বাংলাদেশ

শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে বাংলাদেশে ফের ক্ষমতার পালাবদলের আশঙ্কা কতটা?

  • 8:29 pm - November 06, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৩ বার
মজুরি বোর্ড গঠনের পরও শ্রমিক অসন্তোষ। ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে আবারও রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলের চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে নর্থইস্ট নিউজের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিএনপি সরকার ও দলটির অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে একটি মহল সরকার পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে। এ পরিকল্পনার কেন্দ্রে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও সাবেক মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদের ভূমিকা থাকতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটির দাবি, একটি প্রভাবশালী বাংলাদেশি গোয়েন্দা সংস্থা তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সম্ভাব্য আরেকটি ক্ষমতার পালাবদলের প্রচেষ্টা সম্পর্কে সতর্ক করেছে। তবে এ ধরনের পরিকল্পনার বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, গোয়েন্দা সংস্থার কোনো নথি কিংবা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে এসব তথ্যকে প্রতিবেদনে উত্থাপিত দাবি হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিএনপির ভেতরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অনুসারী হিসেবে পরিচিত ‘ম্যাডাম গ্রুপ’ এবং তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ ‘লন্ডন গ্রুপের’ মধ্যে মতপার্থক্যকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতার পালাবদলের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে। শ্রমিক আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কঠোর দমন-পীড়নের পথে পরিচালিত করার মধ্য দিয়েও পরিস্থিতি জটিল করে তোলার চেষ্টা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

স্পিকারের সঙ্গে বিদেশি কূটনীতিকদের ধারাবাহিক বৈঠক

প্রতিবেদনে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে বিদেশি কূটনীতিকদের ধারাবাহিক বৈঠকের বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গত ১৫ দিনে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা তার সঙ্গে একের পর এক বৈঠক করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

গত ১ নভেম্বর ২০২৬ দুপুর ১টার দিকে বাংলাদেশের পাকিস্তানি হাইকমিশনার ইমরান হায়দার জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে যান। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা বৈঠক করেন তারা। একই দিন সকাল ১১টার দিকে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত গুলব্র্যান্ডসেন স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই বৈঠকে দেশটির উপ-রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার ফ্লেক ব্লাইডও উপস্থিত ছিলেন।

এর দুই দিন পর, ৩ নভেম্বর ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার স্পিকারের সঙ্গে প্রায় ৪০ মিনিট বৈঠক করেন। প্রতিবেদনে এসব সাক্ষাতের ধারাবাহিকতাকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিদেশি কূটনীতিকদের আগ্রহের অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে বৈঠকগুলোর আলোচ্যসূচি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা সংসদ সচিবালয়ের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।

জরুরি অবস্থা ও জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাবের দাবি

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে জরুরি অবস্থা জারি এবং রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে।

প্রস্তাবিত সরকারে বিএনপির পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রতিনিধিদেরও অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। নির্বাচনের সময়কার সরকার হিসেবে এই প্রশাসনকে রাজনৈতিক বৈধতা দিতে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্রগুলোর দাবি, প্রস্তাবিত জাতীয় সরকার গঠনের আলোচনা এখনো চলমান। এতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতি সম্মতি দিয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে পারেনি প্রতিবেদনে উদ্ধৃত সূত্রগুলো।

এদিকে জাতীয় প্রতিরক্ষা কলেজের লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফয়জুর রহমান একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিনিধিদলটি বঙ্গভবন প্রাঙ্গণও ঘুরে দেখে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে এ সফরের উদ্দেশ্য ছিল জাপান সফরের বিস্তারিত রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করা। তবে প্রতিবেদনের সূত্রগুলোর দাবি, শ্রমিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে দেশে জরুরি অবস্থা জারির সম্ভাবনা নিয়েও ওই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

মজুরি বৃদ্ধির সিদ্ধান্তেও থামেনি শ্রমিক আন্দোলন

এদিকে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ৪ নভেম্বর মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করে। পুনর্গঠিত বোর্ডের প্রথম বৈঠকে ডিসেম্বর থেকে শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সংশোধিত মজুরি কাঠামো অনুযায়ী বাড়তি বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা বলা হয়েছে। পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠনের সম্মতিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে মজুরি বৃদ্ধির এ ঘোষণায় শ্রমিকদের আন্দোলন থামেনি। তারা নয় দফা দাবি তুলে ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অবস্থান নিয়েছেন।

শ্রমিকদের নয় দফা দাবি

শ্রমিকদের প্রথম দাবি, নিহত শ্রমিক তৌফিক হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এ ঘটনায় কাউকে রক্ষার জন্য সাজানো গ্রেপ্তার বা বিচারিক প্রক্রিয়া পরিচালনা করা যাবে না।

মিরপুরে শ্রমিকদের আন্দোলন। ছবি: সংগৃহীত

দ্বিতীয়ত, শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বলপ্রয়োগকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের শনাক্ত করে তাদের নাম প্রকাশ করতে হবে এবং বিচারের আওতায় আনতে হবে।

তৃতীয়ত, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নন, এমন রাজনৈতিক দলের যেসব নেতাকর্মী লাঠি ও অস্ত্র নিয়ে রাস্তায় নেমে শ্রমিকদের আন্দোলন দমনের চেষ্টা করেছেন, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

