।
এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে মুশফিকুর রহমান অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অরুপ কুমার চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মনিরুল ইসলাম ফজরের নামাজ শেষে বাড়ি ফিরে গেটের পাশে একটি পলিথিনের ব্যাগ দেখতে পান। পরে সেটি ঘরে নিয়ে হাতে নিয়ে পরীক্ষা করার সময় এর ভেতরে থাকা হাতে তৈরি ককটেলটি বিস্ফোরিত হয়।
ওসি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। বিস্ফোরণের পেছনের কারণ কী এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে। তবে মুড়ির প্যাকেটে ককটেল রাখার উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au