বিশ্ব

গুপ্তহত্যার শঙ্কায় উত্তরসূরি ঠিক করলেন খামেনি

  • 4:48 am - June 22, 2025
  • পঠিত হয়েছে:১৭৭ বার
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ছবিঃ সংগৃহীত

ইসরায়েলের টানা হামলার মুখে নিরাপত্তার স্বার্থে নিজ বাসভবন ছেড়ে বাংকারে আশ্রয় নিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। মোবাইল বা প্রযুক্তির ব্যবহার বাদ দিয়ে কেবল বিশ্বস্ত দূতের মাধ্যমে যোগাযোগ করছেন তিনি। নিউইয়র্ক টাইমসকে ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য গুপ্তহত্যার শঙ্কায় খামেনি বিকল্প নেতৃত্বের তালিকা তৈরি করেছেন এবং উত্তরসূরি হিসেবে তিনজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম অনুমোদন দিয়েছেন।

৮৬ বছর বয়সী খামেনি আশঙ্কা করছেন, ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্র তাঁকে টার্গেট করতে পারে। তাই নেতৃত্ব নির্ধারণে বিশেষজ্ঞদের পরিষদকে আগেভাগে নির্দেশ দিয়েছেন—নতুন সর্বোচ্চ নেতা যেন তার তালিকা থেকেই নির্বাচন করা হয়।

ইসরায়েলের চলমান হামলাকে ইরান ১৯৮০-৮৮ সালের ইরান-ইরাক যুদ্ধের পর সবচেয়ে ভয়াবহ সামরিক আগ্রাসন হিসেবে দেখছে। হামলায় তেহরানে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা আগের যুদ্ধকালীন সময়ের চেয়েও বেশি। তবে এখন ইরান প্রতিদিন পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনা, হাইফার তেল শোধনাগারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হানছে।

রাজনৈতিক নেতৃত্বে এখনো ঐক্য বিরাজ করছে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া কার্যকর রয়েছে। ইরানে আইনসভা, নির্বাহী, বিচারব্যবস্থা ও সামরিক বাহিনীর চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ খামেনির হাতে। তাঁর ছেলে মোজতবা ধর্মীয় নেতা হলেও উত্তরসূরি তালিকায় নেই। সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিকে উত্তরসূরি ভাবা হলেও ২০২৪ সালের হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় তিনি নিহত হন।

বর্তমানে ইরানে যুদ্ধ চলছে দুটি ফ্রন্টে—একটি আকাশপথে এবং অন্যটি অভ্যন্তরে। সেনা ঘাঁটি, পারমাণবিক স্থাপনা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার পাশাপাশি ইসরায়েলি গুপ্তচররা ড্রোন দিয়ে দেশের ভেতরে হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মকর্তাদের মোবাইলসহ বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং অনেককেই বাংকারে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।

তেহরানে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জারি করা হয়েছে। চেকপোস্ট বসানো হয়েছে শহরের প্রতিটি সড়কে। ইন্টারনেট ও আন্তর্জাতিক ফোনকলও প্রায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরানে নতুন জাতীয়তাবাদ জেগে উঠেছে। রাজনীতিক, অধিকারকর্মী, ক্রীড়াবিদ, তারকারাও ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার। জাতীয় দলের খেলোয়াড় সাঈদ এজাতোল্লাহি লিখেছেন, “ইরানের মাটি আমাদের রেড লাইন।” যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষও সাহায্যে এগিয়ে এসেছে। অনেকেই শহর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে গেলেও আশ্রয়স্থলগুলোতে খাদ্য, সেবা ও মানবিক সহায়তা বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে।

শান্তিতে নোবেলজয়ী নার্গিস মোহাম্মদি বলেন, “যুদ্ধ দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যায় না।” পরিস্থিতি যতই ভয়াবহ হোক, ইরানি জনগণ এখন এক অভূতপূর্ব সংহতির মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

এই শাখার আরও খবর

উৎসবের মঞ্চে ঐতিহ্য ও মানবিকতার মেলবন্ধন, ‘মহাশক্তি সম্মান’-এ স্বীকৃতি ২৫ দুর্গাপুজোর

দুর্গাপুজোর ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক অবদান ও সামাজিক দায়বদ্ধতাকে স্বীকৃতি দিতে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার ২৫টি দুর্গাপুজো কমিটিকে ‘মহাশক্তি সম্মান’ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ‘উই আর দ্য কমন…

পারিবারিক বন্ধুর হামলায় পা হারালেন অস্ট্রেলিয়ার নারী এমপি, সর্বশেষ যা জানা যাচ্ছে

অস্ট্রেলিয়ায় স্বতন্ত্র নারী সংসদ সদস্য হেলেন হেইন্সকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় নতুন করে রহস্য তৈরি হয়েছে হামলাকারীর পরিচয় ঘিরে। ৬৫ বছর বয়সী এই এমপির ওপর…

ইরানে ফের হামলার ইঙ্গিত নেতানিয়াহুর, ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা

ইরানে আবারও হামলা চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তিনি ইরানের সরকারের পতন ঘটানোর বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ…

যুদ্ধ এড়াতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব দিল পাকিস্তান ও কাতার

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের ঝুঁকি এড়াতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ও কাতার। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুই দেশের কাছে…

বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জন: বিদায়ের বেদনা, ঐতিহ্য, ধর্মীয় তাৎপর্য ও সম্প্রীতির মহামিলন

শরতের নির্মল আকাশ, সাদা কাশফুলের দোলা, শিউলি ফুলের স্নিগ্ধ সুবাস, ঢাকের মধুর বাদ্য আর চারদিকে উৎসবের আমেজ—এসবের মধ্য দিয়েই বাঙালির হৃদয়ে আবির্ভূত হয় শারদীয় দুর্গোৎসব।…

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড: আমার মাইয়ার লাশ আইনা দাও, আমি ওরে দেহুম

‘আমি কেমনে বাঁচুম রে, আমার সুইটিরে আইনা দ্যাও রে। আমার মাইয়ার লাশ আইনা দাও, আমি ওরে দেহুম।’ সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া মেয়ে সুইটি আক্তারের…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au