তানজিন তিশা। ছবি : সংগৃহীত
ওটিএন বাংলা ডেস্ক :
অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশের সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়েছে অভিনেত্রী তানজিন তিশার। একই সিদ্ধান্তের মুখে পড়েছেন অভিনেত্রী সামিয়া অথৈও। শুটিং সেটে সহকর্মীকে চড় মারার অভিযোগ, দুই অভিনেত্রীর পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এবং সংগঠনের সালিশি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করার ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাতে অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক চিঠিতে সদস্যপদ স্থগিতের বিষয়টি জানানো হয়। গত ৪ অক্টোবর তারিখে পাঠানো ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ রানা মিঠু।
সংগঠনটির বক্তব্য অনুযায়ী, গত ৩ মার্চ মানিকগঞ্জে পরিচালক রাফাত মজুমদারের একটি নাটকের শুটিংয়ের সময় তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈর মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। ওই দিন ফেসবুক লাইভে এসে তিশার বিরুদ্ধে মারধর ও অপদস্থ করার অভিযোগ তোলেন সামিয়া।
সামিয়ার অভিযোগ, নাটকের একটি দৃশ্যে তাঁকে তিশাকে আলতো করে চড় মারার কথা ছিল। পরিচালকের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি তা করেন। কিন্তু এরপর তিশা তাঁকে কয়েকবার জোরে চড় মারেন। এতে তাঁর চোখ ও গাল ফুলে যায় বলে দাবি করেন তিনি।
তবে সামিয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তানজিন তিশা। তাঁর বক্তব্য ছিল, নাটকের চিত্রনাট্য ও চরিত্রের প্রয়োজনে দৃশ্যটি করা হয়েছিল। তিনি ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে কাউকে আঘাত করেননি বলেও দাবি করেন।
এ ঘটনায় দুই অভিনেত্রীর বিরোধ মীমাংসায় উদ্যোগ নেয় অভিনয়শিল্পী সংঘের সালিশ কমিটি। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু জানান, সালিশি বৈঠকে দুই অভিনেত্রীকে ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি ও ভিডিও বার্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়নি।
সংগঠনটির দাবি, গত ৭ জুলাই দুই অভিনেত্রীকে সদস্যপদ স্থগিতের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাঁরা লিখিত জবাব দেননি। পরপর দুটি চিঠি পাঠানোর পরও সাড়া না পাওয়ায় সালিশ কমিটি সদস্যপদ স্থগিতের সুপারিশ করে।
পরে অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশের কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈর সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পর শুক্রবার মধ্যরাতে ফেসবুক লাইভে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তানজিন তিশা। তিনি জানান, সালিশ বৈঠকে তিনি উপস্থিত ছিলেন এবং সেখানে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা আলোচনা হয়েছে।
তাঁর ভাষ্য, অপর পক্ষের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে ভিডিও বার্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে ব্যস্ততা ও বিদেশভ্রমণের কারণে নির্ধারিত ভিডিও বার্তা দিতে বিলম্ব হয়েছে। এ কারণে তাঁর সদস্যপদ স্থগিতের চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
সদস্যপদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিশা বলেন, তিনি কোনো অন্যায় করেননি এবং সহজে হার মানবেন না। তবে সংগঠনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আপিল করবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।