মেলবোর্ন, ২৩ এপ্রিল- ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের পাহালগাম এলাকায় পর্যটকদের ওপর ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। বন্দুকধারীদের গুলিতে অন্তত ২৬ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। হতাহতদের আনতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করেছে ভারতের সেনাবাহিনী।
মঙ্গলবার কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলার পহেলগাঁওয়ের বাইসারান এলাকায় এই হামলা হয় বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
আরেক ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে নিহতদের মধ্যে দুইজন বিদেশি।
ভয়াবহ এই হামলার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কাশ্মীরে পৌঁছেছেন।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাহালগামের বাইসারান উপত্যকার উঁচু মাঠে গুলির শব্দ শোনা যায়। ওই এলাকাটিতে শুধু পায়ে হেঁটে বা ঘোড়ায় করে যাওয়া যায়। সন্ত্রাসীরা ছদ্মবেশে ছিল এবং এটি একটি পরিকল্পিত হামলা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে কর্ণাটকের শিভামোগ্গা জেলার একজন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী রয়েছেন, যাকে তার স্ত্রী ও সন্তানের সামনে গুলি করে মারা হয়। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া সিনিয়র কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদী এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরকারের সংকল্প অটল এবং এটি আরও শক্তিশালী হবে।”
এই হামলাকে ‘জঘন্য’ আখ্যা দিয়ে জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ বলেন, আমি ‘অবিশ্বাস্যভাবে মর্মাহত’।
তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ পোস্ট করেছেন, “এই হামলাকারীরা পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট, অমানবিক এবং ঘৃণার যোগ্য। কোনো কথাই তাদের নিন্দার জন্য যথেষ্ট নয়। নিহতদের পরিবারের প্রতি আমার সহানুভূতি রইল।”
এই হামলা এমন সময় ঘটল যখন উপত্যকায় পর্যটন মৌসুম চলছে এবং সারা দেশে অমরনাথ যাত্রার নিবন্ধন চলছে। এই ৩৮ দিনের তীর্থযাত্রা শুরু হবে ৩ জুলাই।
সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীরে সফরের সময় অমিত শাহ একটি উচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। সেখানে তিনি সন্ত্রাসবাদ সম্পূর্ণ নির্মূল করার নির্দেশ দেন, বিশেষ করে জম্মু বিভাগে। অমিত শাহ অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিও চালু করতে বলেন।
জম্মু ও কাশ্মীরের পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (পিডিপি) নেত্রী মেহবুবা মুফতিও পর্যটকদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, “এই ধরনের সহিংসতা গ্রহণযোগ্য নয় এবং এর প্রতিবাদ করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ঐতিহাসিকভাবে কাশ্মীর সবসময় পর্যটকদের সাদরে গ্রহণ করেছে। তাই এই ঘটনা খুবই চিন্তার বিষয়। দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত জরুরি এবং কোথায় নিরাপত্তা ত্রুটি হয়েছে তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পর্যটকদের নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে এমন হামলা যেন না হয় সেই ব্যবস্থা নিতে হবে।”