শাহজালাল বিমানবন্দরে আগুন, আতঙ্কে বিদেশগামী যাত্রীরা
ওটিএন বাংলা ডেস্ক : রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি স্টোর বিল্ডিংয়ে আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়ায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর)…
মেলবোর্ন, ০৫ মে— বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতা ও জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (০৪ মে) সন্ধ্যায় গাজীপুর জেলার চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় এ ঘটনা।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার রবিউল হাসান গণমাধ্যমকে জানান, “গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকায় একটি অনুষ্ঠান শেষে তিনি ঢাকায় ফিরছিলেন। চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় তার গাড়ি বহর জ্যামে আটকে থাকাবস্থায় চার-পাঁচটি মোটরসাইকেলে এসে তার গাড়িতে হামলা করে। হামলায় তিনি হাতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং গাড়ির গ্লাস ও উইন্ডশিল্ড ভেঙে যায়। পরে তাকে নিরাপদে ঢাকায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।”
হাসনাত আব্দুল্লাহ এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
পুলিশের দাবি, আওয়ামী লীগ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা এই হামলায় জড়িত। এই ঘটনায় সোমবার (৫ মে) সকাল পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ বা মামলা না হলেও সন্দেহভাজন হিসেবে অন্তত ৭০ জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সোমবার (৫ মে) সকালে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জাহিদ হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের সিটিএসবি অ্যান্ড প্রটেকশন বিভাগের সিআইওর স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যাচাই-বাছাই ও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আটকদের মধ্যে প্রায় সবাই আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী বলে পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে দুজনকে আটক করে পুলিশ। আটকরা হলেন, গাজীপুর মহানগরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের যুবলীগ নেতা মো. নিজাম উদ্দিন ও কাশিমপুর থানা শেখ রাসেল শিশু কিশোর পরিষদের সভাপতি মাসুম আহমদ দিপু।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের কমিশনার নাজমুল করিম খান বলেন, যে সরকারকে তারা (ছাত্র-জনতা) বিদায় করেছেন, সেই সরকারের লোকজনই এই হামলার সঙ্গে জড়িত। তারা নানা ইস্যু তৈরি করার জন্য এই হামলা করেছে।
হাসনাত আবদুল্লাহর গাড়িতে হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী। রোববার রাত ১০টার দিকে মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের হল পাড়া থেকে শুরু করে ভিসি চত্বর হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের সামনে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। এ ছাড়া এ হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে মশালমিছিল করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখ্য সংগঠক হাসিব আল ইসলাম বলেন, ‘আজকে হাসনাত আবদুল্লাহর ওপর যে হামলা হয়েছে, এই হামলা শুধু হাসনাতের ওপর হামলা নয়, এই হামলা পুরো জুলাই অভ্যুত্থানের ওপর হামলা।’
হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে মশালমিছিল করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা। রাত সাড়ে আটটার দিকে নগরের টাইগার পাস মোড় থেকে নেতা-কর্মীরা মিছিল বের করেন।
এ সময় তাঁদের হাতে জ্বলন্ত মশাল ছিল। মিছিলটি নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কাজীর দেউড়ি মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে বক্তব্য দেন সংগঠনটির চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম আহ্বায়ক রিদোয়ান সিদ্দিকী ও অন্য নেতা-কর্মীরা।
এ হামলার জন্য আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগকে দায়ী করে সমাবেশে বক্তারা বলেন, দলটিকে নিষিদ্ধ না করায় বারবার তারা হামলা চালানোর সাহস পাচ্ছে। তাঁরা গণহত্যার দায়ে আওয়ামী লীগের বিচার চান। আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। সূত্র: প্রথম আলো, বিডি নিউজ, যুগান্তর।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au