বিরোধীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধে আইন আনছে নিকারাগুয়া
মেলবোর্ন, ২৪ জুলাই: নিকারাগুয়ার সরকার নিয়ন্ত্রিত জাতীয় পরিষদে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে ভবিষ্যতের নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে একটি নতুন আইন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু…
মেলবোর্ন, ২৪ জুলাই: অস্ট্রেলিয়ায় আইএসআইএসে যোগ দেওয়া নাগরিকদের দেশে ফিরে আসা ঠেকাতে সন্ত্রাসবিরোধী আইন আরও কঠোর করার উদ্যোগে বিরোধীদলীয় নেতা অ্যাঙ্গাস টেলরকে পূর্ণ সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ওয়ান নেশন দলের নেতা পলিন হ্যানসন। এ লক্ষ্যে তিনি টেলরকে চিঠি লিখে সংবিধানসম্মত সর্বোচ্চ সীমার মধ্যে আইন শক্তিশালী করতে কোয়ালিশনের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ইরাকের একটি কারাগারে আটক ১৩ জন অস্ট্রেলীয় নাগরিক, যাদের বিরুদ্ধে আইএসআইএসের হয়ে যুদ্ধ করার অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে পার্থে জন্ম নেওয়া ‘ড. জিহাদ’ নামে পরিচিত এক চিকিৎসকও রয়েছেন। কারামুক্তির পর তারা অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে আসার চেষ্টা করতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে বিরোধীদলীয় জোটের সহকারী নাগরিকত্ববিষয়ক মুখপাত্র ডেভ শর্মা দাবি করেছেন, অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে আসা আইএসআইএস–সংশ্লিষ্ট কয়েকজন নারী এখনো উগ্রপন্থি মতাদর্শ থেকে সরে আসেননি। স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দেশে ফেরার পর তাদের সম্পর্কে পাওয়া তথ্য থেকে বোঝা যায়, তারা এখনো সেই চরমপন্থি আদর্শের প্রতিই অনুগত, যে আদর্শের টানে তারা একসময় তথাকথিত খিলাফতে যোগ দিয়েছিলেন। তার ভাষায়, তারা পরিবর্তিত হননি বা পুনর্বাসিতও হননি। বরং এক দশকেরও বেশি আগে দেশ ছাড়ার মধ্য দিয়েই তারা অস্ট্রেলিয়ার প্রতি নিজেদের আনুগত্য ত্যাগ করেছিলেন।
পলিন হ্যানসন তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করেন, সংবিধান যতটুকু অনুমতি দেয়, ততটুকু পর্যন্ত সন্ত্রাসবিরোধী আইন আরও শক্তিশালী করতে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট, উভয় কক্ষেই ওয়ান নেশন কোয়ালিশনের পক্ষে ভোট দেবে। তিনি বলেন, অস্থায়ী বহিষ্কার আদেশ, সন্ত্রাসবাদসংক্রান্ত অপরাধ, জামিন, নাগরিকত্বের বিধান, পাসপোর্ট ইস্যুর ক্ষমতা এবং কারামুক্তির পর নজরদারির মতো বিষয়গুলো আরও কঠোর করা প্রয়োজন।
চিঠিতে তিনি আরও লেখেন, বিদেশে স্বেচ্ছায় সন্ত্রাসী সংগঠনে যোগ দেওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে অস্ট্রেলীয়দের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রতিটি বৈধ পদক্ষেপকে তাঁর দল সমর্থন করবে। বর্তমান আইন কোয়ালিশনই প্রণয়ন করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোথায় আইন আরও শক্তিশালী করা দরকার, তা কোয়ালিশন ভালোভাবেই জানে। তাই বিলের কৃতিত্ব কার, সেটি নয়; বরং বাগদাদের কারাগারের দরজা খোলার আগেই আইন পাস হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
পলিন হ্যানসন আরও বলেন, অস্ট্রেলীয়দের নিরাপত্তা রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে। তিনি অ্যাঙ্গাস টেলরকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, টেলর নিজেই অভিযোগ করেছিলেন বর্তমান সরকার ইসলামিক স্টেট–সংশ্লিষ্টদের জন্য দেশের দরজা খুলে দিয়েছে। হ্যানসনের ভাষায়, যদি সেই বক্তব্য সত্যিই আন্তরিক হয়ে থাকে, তাহলে এখনই আইন পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। এ বিষয়ে সংসদ পুনরায় অধিবেশন শুরুর আগেই আলোচনায় বসতে তাঁর কার্যালয় প্রস্তুত বলেও তিনি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে অ্যান্থনি আলবানিজ সরকারের সমালোচকরা অভিযোগ করছেন, সরকার হাইকোর্টের দোহাই দিয়ে আইএসআইএস–সংশ্লিষ্টদের দেশে ফেরা ঠেকানো সম্ভব নয় বলে দাবি করছে। অথচ টেম্পোরারি এক্সক্লুশন অর্ডার ব্যবস্থা নিয়ে হাইকোর্ট কখনোই কোনো চূড়ান্ত রায় দেয়নি।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক বলেছেন, অস্থায়ী বহিষ্কার আদেশের ক্ষেত্রে আইনগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং এর শর্ত আরও শিথিল করা সম্ভব নয়। তবে সমালোচকদের দাবি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এখন পর্যন্ত মাত্র একজন আইএসআইএস–সংশ্লিষ্ট নারীকে দেশে ফিরতে বাধা দিতে এই আদেশ ব্যবহার করেছিলেন, পরে সেই আদেশও প্রত্যাহার করা হয়। ফলে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারের অবস্থান নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au