রাউজানে প্রকাশ্যে খুন, ফেসবুকে হুমকিদাতা রায়হান অধরা
‘ওয়েট অ্যান্ড সি’। গত ২০ আগস্ট নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পুলিশের উদ্দেশে এমন হুমকি দিয়েছিলেন চট্টগ্রামের রাউজানের সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত মো. রায়হান। চার দিন পর আরেক…
মেলবোর্ন, ১৯ এপ্রিল—চাকরির জন্য রাশিয়া গিয়ে দালালের খপ্পরে পড়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন আরেক বাংলাদেশি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জের ছেলে এই বাংলাদেশি যুবকের নাম মোহাম্মদ আকরাম হোসেন (২৫)। ইউক্রেনের মিসাইল হামলায় তার দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) তার এক সহযোদ্ধা রাশিয়া থেকে গ্রামে পরিবারের কাছে এ খবর জানান।
নিহত আকরাম হোসেন আশুগঞ্জ উপজেলার লালপুর হোসেনপুর গ্রামের মোরশেদ মিয়ার ছেলে। তিন ভাই ও দুই বোনসহ পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ওয়েল্ডিংয়ের কাজ শিখে সংসারের সচ্ছলতা আনার আশায় রাশিয়ায় যান মোহাম্মদ আকরাম। সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী দিনমজুর বাবা মোরশেদ মিয়া স্ত্রী, পুত্র ও কন্যা নিয়ে কোনোরকমে দিনাতিপাত করছিলেন। এরই মধ্যে মেয়ের বিয়ে দিতে গিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন তিনি। এ অবস্থায় ওয়েল্ডিংয়ের কাজ শিখে আত্মীয়-স্বজনের সহযোগিতায় ১১ মাস আগে আকরামকে রাশিয়া পাঠানো হয়।
সেখানে যাওয়ার পর আট মাস একটি চায়না কোম্পানিতে ওয়েল্ডার হিসেবে চাকরি করেন আকরাম। বেতন খুব বেশি না পেলেও তার উপার্জনে পরিবার স্বস্তি নেমে আসে। অসচ্ছল পরিবারটি স্বপ্ন বুনতে থাকে আকরামকে নিয়ে। কিন্তু আড়াই মাস আগে আকরাম দালালের প্রলোভনে পড়ে রুশ সেনাবাহিনীতে চুক্তিভিত্তিক যোদ্ধা হিসেবে যুক্ত হয়ে অংশ নেন ইউক্রেন যুদ্ধে। রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়ার ছবিও নিজের ফেসবুকে আপলোড করেছিলেন তিনি। কিন্তু ইউক্রেনের মিসাইল হামলায় তার স্বপ্নের যাত্রা ছিন্নভিন্ন হয়ে ধুলোয় মিশে গেছে।
এর আগে রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেনে যুদ্ধ গিয়ে নিহত হয়েছিলেন বাংলাদেশি আরেক যুবক ইয়াসিন শেখ। তিনি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলার মরিচালি গ্রামের মৃত সাত্তার হোসেনের সন্তান। তিনিও দালালের খপ্পরে পড়ে চাকরির নামে অংশ নিয়েছিলেন ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধে।
নিহত আকরামের বাবা মোরশেদ মিয়া জানান, কোম্পানিতে ভালো বেতন না পাওয়ায় দালালদের প্রলোভনে পড়ে আড়াই মাস আগে চুক্তিভিত্তিক যোদ্ধা হিসেবে আকরাম যোগ দেন রুশ সেনাবাহিনীতে। শর্ত ছিল, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সম্মুখসারিতে থাকার। এতে পরিবারের পক্ষ থেকে নিষেধ করা হলে আকরাম জানিয়েছেন- তার আর ফিরে আসার উপায় নেই। এরই মধ্যে আকরাম বাবাকে জানিয়েছিলেন তার রাশিয়ার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৪ লাখ টাকা জমা হয়েছে।
আকরামের মা মোবিনা বেগম জানান, যুদ্ধ চলাকালে ছেলের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ হলেও গত ১৩ এপ্রিল থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় আকরামের। রাশিয়ায় অবস্থানরত পরিচিতজনরাও তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) তার এক সহযোদ্ধা ফোন করে জানান, যুদ্ধে গিয়ে ইউক্রেন সেনাবাহিনীর মিসাইল হামলায় আকরাম নিহত হয়েছেন। ফোনে জানানো হয়, আকরামের ইউনিটের কয়েকজন যোদ্ধা ইউক্রেন বাহিনীর মিসাইল হামলায় মারা গেছেন। এরপর থেকে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। আকরামের পরিণতিও একই হয়েছে বলে তাদের ধারণা।
এদিকে আকরামের মৃত্যুর খবরে তার বাড়ি আশুগঞ্জ উপজেলার লালপুর হোসেনপুর গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে। ছেলের ছবি নিয়ে মা মোবিনা বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। শোকে হতবিহ্বল পরিবারের অন্য সদস্যরা। নিহতের লাশ দেশে আনতে ও ক্ষতিপূরণ পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করছেন পরিবারের সদস্যরা।
আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাফে মোহাম্মদ ছড়া বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া আশুগঞ্জের যুবকের মরদেহ ফিরিয়ে আনতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au