চতুর্থত, শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি কোনোভাবেই ৩০ হাজার টাকার কম নির্ধারণ করা যাবে না। নতুন মজুরি কাঠামো ২০২৬ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করতে হবে।

পঞ্চমত, মাতৃত্বকালীন ছুটি ১২০ দিন থেকে বাড়িয়ে ছয় মাস করতে হবে। এ সময় বিদ্যমান আর্থিক সুবিধা বহাল রাখতে হবে এবং ছুটি শুরুর আগেই সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

ষষ্ঠত, শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত করার প্রথা বন্ধ করতে হবে।

সপ্তমত, শ্রম আইনের ২৩৪ ধারা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের মুনাফার ৫ শতাংশ শ্রমিকদের মধ্যে বণ্টনের বিধান কার্যকর করতে হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রপ্তানিমুখী কারখানাগুলোকে এ বিধান থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের দাবি, সেই অব্যাহতি প্রত্যাহার করে মুনাফার ৫ শতাংশ বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে। আগের অর্থবছরের মুনাফার অংশ ডিসেম্বর মাসের বেতনের সঙ্গে পরিশোধ করতে হবে।

অষ্টমত, শ্রম আইনের ১৩ ধারা বাতিল করতে হবে। শ্রমিকদের দাবি, এ ধারার সুযোগ নিয়ে কারখানার মালিকেরা শ্রমিকদের ধর্মঘটের সময় ইচ্ছামতো কারখানা বন্ধ ঘোষণা করতে পারেন। এতে কারখানা বন্ধ থাকা অবস্থায় শ্রমিকেরা মজুরি ও অন্যান্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন।

নবমত, ১২০ দিনের মূল বেতনের সমপরিমাণ নোটিশ পে দিয়ে শ্রমিকদের ইচ্ছামতো চাকরিচ্যুত করার প্রথা বন্ধ করতে হবে। চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মাধ্যমে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শ্রমিকেরা।

আন্দোলন দমনে সেনা মোতায়েনের আশঙ্কার দাবি

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, সরকার ও তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর নেতারা শ্রমিকদের এসব দাবিকে অবাস্তব বলে মনে করছেন। আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে না এলে পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় থাকতে পারে বলে প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

তবে সেনা মোতায়েনের বিষয়ে সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। একইভাবে জরুরি অবস্থা জারি, জাতীয় সরকার গঠন কিংবা ক্ষমতার পালাবদলের পরিকল্পনা নিয়ে উত্থাপিত দাবিগুলোরও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

শ্রমিকদের মজুরি, কর্মপরিবেশ ও বিচারসংক্রান্ত দাবিকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলন এখন শ্রমিক-মালিক সম্পর্কের গণ্ডি ছাড়িয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গেও যুক্ত হয়ে পড়েছে। আন্দোলনে প্রাণহানি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা এবং রাজনৈতিক পক্ষগুলোর পাল্টাপাল্টি অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। তবে শ্রমিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে নতুন কোনো সরকার পরিবর্তনের পরিকল্পনা বাস্তবেই এগোচ্ছে কি না, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্রঃ নর্থইস্ট নিউজ

এই শাখার আরও খবর

নেতানিয়াহুর জোটে ভাঙন, রোববার সরকার গঠনের দায়িত্ব পেতে পারেন আইজেনকোট

ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার গঠনের জন্য রোববারের মধ্যে একজন প্রার্থীকে দায়িত্ব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পরিবর্তে বিরোধী নেতা ও সাবেক…

চুয়াডাঙ্গা বালিকা বিদ্যালয়ের দেয়ালে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান লিখল ছাত্রীরা, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ

চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের দেয়ালে ‘জয় বাংলা’, ‘জয় হাসিনা’, ‘মুজিব সেনা’ ও ‘ফিরছি আবার ডিসেম্বর’সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান লেখাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা…

ইতালীয় প্রতিরক্ষা প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফর, ইউরোফাইটার টাইফুন কেনার উদ্যোগে নতুন করে আলোচনা

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জন্য ইউরোপীয় নির্মিত বহুমুখী যুদ্ধবিমান ইউরোফাইটার টাইফুন কেনার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইতালির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিরক্ষা প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফরকে কেন্দ্র…

‘১৩ নভেম্বর পৃথিবীর ধ্বংস’: ৬৬ বছর আগের ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে নতুন করে আলোচনা কেন?

২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বর শুক্রবার। দিনটি যত ঘনিয়ে আসছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কয়েকটি আরব গণমাধ্যমে ততই নতুন করে আলোচনায় আসছে ‘পৃথিবীর ধ্বংস’ বা মহাপ্রলয়ের একটি…

ট্রাম্প প্রশাসনে রদবদলের গুঞ্জন, পদত্যাগের খবর নাকচ করলেন রুবিও ও হেগসেথ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের পরাজয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে রদবদলের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও…

আত্মসমর্পণ না করার কারণ হিসেবে আতঙ্কের কথা জানালেন দুই হত্যার আসামি সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে সাবেক প্রেমিক জেসি বেয়ার্ড ও তার সঙ্গী লুক ডেভিসকে হত্যার অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বিউ লামারে-কন্ডন আদালতে জানিয়েছেন, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au